Advertisement
সময়: সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মাথাপিছু ঋণ ১ লাখ ২৯ হাজার টাকা ছাড়িয়েছে, বাংলাদেশ-ভারত-পাকিস্তান-শ্রীলঙ্কার ঋণচিত্রে বড় পার্থক্য

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ১২:১২:৪০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ৬৪ Time View

 

বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিকের ওপর সরকারি ঋণের বোঝা এখন গড়ে লাখ ২৯ হাজার ২৩৯ টাকা। ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত হিসাব অনুযায়ী এ তথ্য জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে কুষ্টিয়া-১ আসনের সংসদ সদস্য রেজা আহাম্মেদের লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ঋণের বোঝা কমাতে সরকার রাজস্ব আহরণ বাড়ানো, সরকারি অর্থের দক্ষ ও সুশৃঙ্খল ব্যবহার এবং ঋণ ব্যবস্থাপনাকে আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। সরকারের নিজস্ব আয় বাড়িয়ে ঋণের ওপর নির্ভরতা কমানো এবং অপ্রয়োজনীয় ব্যয় নিয়ন্ত্রণের দিকেও নজর দেওয়া হচ্ছে।

ছয় রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে খেলাপি ঋণ লাখ ৪৭ হাজার কোটি টাকা

সংসদে দেওয়া আরেক উত্তরে অর্থমন্ত্রী জানান, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ছয়টি ব্যাংকে খেলাপি ঋণের পরিমাণ লাখ ৪৭ হাজার ৭৭৬ কোটি ৩৬ লাখ টাকা

এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি খেলাপি ঋণ রয়েছে জনতা ব্যাংক পিএলসিতে—প্রায় ৭৫ হাজার ৩৯৬ কোটি ৬৭ লাখ টাকা।

এ ছাড়া অগ্রণী ব্যাংকে প্রায় ২৯ হাজার ২৯ কোটি ৬৭ লাখ টাকা, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকে ৮ হাজার ৮৮ কোটি ৭৯ লাখ টাকা, বেসিক ব্যাংকে ৮ হাজার ১৩১ কোটি টাকা, রূপালী ব্যাংকে প্রায় ১৯ হাজার ২৮১ কোটি টাকা এবং সোনালী ব্যাংকে প্রায় ১৫ হাজার ৪৮ কোটি টাকা খেলাপি ঋণ রয়েছে।

রাষ্ট্রীয় ব্যাংকগুলোর বিপুল খেলাপি ঋণ এবং দেশের ক্রমবর্ধমান সরকারি ঋণ—দুই বিষয়ই অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা। কারণ সরকারি ঋণের সুদ ও মূলধন পরিশোধে রাষ্ট্রের বাজেটের একটি বড় অংশ ব্যয় হলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো ও সামাজিক নিরাপত্তার মতো খাতে ব্যয়ের সুযোগ সংকুচিত হতে পারে।

ভারত, পাকিস্তান শ্রীলঙ্কার সঙ্গে তুলনা

বাংলাদেশের ঋণের চিত্রকে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায়, শুধু মাথাপিছু

টাকার অঙ্ক দিয়ে পরিস্থিতি বিচার করলে পুরো চিত্র পাওয়া যায় না। একটি দেশের অর্থনীতির আকারের তুলনায় ঋণ কতটা বড়—তা বোঝার জন্য ঋণ-জিডিপি অনুপাত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশ

৩১ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত বাংলাদেশের মাথাপিছু সরকারি ঋণ লাখ ২৯ হাজার ২৩৯.১৯ টাকা। অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, ঋণের চাপ কমাতে রাজস্ব বাড়ানো এবং সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

বাংলাদেশের জন্য বড় উদ্বেগের জায়গা হলো—সরকারি ঋণের পাশাপাশি ব্যাংকিং খাতে বিপুল খেলাপি ঋণ। রাষ্ট্রীয় ছয় ব্যাংকেই ১ লাখ ৪৭ হাজার কোটি টাকার বেশি খেলাপি ঋণ অর্থনীতিতে ঋণ ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার বিষয়টি সামনে নিয়ে আসে।

