অর্থের অভাবে কেউ চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হবে না: প্রধানমন্ত্রী
- Update Time : ০৬:০৬:১৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬
- / ৯০ Time View

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, অর্থের অভাবে দেশের কোনো মানুষকে চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হতে দেওয়া হবে না। দেশের মানুষের জন্য উন্নত, সহজলভ্য ও আধুনিক চিকিৎসাব্যবস্থা নিশ্চিত করার পাশাপাশি এমন একটি স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে, যাতে জটিল রোগের চিকিৎসার জন্য মানুষকে আর বিদেশে যেতে না হয়।
শনিবার (১৫ আগস্ট) সকালে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালের নবনির্মিত ৫০০ শয্যার ভবন উদ্বোধন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের স্বাস্থ্যসেবার মান আরও উন্নত করার জন্য সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। চিকিৎসা মানুষের মৌলিক প্রয়োজনগুলোর একটি উল্লেখ করে তিনি বলেন, আর্থিক সামর্থ্যের অভাবে কোনো রোগী যেন প্রয়োজনীয় চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত না হন, সেটি নিশ্চিত করাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।
তিনি আরও বলেন, দেশে এমন একটি শক্তিশালী ও আধুনিক চিকিৎসাব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে, যেখানে দেশের মানুষ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিজ দেশেই পাবেন। বিশেষ করে জটিল ও ব্যয়বহুল চিকিৎসার জন্য বিদেশমুখী হওয়ার প্রবণতা কমাতে দেশের হাসপাতালগুলোতে আধুনিক প্রযুক্তি, দক্ষ চিকিৎসক, নার্স ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নিশ্চিত করা হবে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, আগামী অক্টোবর মাসে দেশে পাঁচটি বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল চালু করা হবে। এর মাধ্যমে শিশুদের বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা আরও বিস্তৃত হবে এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা রোগীদের চিকিৎসা পাওয়ার সুযোগ বাড়বে।
এর আগে শনিবার সকাল ১০টার দিকে প্রধানমন্ত্রী ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালের নবনির্মিত ১৫ তলা ভবনটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন। উদ্বোধন উপলক্ষে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে তিনি একটি গাছের চারা রোপণ করেন। পরে মোনাজাতে অংশ নেন এবং বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে নতুন ভবনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনসহ সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
নতুন ৫০০ শয্যার ভবন চালু হওয়ায় ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালের মোট শয্যাসংখ্যা বেড়ে ১ হাজারে উন্নীত হয়েছে। ফলে দেশের স্নায়ুরোগে আক্রান্ত রোগীদের জন্য চিকিৎসা, পরীক্ষা-নিরীক্ষা, অস্ত্রোপচার ও অন্যান্য বিশেষায়িত সেবার সুযোগ আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টদের দাবি, নতুন ভবনসহ এই প্রতিষ্ঠানটি এখন দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ এবং আধুনিক নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতাল হিসেবে গড়ে উঠেছে। রোগীর চাপ ক্রমাগত বাড়তে থাকায় হাসপাতালের শয্যাসংখ্যা সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তা দীর্ঘদিন ধরেই অনুভূত হচ্ছিল।
উল্লেখ্য, ২০১২ সালে ১০ তলা ভবনে ৩০০ শয্যা নিয়ে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালের যাত্রা শুরু হয়। পরবর্তীতে রোগীর সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় আরও ২০০ শয্যা সংযোজন করা হয়। এবার ১৫ তলা নতুন ভবনের মাধ্যমে আরও ৫০০ শয্যা যুক্ত হলো।
বিশেষজ্ঞদের মতে, স্নায়ুরোগের চিকিৎসায় অবকাঠামো সম্প্রসারণের পাশাপাশি দক্ষ জনবল, আধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তি, দ্রুত রোগ নির্ণয় এবং সাশ্রয়ী চিকিৎসা নিশ্চিত করা জরুরি। নতুন শয্যা যুক্ত হওয়ার ফলে রোগীদের অপেক্ষার সময় কমানো এবং অধিকসংখ্যক রোগীকে বিশেষায়িত চিকিৎসার আওতায় আনার সুযোগ তৈরি হবে।
সরকারের ঘোষিত লক্ষ্য বাস্তবায়িত হলে দেশের স্বাস্থ্য খাতে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে পারে। বিশেষ করে দরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষের জন্য সরকারি হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসা সহজলভ্য করা গেলে চিকিৎসার ব্যয় কমার পাশাপাশি বিদেশে চিকিৎসা নেওয়ার ওপর নির্ভরশীলতাও কমতে পারে।
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে তাই শুধু নতুন হাসপাতাল ভবন উদ্বোধনের বিষয় নয়, বরং সবার জন্য সাশ্রয়ী ও উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার একটি বৃহত্তর পরিকল্পনার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।














