নাহিদ ইসলাম: ড. ইউনূসকে হেনস্তার ঘটনায় আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসনির্ভর রাজনীতির চরিত্র উন্মোচিত
- Update Time : ০৫:০০:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬
- / ৭৫ Time View

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে হেনস্তার চেষ্টা আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসনির্ভর রাজনীতির নির্মম, সহিংস ও অমানবিক চরিত্রকে আবারও উন্মোচিত করেছে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দেওয়া এক বিবৃতিতে এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, জনগণের কাছে প্রত্যাখ্যাত হওয়ার দুই বছর পরও আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী বাহিনীর চরিত্রে কোনো পরিবর্তন আসেনি। অতীতের কর্মকাণ্ডের জন্য দলটির মধ্যে ন্যূনতম অনুশোচনার লক্ষণও দেখা যাচ্ছে না। দেশে-বিদেশে সক্রিয় এ ধরনের সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ককে সম্পূর্ণভাবে প্রতিহত করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, জুলাই গণহত্যাসহ ফ্যাসিবাদী শাসনামলে সংঘটিত গুম ও হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিচার সম্পন্ন করে দ্রুত রায় কার্যকর করতে হবে। পাশাপাশি গণহত্যা ও সন্ত্রাসের অভিযোগে দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচারপ্রক্রিয়া অবিলম্বে শুরু করার দাবি জানান তিনি।
নাহিদ ইসলাম বলেন, জাতির সংকটময় মুহূর্তে দেশের দায়িত্ব নিয়ে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া অর্থনীতি পুনর্গঠনে নেতৃত্ব দিয়েছেন অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসসহ অন্তর্বর্তী সরকারের সদস্যরা। তাঁদের সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
নিউইয়র্কের বিমানবন্দরে কী ঘটেছিল?
সম্প্রতি নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুইলচেয়ারে করে বের হওয়ার সময় অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে ঘিরে বিক্ষোভের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন ব্যক্তি তাঁর দিকে এগিয়ে গিয়ে উচ্চস্বরে স্লোগান দিচ্ছেন। এ সময় তাঁকে উদ্দেশ করে ‘হোয়াই ইউ কাম হেয়ার’ ও ‘গো ব্যাক’সহ বিভিন্ন মন্তব্য করতে শোনা যায়।
ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কয়েকজন প্রবাসী সমর্থকের বিরুদ্ধে অধ্যাপক ইউনূসকে হেনস্তার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। একজন সাবেক সরকারপ্রধানের নিরাপত্তা, রাজনৈতিক মতপ্রকাশের সীমা এবং বিদেশের মাটিতে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে হয়রানির অভিযোগ—সবকিছুই সামনে এসেছে।
রাজনৈতিক মতপার্থক্য গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার স্বাভাবিক অংশ। তবে কোনো ব্যক্তিকে হেনস্তা, হুমকি বা অপমান করার অভিযোগ উঠলে তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা এবং সংশ্লিষ্টদের দায় আইন অনুযায়ী নির্ধারণ করা জরুরি।






