সময়: বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘কেউ ভোট হাইজ্যাক করতে চাইলে যুবক হয়ে বিস্ফোরিত হবো’—জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ০৪:৫৭:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ নভেম্বর ২০২৫
  • / ১২২ Time View

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নানা ধরনের অনৈতিক প্রভাব ও ভোট কারচুপির আশঙ্কা দেখা যাচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন—কিছু মহল মাসল পাওয়ার ও টাকার প্রলোভন দিয়ে নির্বাচনের ফল “হাইজ্যাক” করার চেষ্টা করছে। এসব ষড়যন্ত্রের প্রত্যুত্তরে তিনি ঘোষণা দেন, “যদি কেউ ভোট হাইজ্যাক করতে চায়, আমরা যুবকদের শক্তিতে বিস্ফোরিত হবো ইনশাল্লাহ।”

মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) রাতে জামায়াতে ইসলামীর কাফরুল দক্ষিণ থানা শাখার উদ্যোগে আয়োজিত এক প্রীতি সমাবেশে তিনি এ বক্তব্য দেন।

যুবকদের উদ্দেশে কঠোর হুঁশিয়ারি

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “যুবকদের ভোট নিয়ে কেউ কাড়াকাড়ি করবে—এটা আমরা বরদাস্ত করব না। এই ভোট তোমাদের অধিকার, তোমরাই দেবে। তোমাদের পাশে থেকে আমরা লড়াই করব, সাহস দেব, শক্তি দেব। কোনো ডাকাত যেন তোমাদের বুকের দিকে হাত বাড়ানোর দুঃসাহস না দেখায়।”

তিনি আরও বলেন, যুবকদের এখন থেকেই সতর্ক ও দৃঢ় অবস্থান নিতে হবে—যাতে কোনো পক্ষ তাদের ভোটাধিকার ছিনিয়ে নিতে না পারে।

স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার আহ্বান

তরুণ সমাজকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, “তোমার যাকে ভালো লাগে তাকে ভোট দাও। আমাকে দেবে কি দেবে না সেটা তোমার ব্যাপার। কিন্তু তোমার অধিকার রক্ষায় আমরা শেষ পর্যন্ত লড়ে যাব ইনশাল্লাহ।”

শেখ হাসিনার মামলার রায় নিয়ে মন্তব্য

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘন ও অবিচারের শিকার পরিবারগুলোর কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “শেখ হাসিনার মামলার রায়ের মাধ্যমে অন্তত কিছু স্বজনহারা পরিবার সাময়িক সান্ত্বনা পেয়েছে। বিচারটি লাইভে সম্প্রচার হওয়ায় মানুষ স্পষ্টভাবে প্রক্রিয়াটি দেখেছে। আমরা মনে করি—এবার ন্যায়বিচারের মানদণ্ড অনেকটাই পূরণ হয়েছে। এখন সরকার ও বিচার বিভাগের উচিত এর যথাযথ পরবর্তী পদক্ষেপ নিশ্চিত করা।”

ন্যায়বিচার নাগরিক অধিকারের প্রতিশ্রুতি

জামায়াত আমির বলেন, “আমরা কারো ওপর অন্যায় চাই না। প্রত্যেক নাগরিকের ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার আছে। এমনকি যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে, তাদের প্রতিও অবিচার হোক সেটা আমরা চাই না।”

ক্ষমতায় গেলে সম্পদশালী উদ্যোক্তাদের প্রতি নীতি

ক্ষমতায় গেলে ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন,
“জামায়াত ক্ষমতায় গেলে কোনো সম্পদশালীর সম্পদ কেড়ে নেবে না, বরং তাদের সম্পদের পাহারাদারি করবে। কোনো চাঁদাবাজ ব্যবসায়ীদের কাছে গিয়ে হুমকি দিতে পারবে না—যে এলাকায় ব্যবসা করতে হলে তাদের কথা শুনতে হবে বা চাঁদা দিতে হবে। আমরা এসব সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের সমাজ থেকে নির্মূল করব।”

তিনি জানান, চাঁদাবাজি বন্ধ হলে দেশের অর্থনীতি দ্রুতগতিতে এগোবে এবং বাজারে দ্রব্যমূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।

নারীদের কর্মঘণ্টা কমানোর পক্ষে ব্যাখ্যা

আমেরিকায় দেওয়া নিজের একটি বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, নারীদের কর্মঘণ্টা কমানোর প্রস্তাবের ভুল ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
“একজন নারী শুধু কর্মজীবী নন—তিনি একজন মা, একজন পরিবারকেন্দ্রিক মানুষ। পরিবার ঠিক থাকলে রাষ্ট্র ঠিক থাকে। কর্মঘণ্টা কমালে নারীরা আরও মনোযোগ দিয়ে কাজ করতে পারবেন, এরপর পরিবারকে সময় দিতে পারবেন। এতে সমাজই উপকৃত হবে।”

সংক্ষেপে, ডা. শফিকুর রহমান নির্বাচনী অধিকার, ন্যায়বিচার, অর্থনৈতিক সংস্কার এবং নারী-পরিবার নীতির বিষয়ে তার দলের অবস্থান স্পষ্ট করেন এবং বলেন—বাংলাদেশকে মুক্ত, ন্যায়সঙ্গত ও চাঁদামুক্ত অর্থনীতির দিকে নিয়ে যেতে হলে শক্তিশালী রাজনৈতিক পরিবর্তন প্রয়োজন।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

