যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় (অ্যাসাইলাম) ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন, বাতিল হচ্ছে সাক্ষাৎকার পদ্ধতি
- Update Time : ১২:০৫:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬
- / ৩৮ Time View

যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন। নতুন নীতিমালার আওতায় আশ্রয় (অ্যাসাইলাম) আবেদনকারীদের জন্য দীর্ঘদিন ধরে চালু থাকা প্রাথমিক সাক্ষাৎকার (ইন্টারভিউ) পদ্ধতি বাতিল করা হয়েছে। এর ফলে অনেক আবেদনকারী সরাসরি ইমিগ্রেশন আদালতের মুখোমুখি হবেন, যা বহিষ্কারের (ডিপোর্টেশন) ঝুঁকি বাড়াতে পারে বলে মনে করছেন অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা।
এতদিন যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ ভিসায় প্রবেশ করে অথবা নির্যাতনের শিকার হওয়ার দাবি তুলে আশ্রয়ের আবেদন করা ব্যক্তিদের আবেদন প্রথমে ইউনাইটেড স্টেটস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (USCIS)-এর প্রশিক্ষিত আশ্রয় কর্মকর্তারা যাচাই করতেন। আবেদনকারীদের সাক্ষাৎকার নিয়ে তাদের দাবি ও প্রমাণ মূল্যায়নের পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হতো।
তবে গত ২৭ জুলাই থেকে কার্যকর হওয়া নতুন নিয়ম অনুযায়ী, নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে এই বাধ্যতামূলক সাক্ষাৎকার প্রক্রিয়া বাতিল করা হয়েছে। ফলে USCIS এখন এসব আবেদন সরাসরি ইমিগ্রেশন আদালতে পাঠাতে পারবে। এতে আবেদনকারীরা প্রশাসনিক পর্যায়ে নিজেদের বক্তব্য উপস্থাপনের সুযোগ না পেয়েই আদালতের মাধ্যমে বহিষ্কার প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে পারেন।
বিশ্লেষকদের মতে, নতুন এই নীতির আওতায় প্রায় ৪ লাখ ৪০ হাজার থেকে ১৪ লাখ পর্যন্ত ঝুলে থাকা আশ্রয় আবেদন ইমিগ্রেশন আদালতে স্থানান্তরিত হতে পারে। এর ফলে আদালতের ওপর চাপ আরও বাড়বে এবং জোরপূর্বক বহিষ্কারের (Removal Order) সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্ট (DHS) এবং USCIS-এর যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আশ্রয় ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা মামলার জট দ্রুত কমানোর লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
USCIS-এর পরিচালক জোসেফ এডলো এক বিবৃতিতে বলেন, অনেক ক্ষেত্রে প্রকৃত নির্যাতনের শিকার না হয়েও কেবল সময়ক্ষেপণ এবং যুক্তরাষ্ট্রে কাজের অনুমতি (ওয়ার্ক পারমিট) পাওয়ার উদ্দেশ্যে আশ্রয় ব্যবস্থার অপব্যবহার করা হয়েছে। তার ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্রের আশ্রয় ব্যবস্থার মূল লক্ষ্য হলো প্রকৃত নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের সুরক্ষা দেওয়া। নতুন নিয়মের মাধ্যমে সরকারি সম্পদ অপব্যবহার রোধ করে প্রকৃত দাবিদারদের আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তি করা সম্ভব হবে।
অন্যদিকে, অভিবাসন অধিকারকর্মী ও আইন বিশেষজ্ঞরা এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তাদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে ইমিগ্রেশন বিচারকদের কিছু ক্ষেত্রে পূর্ণাঙ্গ শুনানি ছাড়াই মামলা খারিজ করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। ফলে অনেক আবেদনকারী নিজেদের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপনের ন্যূনতম সুযোগও হারাতে পারেন।
বিশেষজ্ঞদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় আশ্রয়প্রার্থীদের অধিকার আগে থেকেই সীমিত। নতুন এই নীতির মাধ্যমে সেই আইনি সুরক্ষাও আরও সংকুচিত হবে এবং প্রশাসনের ডিপোর্টেশন নীতিকে আরও দ্রুত বাস্তবায়নের পথ তৈরি হবে।
তাদের আরও আশঙ্কা, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী আন্তর্জাতিক শরণার্থী সুরক্ষা চুক্তির আলোকে যেসব নির্যাতিত ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে আশ্রয় দেওয়ার প্রতিশ্রুতি যুক্তরাষ্ট্র দিয়েছে, নতুন এই নীতির কারণে তাদের অনেকেই ন্যায়সংগত শুনানির সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতে পারেন।