 ভারত

ভারতের অর্থনীতি বাংলাদেশের তুলনায় অনেক বড় এবং দেশটির সরকারি ঋণের মোট পরিমাণও অনেক বেশি। ভারতের ২০২৬-২৭ বাজেট অনুযায়ী কেন্দ্রীয় সরকারের ঋণ-জিডিপি অনুপাত ৫৫.শতাংশ ধরা হয়েছে, যা ২০২৫-২৬ সালের ৫৬.১ শতাংশ থেকে কিছুটা কম।

ভারতের ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শেষে কেন্দ্রীয় সরকারের অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ঋণ এবং অন্যান্য দায়ের আনুমানিক পরিমাণ ছিল ১৯৬.৭৯ লাখ কোটি ভারতীয় রুপি

অর্থাৎ মোট ঋণের অঙ্ক বাংলাদেশের চেয়ে বহু গুণ বেশি হলেও ভারতের অর্থনীতির আকারও অনেক বড়। ফলে শুধু মোট ঋণ দিয়ে দুই দেশের আর্থিক সক্ষমতার তুলনা করা যুক্তিযুক্ত নয়।

পাকিস্তান

পাকিস্তানের ঋণ পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে আরও চাপপূর্ণ। পাকিস্তানের সরকারি তথ্য অনুযায়ী ২০২৫ সালের জুন শেষে দেশটির মোট সরকারি ঋণ ছিল প্রায় ৮০.৫১৮ ট্রিলিয়ন পাকিস্তানি রুপি, যা জিডিপির প্রায় ৭০.শতাংশ)

IMF-এর হিসাবেও পাকিস্তানের সাধারণ সরকারি ঋণ, IMF-এর দায়সহ, ২০২৫ অর্থবছরে জিডিপির প্রায় ৭২.শতাংশ ছিল।

এর অর্থ, পাকিস্তানের অর্থনীতির আকারের তুলনায় সরকারি ঋণের চাপ বাংলাদেশের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।

শ্রীলঙ্কা

শ্রীলঙ্কা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভয়াবহ ঋণ ও অর্থনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে গেছে। IMF-এর ২০২৬ সালের পর্যালোচনা অনুযায়ী, ২০২৫ সালে শ্রীলঙ্কার সরকারি ঋণ জিডিপির প্রায় ১০১.শতাংশ ছিল। ২০২৬ সালে এটি প্রায় ১০০.১ শতাংশে নামার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। 

শ্রীলঙ্কার ২০২৫ সালের শেষে মোট সরকারি ঋণের পরিমাণ ছিল প্রায় ২৯.৯৯ ট্রিলিয়ন শ্রীলঙ্কান রুপি

এ কারণে শ্রীলঙ্কার উদাহরণ বাংলাদেশের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। শুধু ঋণ নেওয়া নয়, সেই ঋণ কতটা উৎপাদনশীল খাতে ব্যবহার হচ্ছে এবং ঋণের সুদ ও কিস্তি পরিশোধের সক্ষমতা কতটা রয়েছে—সেটিই শেষ পর্যন্ত অর্থনীতির স্থিতিশীলতা নির্ধারণ করে।

 

বাংলাদেশের জন্য শিক্ষা কোথায়?

বাংলাদেশের মাথাপিছু ১ লাখ ২৯ হাজার টাকার বেশি সরকারি ঋণ শুনতে বড় অঙ্ক মনে হলেও আসল প্রশ্ন হলো—এই ঋণ কোথায় ব্যয় হচ্ছে এবং তার বিপরীতে অর্থনীতিতে কতটা আয় উৎপাদন তৈরি হচ্ছে?

