সরকার মৌলিক পরিবর্তনের সব দাবি উপেক্ষা করছে: জামায়াত আমির
- Update Time : ০২:১৪:০৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬
- / ৯০ Time View

সরকার দেশের মৌলিক সংস্কারের দাবিগুলোকে অগ্রাহ্য করছে বলে অভিযোগ করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, বিচার বিভাগ, দুর্নীতি দমন কমিশন, মানবাধিকার কমিশন, ভোট কমিশন ও নির্বাচন কমিশনসহ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্বাধীন করার ক্ষেত্রে সরকার কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেয়নি।
শুক্রবার রাজধানীর মগবাজারের আল-ফালাহ মিলনায়তনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার অধিবেশনে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “সরকার স্বাধীন বিচার বিভাগ চাচ্ছে না, স্বাধীন দুর্নীতি দমন কমিশন চাচ্ছে না, স্বাধীন মানবাধিকার কমিশন চাচ্ছে না, স্বাধীন ভোট কমিশন ও নির্বাচন কমিশনও চাচ্ছে না। যেসব প্রতিষ্ঠানের দুর্বলতা ও রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে অতীতে দেশে ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, সেসব জায়গা এখনো আগের অবস্থাতেই রয়ে গেছে।”
তিনি দাবি করেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের মানুষ একটি নতুন বাংলাদেশ এবং কার্যকর রাষ্ট্রীয় সংস্কারের প্রত্যাশা করেছিল। জনগণ আশা করেছিল যে, দীর্ঘদিনের বৈষম্য, দুর্নীতি ও অনিয়ম দূর করে রাষ্ট্রকে নতুন ভিত্তির ওপর দাঁড় করানো হবে। কিন্তু বাস্তবে সেই প্রত্যাশার প্রতিফলন দেখা যায়নি।
জামায়াত আমির বলেন, চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি সাধারণ নির্বাচন ও সংস্কার পরিষদের গণভোট একই দিনে অনুষ্ঠিত হয়। তার দাবি, জনগণ গণভোটে সংস্কারের পক্ষে মত দিলেও সরকার সেই রায় বাস্তবায়নে উদ্যোগ নেয়নি। বরং প্রায় ৭০ শতাংশ ভোটারের মতামত উপেক্ষা করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের আগে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল গণভোটের ফলাফল বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিলেও পরবর্তীতে সেই প্রতিশ্রুতির প্রতি অনীহা দেখা গেছে। বিরোধী দল সংসদে একাধিকবার এ বিষয়ে আলোচনা ও নোটিশ দিলেও সরকারের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
একই সঙ্গে ১১-দলীয় জোট ধারাবাহিকভাবে গণভোটের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের দাবিতে কর্মসূচি পালন করছে বলেও জানান তিনি।
রাষ্ট্র পরিচালনায় নৈতিকতার গুরুত্ব তুলে ধরে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সমাজের শিক্ষিত ও উচ্চশিক্ষিত একটি অংশ জনগণের আমানতের প্রতি দায়িত্বশীল আচরণ না করে ক্ষমতার অপব্যবহার করছে। এর ফলে মানুষের সম্পদ, অধিকার ও ন্যায়বিচার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তার মতে, সুশাসন প্রতিষ্ঠা ছাড়া দেশের বর্তমান সংকট থেকে উত্তরণ সম্ভব নয়।
তিনি বলেন, “একটি সমাজ কতটা সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ হবে, তা অনেকাংশে নির্ভর করে রাষ্ট্র পরিচালনাকারীদের জবাবদিহিতা, নৈতিকতা ও আচরণের ওপর। সুশাসনের অভাবে মানুষের জীবনে শান্তি, নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত হচ্ছে না।”
বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসের প্রসঙ্গ টেনে জামায়াত আমির বলেন, ১৯৪৭ ও ১৯৭১ সালে দুইবার স্বাধীনতা অর্জনের পরও জনগণের কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন বাস্তবায়িত হয়নি। এর জন্য সাধারণ মানুষ নয়, বরং রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের ব্যর্থতাকেই তিনি দায়ী করেন।
তিনি আরও বলেন, দেশে এখনো সামাজিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠিত হয়নি, মানুষের জানমালের নিরাপত্তা পুরোপুরি নিশ্চিত হয়নি, যুবসমাজ কর্মসংস্থানের সংকটে রয়েছে এবং নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ রয়ে গেছে।
দেশে প্রকৃত সংস্কার, জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থা এবং স্বাধীন প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার জন্য সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান জামায়াত আমির।























