Advertisement
সময়: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি সই করেছে বাংলাদেশ

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ০৫:১৭:২৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ৭২ Time View
পারমাণবিক সহযোগিতা বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সই করেছে বাংলাদেশ। ছবি: সংগৃহীত

 

শান্তিপূর্ণ ও বেসামরিক কাজে পারমাণবিক শক্তির ব্যবহার এবং এ খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই করেছে বাংলাদেশ।

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে এ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। বাংলাদেশের পক্ষে প্রধানমন্ত্রীর টেলিযোগাযোগ ও আইসিটি বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসাদ এবং যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, জ্বালানি ও পরিবেশবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি জ্যাকব হেলবার্গ এতে স্বাক্ষর করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রেহান আসাদ।

সমঝোতা স্মারকে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক সম্পর্কের কৌশলগত গুরুত্ব এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তায় এ সম্পর্কের ইতিবাচক ভূমিকার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। পাশাপাশি দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

চুক্তিতে বলা হয়েছে, নিজেদের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা পূরণে পারমাণবিক শক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে দুই দেশ স্বীকার করে। বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ মানের পারমাণবিক নিরাপত্তা, সুরক্ষা ও সেফগার্ডস নিশ্চিত করার পাশাপাশি পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধের নীতিও অনুসরণ করা হবে।

সমঝোতা অনুযায়ী, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র উভয় দেশই আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) সেফগার্ডস চুক্তি ও অতিরিক্ত প্রটোকলের আওতাভুক্ত। একই সঙ্গে উভয় দেশ পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধসংক্রান্ত চুক্তি বা এনপিটির স্বাক্ষরকারী। ১৯৬৮ সালের ১ জুলাই এনপিটি স্বাক্ষরের জন্য উন্মুক্ত করা হয়।

দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানির উৎস বাড়ানো ও বৈচিত্র্য আনার বৃহত্তর উদ্যোগের অংশ হিসেবেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের এ নতুন সমঝোতা বলে মনে করা হচ্ছে। বাংলাদেশ এরই মধ্যে রাশিয়ার সহযোগিতায় রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করছে। পাশাপাশি পারমাণবিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহারে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের উদ্যোগও অব্যাহত রয়েছে।

এর আগে চলতি বছরের মে মাসে জ্বালানি খাতে বৃহত্তর সহযোগিতার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আরেকটি সমঝোতা স্মারক সই করেছিল বাংলাদেশ। বিভিন্ন উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহের মাধ্যমে দেশের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করাই ছিল ওই সমঝোতার অন্যতম লক্ষ্য।

তবে এবারের সমঝোতার কেন্দ্রবিন্দু সাধারণ জ্বালানি বাণিজ্য নয়; বরং পারমাণবিক শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহার, পারমাণবিক নিরাপত্তা এবং এ খাতে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানো।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি সই করেছে বাংলাদেশ

Update Time : ০৫:১৭:২৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
পারমাণবিক সহযোগিতা বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সই করেছে বাংলাদেশ। ছবি: সংগৃহীত

 

শান্তিপূর্ণ ও বেসামরিক কাজে পারমাণবিক শক্তির ব্যবহার এবং এ খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই করেছে বাংলাদেশ।

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে এ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। বাংলাদেশের পক্ষে প্রধানমন্ত্রীর টেলিযোগাযোগ ও আইসিটি বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসাদ এবং যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, জ্বালানি ও পরিবেশবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি জ্যাকব হেলবার্গ এতে স্বাক্ষর করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রেহান আসাদ।

সমঝোতা স্মারকে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক সম্পর্কের কৌশলগত গুরুত্ব এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তায় এ সম্পর্কের ইতিবাচক ভূমিকার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। পাশাপাশি দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

চুক্তিতে বলা হয়েছে, নিজেদের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা পূরণে পারমাণবিক শক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে দুই দেশ স্বীকার করে। বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ মানের পারমাণবিক নিরাপত্তা, সুরক্ষা ও সেফগার্ডস নিশ্চিত করার পাশাপাশি পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধের নীতিও অনুসরণ করা হবে।

সমঝোতা অনুযায়ী, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র উভয় দেশই আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) সেফগার্ডস চুক্তি ও অতিরিক্ত প্রটোকলের আওতাভুক্ত। একই সঙ্গে উভয় দেশ পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধসংক্রান্ত চুক্তি বা এনপিটির স্বাক্ষরকারী। ১৯৬৮ সালের ১ জুলাই এনপিটি স্বাক্ষরের জন্য উন্মুক্ত করা হয়।

দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানির উৎস বাড়ানো ও বৈচিত্র্য আনার বৃহত্তর উদ্যোগের অংশ হিসেবেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের এ নতুন সমঝোতা বলে মনে করা হচ্ছে। বাংলাদেশ এরই মধ্যে রাশিয়ার সহযোগিতায় রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করছে। পাশাপাশি পারমাণবিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহারে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের উদ্যোগও অব্যাহত রয়েছে।

এর আগে চলতি বছরের মে মাসে জ্বালানি খাতে বৃহত্তর সহযোগিতার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আরেকটি সমঝোতা স্মারক সই করেছিল বাংলাদেশ। বিভিন্ন উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহের মাধ্যমে দেশের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করাই ছিল ওই সমঝোতার অন্যতম লক্ষ্য।

তবে এবারের সমঝোতার কেন্দ্রবিন্দু সাধারণ জ্বালানি বাণিজ্য নয়; বরং পারমাণবিক শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহার, পারমাণবিক নিরাপত্তা এবং এ খাতে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানো।