Advertisement
সময়: বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দাপ্তরিক নথিতে ‘মাননীয়’ বাদ, ডিজিটাল হাজিরাতেও দৃষ্টান্ত স্থাপন প্রধানমন্ত্রীর

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ০৫:৫০:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ৫৭ Time View
নিজ দপ্তর থেকেই নিয়ম মানার দৃষ্টান্ত প্রধানমন্ত্রীর ছবি: সংগৃহীত

 

প্রধানমন্ত্রী শব্দের আগে ‘মাননীয়’ বা অন্য কোনো সম্মানসূচক শব্দ ব্যবহার না করার সরকারি সিদ্ধান্ত নিজের দপ্তর থেকেই বাস্তবায়ন শুরু করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে দাপ্তরিক শৃঙ্খলার অংশ হিসেবে অন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মতো তিনিও ডিজিটাল হাজিরা দিচ্ছেন।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ফাইল, নথি ও অন্যান্য দাপ্তরিক কার্যক্রমে তাঁর পদবির আগে ‘মাননীয়’ শব্দ বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

এর আগে বুধবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা এক পরিপত্রে বলা হয়, রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীর সঙ্গে সরকারি দাপ্তরিক যোগাযোগ, নথিপত্র এবং সারসংক্ষেপ উপস্থাপনের ক্ষেত্রে তাঁদের পদবির আগে ‘মহামান্য’, ‘মাননীয়’ কিংবা অন্য কোনো সম্মানসূচক শব্দ ব্যবহার করা যাবে না।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের এ নির্দেশনা শুধু পরিপত্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে প্রধানমন্ত্রী তাঁর নিজ কার্যালয় থেকেই বাস্তবায়ন শুরু করেছেন। তাঁর কাছে উপস্থাপন করা ফাইল ও অন্যান্য সরকারি নথিতে ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী’ না লিখে শুধু ‘প্রধানমন্ত্রী’ লেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ওই কর্মকর্তা আরও জানান, ‘মাননীয়’ শব্দ বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তকে সরকারের দাপ্তরিক সংস্কার ও ইতিবাচক পরিবর্তনের ধারাবাহিক উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর মাধ্যমে পদমর্যাদার আনুষ্ঠানিক বিশেষণের পরিবর্তে দায়িত্ব, জনসেবা এবং দেশ ও জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতাকে গুরুত্ব দেওয়ার বার্তা দেওয়া হচ্ছে।

ডিজিটাল হাজিরাতেও দৃষ্টান্ত

দাপ্তরিক শৃঙ্খলা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও দৃষ্টান্ত স্থাপন করছেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীর মতো কার্যালয়ে প্রবেশের সময় প্রধানমন্ত্রীও নিয়মিত অনলাইন বা ডিজিটাল হাজিরা দিচ্ছেন।

দিনের দায়িত্ব ও দাপ্তরিক কার্যক্রম শেষে কার্যালয় ত্যাগের সময়ও নির্ধারিত পদ্ধতিতে হাজিরা দিয়ে অফিস ছাড়ছেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এ ধরনের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে সরকারি দপ্তরগুলোতে শৃঙ্খলা, জবাবদিহি এবং পদমর্যাদার পরিবর্তে দায়িত্ব পালনের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার একটি নতুন দৃষ্টান্ত তৈরি হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

দাপ্তরিক নথিতে ‘মাননীয়’ বাদ, ডিজিটাল হাজিরাতেও দৃষ্টান্ত স্থাপন প্রধানমন্ত্রীর

Update Time : ০৫:৫০:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
নিজ দপ্তর থেকেই নিয়ম মানার দৃষ্টান্ত প্রধানমন্ত্রীর ছবি: সংগৃহীত

 

প্রধানমন্ত্রী শব্দের আগে ‘মাননীয়’ বা অন্য কোনো সম্মানসূচক শব্দ ব্যবহার না করার সরকারি সিদ্ধান্ত নিজের দপ্তর থেকেই বাস্তবায়ন শুরু করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে দাপ্তরিক শৃঙ্খলার অংশ হিসেবে অন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মতো তিনিও ডিজিটাল হাজিরা দিচ্ছেন।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ফাইল, নথি ও অন্যান্য দাপ্তরিক কার্যক্রমে তাঁর পদবির আগে ‘মাননীয়’ শব্দ বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

এর আগে বুধবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা এক পরিপত্রে বলা হয়, রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীর সঙ্গে সরকারি দাপ্তরিক যোগাযোগ, নথিপত্র এবং সারসংক্ষেপ উপস্থাপনের ক্ষেত্রে তাঁদের পদবির আগে ‘মহামান্য’, ‘মাননীয়’ কিংবা অন্য কোনো সম্মানসূচক শব্দ ব্যবহার করা যাবে না।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের এ নির্দেশনা শুধু পরিপত্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে প্রধানমন্ত্রী তাঁর নিজ কার্যালয় থেকেই বাস্তবায়ন শুরু করেছেন। তাঁর কাছে উপস্থাপন করা ফাইল ও অন্যান্য সরকারি নথিতে ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী’ না লিখে শুধু ‘প্রধানমন্ত্রী’ লেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ওই কর্মকর্তা আরও জানান, ‘মাননীয়’ শব্দ বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তকে সরকারের দাপ্তরিক সংস্কার ও ইতিবাচক পরিবর্তনের ধারাবাহিক উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর মাধ্যমে পদমর্যাদার আনুষ্ঠানিক বিশেষণের পরিবর্তে দায়িত্ব, জনসেবা এবং দেশ ও জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতাকে গুরুত্ব দেওয়ার বার্তা দেওয়া হচ্ছে।

ডিজিটাল হাজিরাতেও দৃষ্টান্ত

দাপ্তরিক শৃঙ্খলা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও দৃষ্টান্ত স্থাপন করছেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীর মতো কার্যালয়ে প্রবেশের সময় প্রধানমন্ত্রীও নিয়মিত অনলাইন বা ডিজিটাল হাজিরা দিচ্ছেন।

দিনের দায়িত্ব ও দাপ্তরিক কার্যক্রম শেষে কার্যালয় ত্যাগের সময়ও নির্ধারিত পদ্ধতিতে হাজিরা দিয়ে অফিস ছাড়ছেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এ ধরনের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে সরকারি দপ্তরগুলোতে শৃঙ্খলা, জবাবদিহি এবং পদমর্যাদার পরিবর্তে দায়িত্ব পালনের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার একটি নতুন দৃষ্টান্ত তৈরি হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন।