সচল হলো আদানির বিকল ইউনিট, দুপুরের মধ্যে বিদ্যুৎ পাবে বাংলাদেশ
- Update Time : ০২:৪৪:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ৫৬ Time View

কারিগরি ত্রুটিতে বন্ধ হয়ে যাওয়া ভারতের ঝাড়খণ্ডের গোড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিট পুনরায় চালু হয়েছে। ফলে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার আশা তৈরি হয়েছে।
ভারতের ঝাড়খণ্ডে অবস্থিত আদানি পাওয়ারের গোড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্রের কারিগরি ত্রুটির কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়া ইউনিটটি নির্ধারিত সময়ের আগেই পুনরায় চালু করা হয়েছে। বাংলাদেশ সময় রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) ভোর ৫টা ১৭ মিনিটে ইউনিটটি সফলভাবে চালু করা হয়।
আদানি পাওয়ার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রোববার সকাল সাড়ে ১১টার মধ্যে ইউনিটটির জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে সমন্বয় বা সিঙ্ক্রোনাইজেশন সম্পন্ন হওয়ার কথা। এরপর দুপুরের মধ্যেই বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরুদ্ধার হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
নির্ধারিত সময়ের আগেই চালু
রোববার এক বার্তায় আদানি পাওয়ার জানায়, এপিএল গোড্ডার দ্বিতীয় ইউনিট ভোর ৫টা ১৭ মিনিটে সফলভাবে চালু করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের আগেই মেরামত ও প্রস্তুতির কাজ শেষ হওয়ায় ইউনিটটি দ্রুত উৎপাদনে ফেরানো সম্ভব হয়েছে।
কর্তৃপক্ষের পরিকল্পনা অনুযায়ী, সকাল সাড়ে ১১টার মধ্যে জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে ইউনিটটির সমন্বয় সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল। এর ফলে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরায় স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
বয়লারের ত্রুটিতে বন্ধ হয় ৮০০ মেগাওয়াটের ইউনিট
এর আগে গত ১১ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে গোড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্রের দুটি ইউনিটের একটি হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ৮০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ইউনিটটির বয়লারে কারিগরি ত্রুটি দেখা দেওয়ায় সেটি বন্ধ করতে হয়।
ইউনিটটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে কেন্দ্রটির মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। একই সঙ্গে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহও হ্রাস পায়। এতে বিদ্যুৎ সংকটে থাকা দেশের জাতীয় গ্রিডে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়।
সরবরাহ কমে যায় ৭৫০ মেগাওয়াটের নিচে
পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশের তথ্য অনুযায়ী, ইউনিটটি বিকল হওয়ার আগে গোড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন ১ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট ছাড়িয়ে গিয়েছিল। তবে একটি ইউনিট বন্ধ হওয়ার পর কেন্দ্রটির সরবরাহ ৭৫০ মেগাওয়াটের নিচে নেমে আসে।
ফলে আগে থেকেই জ্বালানি সংকট ও উৎপাদন ঘাটতির কারণে চাপের মুখে থাকা দেশের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা আরও সংকটে পড়ে। বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং বেড়ে যাওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ গ্রাহকরা।
দ্রুত মেরামতে ফিরল উৎপাদন
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) কর্মকর্তারা জানান, বয়লারে ত্রুটি শনাক্ত হওয়ার পরপরই মেরামত কাজ শুরু করা হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়েছিল, ইউনিটটি পুনরায় চালু করতে অন্তত ৪৮ ঘণ্টা সময় লাগতে পারে।
তবে নির্ধারিত সময়ের আগেই মেরামত কাজ শেষ হওয়ায় ইউনিটটি দ্রুত উৎপাদনে ফেরানো সম্ভব হয়েছে। এতে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
কয়লা সংকটেও কমেছিল গোড্ডার উৎপাদন
এর আগে কয়লা পরিবহনে বিঘ্নের কারণে আগস্টের মাঝামাঝি সময় থেকে গোড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্রটি পূর্ণ সক্ষমতার তুলনায় কম বিদ্যুৎ উৎপাদন করছিল।
আদানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, রেলপথে যানজট, কয়লা পরিবহনে বিভিন্ন বিধিনিষেধ এবং অতিবৃষ্টির কারণে কয়লা সরবরাহ ব্যাহত হয়। এতে বিদ্যুৎকেন্দ্রটির প্রয়োজনীয় কয়লা মজুত নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ে।
গত মাসের শেষ দিকে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলে কেন্দ্রটির উৎপাদন ধীরে ধীরে বাড়তে শুরু করে। দিনের বেলায় উৎপাদন প্রায় ৯০০ মেগাওয়াট এবং সন্ধ্যায় তা ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত পৌঁছায়।
পরবর্তী সময়ে উৎপাদন আরও বাড়িয়ে ১ হাজার ৪০০ মেগাওয়াটের বেশি করা সম্ভব হলেও ঠিক তখনই বয়লারের ত্রুটিতে একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে যায়।
বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতে গুরুত্বপূর্ণ আমদানি উৎস
বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতে গোড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্র বর্তমানে অন্যতম বড় আমদানি উৎস। কেন্দ্রটির দুটি ইউনিট থেকে মোট ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে।
একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে গেলে কেন্দ্রটির মোট উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। ফলে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হয় এবং দেশের বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিংয়ের চাপ বাড়ে।
লোডশেডিং কমার আশা
বিকল ইউনিটটি পুনরায় সচল হওয়ায় জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়বে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এর ফলে চলমান বিদ্যুৎ সংকট কিছুটা কমতে পারে এবং বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিংয়ের চাপও হ্রাস পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে বিদ্যুৎ সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে কি না, তা নির্ভর করবে ইউনিটটির উৎপাদন স্থিতিশীলতা, কয়লা সরবরাহ এবং দেশের সামগ্রিক বিদ্যুৎ চাহিদার ওপর।
গোড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিট পুনরায় চালু হওয়াকে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতের জন্য স্বস্তিদায়ক খবর হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। দ্রুত উৎপাদনে ফেরায় জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়বে এবং গ্রাহকদের ভোগান্তি কিছুটা কমবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।