‘কেউ ভোট হাইজ্যাক করতে চাইলে যুবক হয়ে বিস্ফোরিত হবো’—জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান

Update Time : ০৪:৫৭:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ নভেম্বর ২০২৫

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নানা ধরনের অনৈতিক প্রভাব ও ভোট কারচুপির আশঙ্কা দেখা যাচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন—কিছু মহল মাসল পাওয়ার ও টাকার প্রলোভন দিয়ে নির্বাচনের ফল “হাইজ্যাক” করার চেষ্টা করছে। এসব ষড়যন্ত্রের প্রত্যুত্তরে তিনি ঘোষণা দেন, “যদি কেউ ভোট হাইজ্যাক করতে চায়, আমরা যুবকদের শক্তিতে বিস্ফোরিত হবো ইনশাল্লাহ।”

মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) রাতে জামায়াতে ইসলামীর কাফরুল দক্ষিণ থানা শাখার উদ্যোগে আয়োজিত এক প্রীতি সমাবেশে তিনি এ বক্তব্য দেন।

যুবকদের উদ্দেশে কঠোর হুঁশিয়ারি

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “যুবকদের ভোট নিয়ে কেউ কাড়াকাড়ি করবে—এটা আমরা বরদাস্ত করব না। এই ভোট তোমাদের অধিকার, তোমরাই দেবে। তোমাদের পাশে থেকে আমরা লড়াই করব, সাহস দেব, শক্তি দেব। কোনো ডাকাত যেন তোমাদের বুকের দিকে হাত বাড়ানোর দুঃসাহস না দেখায়।”

তিনি আরও বলেন, যুবকদের এখন থেকেই সতর্ক ও দৃঢ় অবস্থান নিতে হবে—যাতে কোনো পক্ষ তাদের ভোটাধিকার ছিনিয়ে নিতে না পারে।

স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার আহ্বান

তরুণ সমাজকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, “তোমার যাকে ভালো লাগে তাকে ভোট দাও। আমাকে দেবে কি দেবে না সেটা তোমার ব্যাপার। কিন্তু তোমার অধিকার রক্ষায় আমরা শেষ পর্যন্ত লড়ে যাব ইনশাল্লাহ।”

শেখ হাসিনার মামলার রায় নিয়ে মন্তব্য

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘন ও অবিচারের শিকার পরিবারগুলোর কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “শেখ হাসিনার মামলার রায়ের মাধ্যমে অন্তত কিছু স্বজনহারা পরিবার সাময়িক সান্ত্বনা পেয়েছে। বিচারটি লাইভে সম্প্রচার হওয়ায় মানুষ স্পষ্টভাবে প্রক্রিয়াটি দেখেছে। আমরা মনে করি—এবার ন্যায়বিচারের মানদণ্ড অনেকটাই পূরণ হয়েছে। এখন সরকার ও বিচার বিভাগের উচিত এর যথাযথ পরবর্তী পদক্ষেপ নিশ্চিত করা।”

ন্যায়বিচার নাগরিক অধিকারের প্রতিশ্রুতি

জামায়াত আমির বলেন, “আমরা কারো ওপর অন্যায় চাই না। প্রত্যেক নাগরিকের ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার আছে। এমনকি যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে, তাদের প্রতিও অবিচার হোক সেটা আমরা চাই না।”

ক্ষমতায় গেলে সম্পদশালী উদ্যোক্তাদের প্রতি নীতি

ক্ষমতায় গেলে ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন,
“জামায়াত ক্ষমতায় গেলে কোনো সম্পদশালীর সম্পদ কেড়ে নেবে না, বরং তাদের সম্পদের পাহারাদারি করবে। কোনো চাঁদাবাজ ব্যবসায়ীদের কাছে গিয়ে হুমকি দিতে পারবে না—যে এলাকায় ব্যবসা করতে হলে তাদের কথা শুনতে হবে বা চাঁদা দিতে হবে। আমরা এসব সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের সমাজ থেকে নির্মূল করব।”

তিনি জানান, চাঁদাবাজি বন্ধ হলে দেশের অর্থনীতি দ্রুতগতিতে এগোবে এবং বাজারে দ্রব্যমূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।

নারীদের কর্মঘণ্টা কমানোর পক্ষে ব্যাখ্যা

আমেরিকায় দেওয়া নিজের একটি বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, নারীদের কর্মঘণ্টা কমানোর প্রস্তাবের ভুল ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
“একজন নারী শুধু কর্মজীবী নন—তিনি একজন মা, একজন পরিবারকেন্দ্রিক মানুষ। পরিবার ঠিক থাকলে রাষ্ট্র ঠিক থাকে। কর্মঘণ্টা কমালে নারীরা আরও মনোযোগ দিয়ে কাজ করতে পারবেন, এরপর পরিবারকে সময় দিতে পারবেন। এতে সমাজই উপকৃত হবে।”

সংক্ষেপে, ডা. শফিকুর রহমান নির্বাচনী অধিকার, ন্যায়বিচার, অর্থনৈতিক সংস্কার এবং নারী-পরিবার নীতির বিষয়ে তার দলের অবস্থান স্পষ্ট করেন এবং বলেন—বাংলাদেশকে মুক্ত, ন্যায়সঙ্গত ও চাঁদামুক্ত অর্থনীতির দিকে নিয়ে যেতে হলে শক্তিশালী রাজনৈতিক পরিবর্তন প্রয়োজন।