যদি ঋণের অর্থ অবকাঠামো, বিদ্যুৎ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, শিল্প, কর্মসংস্থান ও উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগ করা হয়, তাহলে ভবিষ্যতে সেই বিনিয়োগ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও রাজস্ব বাড়াতে সহায়তা করতে পারে। কিন্তু ঋণের অর্থ যদি অনুৎপাদনশীল ব্যয়, অপচয়, দুর্নীতি বা অদক্ষ প্রকল্পে চলে যায়, তাহলে শেষ পর্যন্ত সুদসহ সেই ঋণের বোঝা জনগণের ওপরই পড়ে।

বাংলাদেশের জন্য আরও বড় সতর্কতার বিষয় হলো ব্যাংকিং খাতের খেলাপি ঋণ। একদিকে জনগণের মাথাপিছু সরকারি ঋণ বাড়ছে, অন্যদিকে রাষ্ট্রীয় ব্যাংকগুলোতে বিপুল পরিমাণ ঋণ খেলাপি হয়ে পড়ছে। ফলে সরকারি অর্থব্যবস্থা ও ব্যাংকিং খাত—দুই ক্ষেত্রেই কঠোর জবাবদিহি, স্বচ্ছতা এবং ঋণ ব্যবস্থাপনা জরুরি।

ভারতের তুলনায় বাংলাদেশের অর্থনীতি ছোট, পাকিস্তানের তুলনায় বাংলাদেশের সরকারি ঋণের চাপ তুলনামূলকভাবে কম হলেও শ্রীলঙ্কার অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে—ঋণ ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘদিনের দুর্বলতা একসময় বড় অর্থনৈতিক সংকটে রূপ নিতে পারে।

তাই এখনই প্রশ্ন তোলা প্রয়োজন—ঋণ কত নেওয়া হচ্ছে শুধু সেটিই নয়, সেই ঋণের প্রতিটি টাকা কোথায় যাচ্ছে, কতটা উৎপাদনশীল এবং জনগণের জন্য তার বাস্তব সুফল কতটুকু।

ঋণ উন্নয়নের হাতিয়ার হতে পারে; কিন্তু অদক্ষ ঋণ ব্যবস্থাপনা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ওপর আর্থিক বোঝায় পরিণত হতে পারে।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

মাথাপিছু ঋণ ১ লাখ ২৯ হাজার টাকা ছাড়িয়েছে, বাংলাদেশ-ভারত-পাকিস্তান-শ্রীলঙ্কার ঋণচিত্রে বড় পার্থক্য

Update Time : ১২:১২:৪০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিকের ওপর সরকারি ঋণের বোঝা এখন গড়ে লাখ ২৯ হাজার ২৩৯ টাকা। ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত হিসাব অনুযায়ী এ তথ্য জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে কুষ্টিয়া-১ আসনের সংসদ সদস্য রেজা আহাম্মেদের লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ঋণের বোঝা কমাতে সরকার রাজস্ব আহরণ বাড়ানো, সরকারি অর্থের দক্ষ ও সুশৃঙ্খল ব্যবহার এবং ঋণ ব্যবস্থাপনাকে আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। সরকারের নিজস্ব আয় বাড়িয়ে ঋণের ওপর নির্ভরতা কমানো এবং অপ্রয়োজনীয় ব্যয় নিয়ন্ত্রণের দিকেও নজর দেওয়া হচ্ছে।

ছয় রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে খেলাপি ঋণ লাখ ৪৭ হাজার কোটি টাকা

সংসদে দেওয়া আরেক উত্তরে অর্থমন্ত্রী জানান, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ছয়টি ব্যাংকে খেলাপি ঋণের পরিমাণ লাখ ৪৭ হাজার ৭৭৬ কোটি ৩৬ লাখ টাকা

এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি খেলাপি ঋণ রয়েছে জনতা ব্যাংক পিএলসিতে—প্রায় ৭৫ হাজার ৩৯৬ কোটি ৬৭ লাখ টাকা।

