ছাত্র আন্দোলনের মধ্যেই সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট ভুচিচের পদত্যাগ
- Update Time : ১২:১৫:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ৪৭ Time View

দীর্ঘদিন ধরে চলা শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বাধীন সরকারবিরোধী আন্দোলন ও রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেই সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্ডার ভুচিচ পদত্যাগ করেছেন। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) পদত্যাগের মাধ্যমে তার দ্বিতীয় ও শেষ মেয়াদের প্রেসিডেন্ট দায়িত্বের অবসান হয়েছে। এর ফলে দেশটিতে আগাম প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পথ তৈরি হয়েছে।
তবে প্রেসিডেন্ট পদ ছাড়লেও রাজনীতি থেকে সরে যাচ্ছেন না ভুচিচ। আগামী ২৫ অক্টোবর অনুষ্ঠেয় আগাম পার্লামেন্ট নির্বাচনে তার দল সার্বিয়ান প্রগ্রেসিভ পার্টির (এসএনএস) হয়ে প্রধানমন্ত্রী পদে প্রার্থী হওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তার। দলটি সরকার গঠন করতে পারলে তিনি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সুযোগ পাবেন।
ভুচিচের পদত্যাগের পেছনে প্রায় দুই বছর ধরে চলা শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বাধীন দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলন গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপট হিসেবে রয়েছে। ২০২৪ সালের নভেম্বরে নোভি সাদ শহরের একটি রেলস্টেশনের ছাউনি ধসে ১৬ জন নিহত হওয়ার পর আন্দোলন শুরু হয়। পরে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শিক্ষক, শ্রমিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষও এতে যুক্ত হন। বিক্ষোভকারীরা সরকারি ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বচ্ছতার ঘাটতির অভিযোগ তুলে আন্দোলন চালিয়ে আসছেন।
রেলস্টেশনের দুর্ঘটনাটি দেশটির রাজনীতিতে বড় ধরনের প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ ছিল, নির্মাণ ও সংস্কারকাজে অনিয়ম এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক প্রভাবের বিষয়গুলো দুর্ঘটনার মধ্য দিয়ে সামনে এসেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সরকারের অবস্থান ভিন্ন এবং কর্তৃপক্ষ পুলিশি নিপীড়নসহ বিভিন্ন অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
পদত্যাগের আগে ভুচিচ জানিয়েছিলেন, তিনি দায়িত্ব ছাড়ার পরিকল্পনা করছেন। পরে তিনি আগাম পার্লামেন্ট নির্বাচনও ঘোষণা করেন। ৯ সেপ্টেম্বর পার্লামেন্ট ভেঙে দিয়ে ২৫ অক্টোবর ভোটের তারিখ ঘোষণা করা হয়।
সার্বিয়ার সংবিধান অনুযায়ী, ভুচিচের পদত্যাগের পর পার্লামেন্টের স্পিকার আনা ব্রনাবিচ ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করবেন। নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রক্রিয়া নির্দিষ্ট সাংবিধানিক সময়সীমার মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে।
ভুচিচ রোববার রাজধানী বেলগ্রেডে সমর্থকদের উদ্দেশে বক্তব্য দেওয়ার পর আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেন। তিনি তার দীর্ঘ রাজনৈতিক সময়ে সার্বিয়ায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার দাবি করেছেন। ২০১৪ সাল থেকে প্রেসিডেন্ট অথবা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেশটির রাজনীতিতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছেন।
এদিকে আসন্ন নির্বাচনে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বাধীন ‘স্টুডেন্টস উইন’ আন্দোলনও অংশ নিচ্ছে। ভুচিচের দল ও বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিগুলোর মধ্যে এই নির্বাচনকে ঘিরে প্রতিদ্বন্দ্বিতা তৈরি হয়েছে। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মূল দাবিগুলোর মধ্যে নতুন নির্বাচনও ছিল।
ভুচিচের রাজনৈতিক অবস্থানও দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত। তিনি সার্বিয়ার ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগদানের পক্ষে অবস্থান নিলেও রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখেছেন এবং চীনা বিনিয়োগের জন্যও দেশটির অর্থনীতি উন্মুক্ত রেখেছেন।
এখন সার্বিয়ার সামনে রয়েছে দুটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন—আগামী ২৫ অক্টোবরের আগাম পার্লামেন্ট নির্বাচন এবং ভুচিচের পদত্যাগের পর অনুষ্ঠিতব্য প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। ফলে দেশটির রাজনৈতিক পরিস্থিতি আগামী কয়েক মাসে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যেতে পারে।






















