দক্ষিণ এশিয়ায় ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশে
- Update Time : ০৪:৪৯:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
- / ৫৭ Time View

দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশে ১২ কেজি তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম সবচেয়ে বেশি। বর্তমানে দেশে ১২ কেজির একটি এলপিজি সিলিন্ডার কিনতে গ্রাহককে গুনতে হচ্ছে ২ হাজার ৬০ টাকা। অথচ ভারত, নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তানে সমপরিমাণ এলপিজি তুলনামূলক অনেক কম দামে পাওয়া যাচ্ছে। ফলে রান্নার জ্বালানির বাড়তি ব্যয় নিয়ে চাপে পড়ছেন বাংলাদেশের সাধারণ ভোক্তারা।
সোমবার (২ নভেম্বর) ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ২২৩ টাকা বাড়িয়ে ২ হাজার ৬০ টাকা নির্ধারণ করা হয়। নতুন এই মূল্য দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশের এলপিজি বাজারের ব্যয়বহুল চিত্র সামনে এনেছে।
প্রাপ্ত হিসাব অনুযায়ী, পাকিস্তানে ১২ কেজি এলপিজির দাম বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১ হাজার ৫৮৩ টাকা, শ্রীলঙ্কায় ১ হাজার ৫৬৭ টাকা এবং নেপালে ১ হাজার ৪২৬ টাকা। অন্যদিকে ভারতের কলকাতায় একই পরিমাণ এলপিজির দাম প্রায় ১ হাজার ৭২ টাকা।
তবে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে এলপিজি সিলিন্ডারের প্রচলিত ধারণক্ষমতা এক নয়। ভারতে ও নেপালে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় ১৪ দশমিক ২ কেজির সিলিন্ডার। পাকিস্তানে ১১ দশমিক ৮ কেজি, শ্রীলঙ্কায় সাড়ে ১২ কেজি এবং বাংলাদেশে ১২ কেজির সিলিন্ডার বেশি প্রচলিত। তাই সঠিক তুলনার জন্য প্রতিটি দেশের দাম সমপরিমাণ ১২ কেজি গ্যাসের ভিত্তিতে হিসাব করা হয়েছে।
ভারতের সরকারি প্রতিষ্ঠান ইন্ডিয়ান অয়েলের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির রাজধানী দিল্লিতে ১৪ দশমিক ২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ৯৪২ রুপি। কলকাতায় এর দাম ৯৬৮ রুপি। বিনিময় হার অনুযায়ী, কলকাতায় ১২ কেজি এলপিজির দাম বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১ হাজার ৭২ টাকা।
ভারতে স্বল্প আয়ের গ্রাহকদের জন্য এলপিজি সিলিন্ডারপ্রতি ৩০০ রুপি ভর্তুকির ব্যবস্থা রয়েছে। তবে একজন গ্রাহক বছরে সর্বোচ্চ চারবার এই সুবিধা নিতে পারেন। ভর্তুকি পেতে বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে নিবন্ধন করতে হয়।
নেপালেও ১৪ দশমিক ২ কেজির সিলিন্ডার সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়। দেশটির সরকারি প্রতিষ্ঠান নেপাল অয়েল করপোরেশনের তথ্য অনুযায়ী, এ ধরনের একটি সিলিন্ডারের দাম ২ হাজার ৬০ নেপালি রুপি। সেই হিসাবে ১২ কেজি এলপিজির দাম বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১ হাজার ৪২৬ টাকা।
শ্রীলঙ্কার সরকারি প্রতিষ্ঠান লিট্রো গ্যাসের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে সাড়ে ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ৪ হাজার ৩৬৫ রুপি। বিনিময় হার অনুযায়ী, ১২ কেজি গ্যাসের দাম বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১ হাজার ৫৬৭ টাকা।
অন্যদিকে পাকিস্তানের তেল ও গ্যাস নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে ১১ দশমিক ৮ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ৩ হাজার ৪৭০ পাকিস্তানি রুপি। ১২ কেজি গ্যাসের হিসাবে বাংলাদেশি মুদ্রায় এর দাম দাঁড়ায় প্রায় ১ হাজার ৫৮৩ টাকা।
তবে এসব দেশে সরকারি বা নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্ধারিত দামেই সব সময় এলপিজি পাওয়া যায় না। চাহিদা বৃদ্ধি, সরবরাহ সংকট ও স্থানীয় বাজারের পরিস্থিতির কারণে কোথাও কোথাও নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি মূল্যে সিলিন্ডার বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। বাংলাদেশেও একই ধরনের পরিস্থিতি দেখা যায়।
বাংলাদেশে এলপিজির দাম বেশি হওয়ার পেছনে আমদানি ও পরিবহন ব্যয়কে অন্যতম কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) নভেম্বর মাসের মূল্য নির্ধারণে প্রতি টন এলপিজির পরিবহন ব্যয় ও আমদানিকারকের প্রিমিয়াম বাবদ ২৫০ ডলার ধরা হয়েছে। তবে প্রতিবেশী দেশগুলোর ক্ষেত্রে একই ধরনের ব্যয়ের নির্ভরযোগ্য তুলনামূলক তথ্য পাওয়া যায়নি।
সব মিলিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে এলপিজির উচ্চমূল্য সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়িয়ে দিচ্ছে। রান্নার মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজে ব্যবহৃত জ্বালানির দাম এভাবে বাড়তে থাকলে সবচেয়ে বেশি চাপে পড়বেন সীমিত ও মধ্যম আয়ের পরিবারগুলো। তাই আমদানি, পরিবহন, বাজারজাতকরণ ও মূল্য নির্ধারণের প্রতিটি পর্যায়ে ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং ভোক্তাদের জন্য সাশ্রয়ী মূল্যে এলপিজি সরবরাহের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।