এ ছাড়া অগ্রণী ব্যাংকে প্রায় ২৯ হাজার ২৯ কোটি ৬৭ লাখ টাকা, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকে ৮ হাজার ৮৮ কোটি ৭৯ লাখ টাকা, বেসিক ব্যাংকে ৮ হাজার ১৩১ কোটি টাকা, রূপালী ব্যাংকে প্রায় ১৯ হাজার ২৮১ কোটি টাকা এবং সোনালী ব্যাংকে প্রায় ১৫ হাজার ৪৮ কোটি টাকা খেলাপি ঋণ রয়েছে।

রাষ্ট্রীয় ব্যাংকগুলোর বিপুল খেলাপি ঋণ এবং দেশের ক্রমবর্ধমান সরকারি ঋণ—দুই বিষয়ই অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা। কারণ সরকারি ঋণের সুদ ও মূলধন পরিশোধে রাষ্ট্রের বাজেটের একটি বড় অংশ ব্যয় হলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো ও সামাজিক নিরাপত্তার মতো খাতে ব্যয়ের সুযোগ সংকুচিত হতে পারে।

ভারত, পাকিস্তান শ্রীলঙ্কার সঙ্গে তুলনা

বাংলাদেশের ঋণের চিত্রকে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায়, শুধু

মাথাপিছু টাকার অঙ্ক দিয়ে পরিস্থিতি বিচার করলে পুরো চিত্র পাওয়া যায় না। একটি দেশের অর্থনীতির আকারের তুলনায় ঋণ কতটা বড়—তা বোঝার জন্য ঋণ-জিডিপি অনুপাত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশ

৩১ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত বাংলাদেশের মাথাপিছু সরকারি ঋণ লাখ ২৯ হাজার ২৩৯.১৯ টাকা। অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, ঋণের চাপ কমাতে রাজস্ব বাড়ানো এবং সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

বাংলাদেশের জন্য বড় উদ্বেগের জায়গা হলো—সরকারি ঋণের পাশাপাশি ব্যাংকিং খাতে বিপুল খেলাপি ঋণ। রাষ্ট্রীয় ছয় ব্যাংকেই ১ লাখ ৪৭ হাজার কোটি টাকার বেশি খেলাপি ঋণ অর্থনীতিতে ঋণ ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার বিষয়টি সামনে নিয়ে আসে।

 ভারত

ভারতের অর্থনীতি বাংলাদেশের তুলনায় অনেক বড় এবং দেশটির সরকারি ঋণের মোট পরিমাণও অনেক বেশি। ভারতের ২০২৬-২৭ বাজেট অনুযায়ী কেন্দ্রীয় সরকারের ঋণ-জিডিপি অনুপাত ৫৫.শতাংশ ধরা হয়েছে, যা ২০২৫-২৬ সালের ৫৬.১ শতাংশ থেকে কিছুটা কম।

ভারতের ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শেষে কেন্দ্রীয় সরকারের অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ঋণ এবং অন্যান্য দায়ের আনুমানিক পরিমাণ ছিল ১৯৬.৭৯ লাখ কোটি ভারতীয় রুপি

অর্থাৎ মোট ঋণের অঙ্ক বাংলাদেশের চেয়ে বহু গুণ বেশি হলেও ভারতের অর্থনীতির আকারও অনেক বড়। ফলে শুধু মোট ঋণ দিয়ে দুই দেশের আর্থিক সক্ষমতার তুলনা করা যুক্তিযুক্ত নয়।

পাকিস্তান

পাকিস্তানের ঋণ পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে আরও চাপপূর্ণ। পাকিস্তানের সরকারি তথ্য অনুযায়ী ২০২৫ সালের জুন শেষে দেশটির মোট সরকারি ঋণ ছিল প্রায় ৮০.৫১৮ ট্রিলিয়ন পাকিস্তানি রুপি, যা জিডিপির প্রায় ৭০.শতাংশ)

IMF-এর হিসাবেও পাকিস্তানের সাধারণ সরকারি ঋণ, IMF-এর দায়সহ, ২০২৫ অর্থবছরে জিডিপির প্রায় ৭২.শতাংশ ছিল।

এর অর্থ, পাকিস্তানের অর্থনীতির আকারের তুলনায় সরকারি ঋণের চাপ বাংলাদেশের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।

