ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক হতে হবে সমতা-সমমর্যাদার: ডা. শফিকুর রহমান
- Update Time : ০৭:৩১:৫৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬
- / ৬৯ Time View

বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক আধিপত্যের নয়, বরং সমতা, সমমর্যাদা ও পারস্পরিক বন্ধুত্বের ভিত্তিতে হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।
তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ভারত সফর করতে পারেন এবং প্রতিবেশী দেশটির সঙ্গে কূটনৈতিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার প্রয়োজন রয়েছে। তবে এ সম্পর্ক কোনোভাবেই একতরফা প্রভাব বা আধিপত্যের ভিত্তিতে হতে পারে না। দুই দেশের সম্পর্ক হতে হবে পারস্পরিক সম্মান, সমতা ও জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) দুপুরে রাজশাহী জেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত মহানগরী জামায়াতে ইসলামীর সদস্য (রোকন) সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রী বিশ্বের বিভিন্ন দেশ সফর করতে পারেন। প্রতিবেশী দেশ ভারত সফর করতেও কোনো সমস্যা নেই। তবে সেই সফর হতে হবে সমমর্যাদা ও পারস্পরিক বন্ধুত্বের ভিত্তিতে। বাংলাদেশের মানুষ ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক চায়, কিন্তু কোনো দেশের আধিপত্য মেনে নিতে প্রস্তুত নয়।
তিনি বলেন, “এ দেশের মানুষ চায় ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক হোক বন্ধুত্বের, সমমর্যাদার ও সমতার ভিত্তিতে।”
চাঁদাবাজি-দুর্নীতি বন্ধে কঠোর পদক্ষেপের আহ্বান
দেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে ডা. শফিকুর রহমান চাঁদাবাজি, দুর্নীতি ও ঘুষ-বাণিজ্য বন্ধে সরকারের কঠোর পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একই সঙ্গে সরকারপ্রধান ও একটি রাজনৈতিক দলের প্রধান। সরকার চাইলে দেশে চলমান চাঁদাবাজি, দুর্নীতি ও ঘুষ-বাণিজ্যের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে পারে। এসব অনিয়ম বন্ধ করার ক্ষেত্রে সরকারের সদিচ্ছাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তার ভাষ্য, সাধারণ মানুষ যেন সরকারি সেবা নিতে গিয়ে ঘুষ, রাজনৈতিক প্রভাব কিংবা চাঁদাবাজির শিকার না হন, সে জন্য প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।
ভোটাধিকার রক্ষায় নেতাকর্মীদের সক্রিয় হওয়ার আহ্বান
আগামী স্থানীয় নির্বাচন প্রসঙ্গেও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি জনগণের পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, কোনোভাবেই যেন মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া না হয়। কেউ যাতে ভোট ছিনিয়ে নিতে না পারে, সে বিষয়ে নেতাকর্মীদের সতর্ক ও সোচ্চার থাকতে হবে। জনগণ যাতে স্বাধীনভাবে নিজেদের পছন্দের প্রতিনিধি নির্বাচিত করতে পারে, সেটিই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান শর্ত বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
জামায়াতের আদর্শিক অবস্থানের কথা তুলে ধরেন
সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক ও আদর্শিক অবস্থান তুলে ধরে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দীর্ঘদিনের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে জামায়াতে ইসলামী মানুষের কাছে একটি আদর্শিক সংগঠন হিসেবে আস্থা অর্জনের চেষ্টা করে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, ইসলামের দাওয়াত, নৈতিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা এবং আদর্শ সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে সংগঠনটি দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে। জনগণের কল্যাণ ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠাকে সংগঠনের অন্যতম লক্ষ্য হিসেবেও তিনি তুলে ধরেন।
সহস্রাধিক রোকন সদস্যের উপস্থিতি
মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি ইমাজ উদ্দিন মণ্ডলের সঞ্চালনায় সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন মহানগর জামায়াতের আমির ড. মাওলানা কেরামত আলী এমপি। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এমপি।
এ ছাড়া সম্মেলনে কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য দেন। এতে রাজশাহী মহানগরীর সহস্রাধিক নারী-পুরুষ রোকন সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে শুক্রবার বিকেলে একই স্থানে রাজশাহী জেলা জামায়াতে ইসলামীর সদস্য (রোকন) সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ওই সম্মেলনেও প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ডা. শফিকুর রহমান।
ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক, দেশের অভ্যন্তরীণ দুর্নীতি-চাঁদাবাজি এবং ভোটাধিকার নিয়ে তাঁর বক্তব্যকে রাজনৈতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্কের ক্ষেত্রে সমতা ও পারস্পরিক মর্যাদার ওপর তাঁর দেওয়া বক্তব্য নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনার জন্ম দিতে পারে।

















