ড. ইউনূসকে ৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধ করতে হবে: হাইকোর্টের রায়
- Update Time : ০৫:৩৮:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ৫৫ Time View

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ কল্যাণের কাছ থেকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দাবি করা প্রায় ৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধ করতে হবে বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়ার নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন। আদালত এ বিষয়ে আগে জারি করা রুল খারিজ করে দেন। ফলে আয়কর বাবদ এনবিআরের দাবি করা অর্থ গ্রামীণ কল্যাণের কাছ থেকে আদায়ের পথ আরও সুগম হলো।
রায়ের বিষয়ে নিশ্চিত করে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট জামিউল হক ফয়সাল বলেন, আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গ্রামীণ কল্যাণকে এনবিআরের দাবিকৃত অর্থ পরিশোধ করতে হবে।
হাইকোর্টের রায়ে বলা হয়েছে, ৬৬৬ কোটি টাকা একসঙ্গে পরিশোধ না করে আগামী তিন বছরের মধ্যে পরিশোধ করা যাবে।
তবে আদালতের এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার কথা জানিয়েছেন ড. মুহাম্মদ ইউনূসের আইনজীবী ব্যারিস্টার আবদুল্লাহ আল মামুন। তিনি বলেন, ‘আমরা এর বিরুদ্ধে আপিল আবেদন করব।’
মামলার পেছনের ঘটনা
গ্রামীণ কল্যাণের আয়কর সংক্রান্ত দাবি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এনবিআরের সঙ্গে আইনি বিরোধ চলে আসছে। ২০১২-১৩, ২০১৩-১৪, ২০১৪-১৫, ২০১৫-১৬ এবং ২০১৬-১৭ করবর্ষের আয়কর নির্ধারণকে কেন্দ্র করে গ্রামীণ কল্যাণ ২০১৭ সালে পৃথক দুটি রিট আবেদন করে।
প্রাথমিক শুনানি শেষে হাইকোর্ট এ বিষয়ে রুল জারি করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে মামলাটি নিয়ে আদালতে একাধিক পর্যায়ে শুনানি ও আদেশ হয়।
এর আগে জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের পর ৪ অক্টোবর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মালিকানাধীন গ্রামীণ কল্যাণের কাছ থেকে এনবিআরের দাবি করা ৬৬৬ কোটি টাকা পরিশোধের বিষয়ে দেওয়া একটি রায় হাইকোর্ট স্বপ্রণোদিতভাবে প্রত্যাহার করে নেন।
বিচারপতি মোহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকার ও বিচারপতি সরদার মো. রাশেদ জাহাঙ্গীরের হাইকোর্ট বেঞ্চ ওই রায় প্রত্যাহার করেন। একই সঙ্গে মামলার নথি প্রধান বিচারপতির কাছে পাঠানো হয়। পরে মামলাটি নতুন একটি হাইকোর্ট বেঞ্চে শুনানির জন্য পাঠানো হয়।
নতুন বেঞ্চে বিষয়টি পুনর্মূল্যায়নের পর বৃহস্পতিবার আগের জারি করা রুল খারিজ করে দেওয়া হয়। এর ফলে সংশ্লিষ্ট করবর্ষগুলোর আয়কর বাবদ গ্রামীণ কল্যাণের কাছে এনবিআরের দাবি করা প্রায় ৬৬৬ কোটি টাকা আদায়ের আইনি সুযোগ তৈরি হয়েছে।
তবে ড. ইউনূসের পক্ষ থেকে আপিলের ঘোষণা দেওয়ায় বিষয়টি পরবর্তী সময়ে উচ্চতর আদালতে গড়াতে পারে। ফলে ৬৬৬ কোটি টাকা কর আদায়ের বিষয়টি এখনো চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি হয়নি।