শ্রীলঙ্কা

শ্রীলঙ্কা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভয়াবহ ঋণ ও অর্থনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে গেছে। IMF-এর ২০২৬ সালের পর্যালোচনা অনুযায়ী, ২০২৫ সালে শ্রীলঙ্কার সরকারি ঋণ জিডিপির প্রায় ১০১.শতাংশ ছিল। ২০২৬ সালে এটি প্রায় ১০০.১ শতাংশে নামার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। 

শ্রীলঙ্কার ২০২৫ সালের শেষে মোট সরকারি ঋণের পরিমাণ ছিল প্রায় ২৯.৯৯ ট্রিলিয়ন শ্রীলঙ্কান রুপি

এ কারণে শ্রীলঙ্কার উদাহরণ বাংলাদেশের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। শুধু ঋণ নেওয়া নয়, সেই ঋণ কতটা উৎপাদনশীল খাতে ব্যবহার হচ্ছে এবং ঋণের সুদ ও কিস্তি পরিশোধের সক্ষমতা কতটা রয়েছে—সেটিই শেষ পর্যন্ত অর্থনীতির স্থিতিশীলতা নির্ধারণ করে।

 

বাংলাদেশের জন্য শিক্ষা কোথায়?

বাংলাদেশের মাথাপিছু ১ লাখ ২৯ হাজার টাকার বেশি সরকারি ঋণ শুনতে বড় অঙ্ক মনে হলেও আসল প্রশ্ন হলো—এই ঋণ কোথায় ব্যয় হচ্ছে এবং তার বিপরীতে অর্থনীতিতে কতটা আয় উৎপাদন তৈরি হচ্ছে?

যদি ঋণের অর্থ অবকাঠামো, বিদ্যুৎ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, শিল্প, কর্মসংস্থান ও উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগ করা হয়, তাহলে ভবিষ্যতে সেই বিনিয়োগ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও রাজস্ব বাড়াতে সহায়তা করতে পারে। কিন্তু ঋণের অর্থ যদি অনুৎপাদনশীল ব্যয়, অপচয়, দুর্নীতি বা অদক্ষ প্রকল্পে চলে যায়, তাহলে শেষ পর্যন্ত সুদসহ সেই ঋণের বোঝা জনগণের ওপরই পড়ে।

বাংলাদেশের জন্য আরও বড় সতর্কতার বিষয় হলো ব্যাংকিং খাতের খেলাপি ঋণ। একদিকে জনগণের মাথাপিছু সরকারি ঋণ বাড়ছে, অন্যদিকে রাষ্ট্রীয় ব্যাংকগুলোতে বিপুল পরিমাণ ঋণ খেলাপি হয়ে পড়ছে। ফলে সরকারি অর্থব্যবস্থা ও ব্যাংকিং খাত—দুই ক্ষেত্রেই কঠোর জবাবদিহি, স্বচ্ছতা এবং ঋণ ব্যবস্থাপনা জরুরি।

ভারতের তুলনায় বাংলাদেশের অর্থনীতি ছোট, পাকিস্তানের তুলনায় বাংলাদেশের সরকারি ঋণের চাপ তুলনামূলকভাবে কম হলেও শ্রীলঙ্কার অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে—ঋণ ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘদিনের দুর্বলতা একসময় বড় অর্থনৈতিক সংকটে রূপ নিতে পারে।

তাই এখনই প্রশ্ন তোলা প্রয়োজন—ঋণ কত নেওয়া হচ্ছে শুধু সেটিই নয়, সেই ঋণের প্রতিটি টাকা কোথায় যাচ্ছে, কতটা উৎপাদনশীল এবং জনগণের জন্য তার বাস্তব সুফল কতটুকু।

ঋণ উন্নয়নের হাতিয়ার হতে পারে; কিন্তু অদক্ষ ঋণ ব্যবস্থাপনা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ওপর আর্থিক বোঝায় পরিণত হতে পারে।