Advertisement
সময়: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

টিকটকে পরিচয়, ইমুতে প্রেম; দেখা করতে গিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ কিশোরীর

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ০৫:২৯:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ৫৮ Time View

 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটকে পরিচয়ের পর ইমুতে নিয়মিত যোগাযোগের মাধ্যমে শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরীর সঙ্গে এক যুবকের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে দেখা করতে গিয়ে তাকে জোর করে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে ২১ বছর বয়সী এক যুবকের বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় কিশোরীর মা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা করেছেন। অভিযুক্ত যুবক রাজু গাজী (২১) শরীয়তপুরের সখিপুর থানার চারভাগা শনিকান্দি গ্রামের সুলতান গাজীর ছেলে।

মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগীর পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নড়িয়ার পূর্ব দিনারা গ্রামের ওই কিশোরীর সঙ্গে প্রায় তিন মাস আগে টিকটকের মাধ্যমে রাজু গাজীর পরিচয় হয়। পরে ইমুতে তাদের নিয়মিত যোগাযোগ শুরু হয় এবং একপর্যায়ে প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হয়।

এজাহারে বলা হয়েছে, গত ২১ সেপ্টেম্বর রাজুর সঙ্গে দেখা করতে নড়িয়ার ডিঙ্গামানিক গোলারমাঠ এলাকায় যায় কিশোরী। সেখানে রাজু তাকে জোর করে মোটরসাইকেলে তুলে সখিপুরে নিজের বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে একদিন আটকে রেখে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

পরদিন বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে কিশোরীকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে একটি আবাসিক হোটেলে আটকে রেখে তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী।

পরে কিশোরী বিয়ের কাবিননামা করার কথা বললে তাকে এলাকায় ফিরিয়ে আনা হয়। এরপর বাড়ির পাশের একটি সড়কে তাকে রেখে রাজু চলে যান বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

ঘটনাটি জানাজানি হলে ভুক্তভোগীর পরিবারের সদস্যরা স্থানীয় মাতব্বর ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেন। তবে কোনো সমাধান না হওয়ায় অভিযুক্তের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। পরিবারের দাবি, রাজু বিয়েতে রাজি হননি। এমনকি মামলা করলে বা বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে কিশোরীকে হত্যা করে মরদেহ গুম করার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগীর পরিবার।

পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, আইনি সহায়তার জন্য সখিপুর থানায় গেলে তাদের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা করার পরামর্শ দেওয়া হয়। পরে ২২ সেপ্টেম্বর ট্রাইব্যুনালে আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে মামলা করেন কিশোরীর মা।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে রাজু গাজীর বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি। সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করেছে ভুক্তভোগীর পরিবার।

সখিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোফাজ্জল হোসেন বলেন, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

ট্যাগ: শরীয়তপুর, নড়িয়া, সখিপুর, টিকটক, ইমু, কিশোরী, ধর্ষণের অভিযোগ, নারী ও শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ মামলা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, বাংলাদেশ সংবাদ

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

টিকটকে পরিচয়, ইমুতে প্রেম; দেখা করতে গিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ কিশোরীর

Update Time : ০৫:২৯:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটকে পরিচয়ের পর ইমুতে নিয়মিত যোগাযোগের মাধ্যমে শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরীর সঙ্গে এক যুবকের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে দেখা করতে গিয়ে তাকে জোর করে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে ২১ বছর বয়সী এক যুবকের বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় কিশোরীর মা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা করেছেন। অভিযুক্ত যুবক রাজু গাজী (২১) শরীয়তপুরের সখিপুর থানার চারভাগা শনিকান্দি গ্রামের সুলতান গাজীর ছেলে।

মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগীর পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নড়িয়ার পূর্ব দিনারা গ্রামের ওই কিশোরীর সঙ্গে প্রায় তিন মাস আগে টিকটকের মাধ্যমে রাজু গাজীর পরিচয় হয়। পরে ইমুতে তাদের নিয়মিত যোগাযোগ শুরু হয় এবং একপর্যায়ে প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হয়।

এজাহারে বলা হয়েছে, গত ২১ সেপ্টেম্বর রাজুর সঙ্গে দেখা করতে নড়িয়ার ডিঙ্গামানিক গোলারমাঠ এলাকায় যায় কিশোরী। সেখানে রাজু তাকে জোর করে মোটরসাইকেলে তুলে সখিপুরে নিজের বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে একদিন আটকে রেখে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

পরদিন বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে কিশোরীকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে একটি আবাসিক হোটেলে আটকে রেখে তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী।

পরে কিশোরী বিয়ের কাবিননামা করার কথা বললে তাকে এলাকায় ফিরিয়ে আনা হয়। এরপর বাড়ির পাশের একটি সড়কে তাকে রেখে রাজু চলে যান বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

ঘটনাটি জানাজানি হলে ভুক্তভোগীর পরিবারের সদস্যরা স্থানীয় মাতব্বর ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেন। তবে কোনো সমাধান না হওয়ায় অভিযুক্তের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। পরিবারের দাবি, রাজু বিয়েতে রাজি হননি। এমনকি মামলা করলে বা বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে কিশোরীকে হত্যা করে মরদেহ গুম করার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগীর পরিবার।

পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, আইনি সহায়তার জন্য সখিপুর থানায় গেলে তাদের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা করার পরামর্শ দেওয়া হয়। পরে ২২ সেপ্টেম্বর ট্রাইব্যুনালে আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে মামলা করেন কিশোরীর মা।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে রাজু গাজীর বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি। সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করেছে ভুক্তভোগীর পরিবার।

সখিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোফাজ্জল হোসেন বলেন, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

ট্যাগ: শরীয়তপুর, নড়িয়া, সখিপুর, টিকটক, ইমু, কিশোরী, ধর্ষণের অভিযোগ, নারী ও শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ মামলা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, বাংলাদেশ সংবাদ