সময়: শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬, ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মানব ইতিহাসের সর্ববৃহৎ জানাজার প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান, অংশ নিতে পারেন সাড়ে ৩ কোটি মানুষ

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ১০:০০:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬
  • / ৪৩ Time View

 

ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি-এর জানাজা ও দাফনকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে নজিরবিহীন প্রস্তুতি। ইরানি কর্তৃপক্ষের ধারণা, রাজধানী তেহরান-এ প্রায় ২ কোটি এবং দেশব্যাপী মোট সাড়ে ৩ কোটি মানুষ এই ঐতিহাসিক আয়োজনে অংশ নিতে পারেন।

এই বিপুল জনসমাগম বাস্তবে রূপ নিলে এটি মানব ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জানাজা হিসেবে স্বীকৃতি পেতে পারে। এর আগে ১৯৮৯ সালে আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি-এর জানাজায় আনুমানিক ১ কোটি ২ লাখ মানুষের অংশগ্রহণ বিশ্ব রেকর্ড হিসেবে বিবেচিত হয়েছিল।

ইরানি সূত্র জানিয়েছে, আগামী ৯ জুলাই খামেনিকে দাফন করা হবে। এ উপলক্ষে বিশ্বের ৯০টিরও বেশি দেশের প্রতিনিধি, ধর্মীয় নেতা এবং প্রায় ১৪ হাজার আন্তর্জাতিক সাংবাদিকের উপস্থিতির সম্ভাবনা রয়েছে। দেশজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং তেহরানে বিশেষ নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হচ্ছে।

১৯৮৯ সালের সেই ঐতিহাসিক জানাজা

১৯৮৯ সালের ৬ জুন আয়াতুল্লাহ খোমেনির জানাজা বিশ্ব ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় ঘটনা হয়ে আছে। লাখো মানুষের ঢলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। শোকাহত জনতার চাপে পদদলিত হয়ে বহু মানুষ আহত হন এবং অন্তত আটজন নিহত হন। প্রায় ১১ হাজার মানুষ আহত হওয়ার তথ্যও প্রকাশিত হয়েছিল।

পরিস্থিতি এতটাই জটিল হয়ে উঠেছিল যে নিরাপত্তা বাহিনীকে আকাশে ফাঁকা গুলি ছুড়তে হয় এবং সেদিনের দাফন কার্যক্রম স্থগিত করা হয়। পরদিন পুনরায় জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার পর তাকে দাফন করা হয়।

পরবর্তীতে Guinness World Records খোমেনির জানাজাকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় জানাজা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

৩৬ বছরের নেতৃত্বের অবসান

১৯৮৯ সালে খোমেনির মৃত্যুর পর আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ইরানের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। দীর্ঘ ৩৬ বছর ৬ মাস তিনি ইরানের ধর্মীয় ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন। ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি এক হামলায় তার মৃত্যু ঘটে।

তার মৃত্যু শুধু ইরানের জন্য নয়, বরং সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি ও মুসলিম বিশ্বের জন্য একটি যুগের অবসান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এখন বিশ্বজুড়ে দৃষ্টি নিবদ্ধ রয়েছে তার জানাজা ও দাফনের দিকে, যা মানব ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জনসমাগমগুলোর একটি হয়ে উঠতে পারে।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

মানব ইতিহাসের সর্ববৃহৎ জানাজার প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান, অংশ নিতে পারেন সাড়ে ৩ কোটি মানুষ

Update Time : ১০:০০:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬

 

ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি-এর জানাজা ও দাফনকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে নজিরবিহীন প্রস্তুতি। ইরানি কর্তৃপক্ষের ধারণা, রাজধানী তেহরান-এ প্রায় ২ কোটি এবং দেশব্যাপী মোট সাড়ে ৩ কোটি মানুষ এই ঐতিহাসিক আয়োজনে অংশ নিতে পারেন।

এই বিপুল জনসমাগম বাস্তবে রূপ নিলে এটি মানব ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জানাজা হিসেবে স্বীকৃতি পেতে পারে। এর আগে ১৯৮৯ সালে আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি-এর জানাজায় আনুমানিক ১ কোটি ২ লাখ মানুষের অংশগ্রহণ বিশ্ব রেকর্ড হিসেবে বিবেচিত হয়েছিল।

ইরানি সূত্র জানিয়েছে, আগামী ৯ জুলাই খামেনিকে দাফন করা হবে। এ উপলক্ষে বিশ্বের ৯০টিরও বেশি দেশের প্রতিনিধি, ধর্মীয় নেতা এবং প্রায় ১৪ হাজার আন্তর্জাতিক সাংবাদিকের উপস্থিতির সম্ভাবনা রয়েছে। দেশজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং তেহরানে বিশেষ নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হচ্ছে।

১৯৮৯ সালের সেই ঐতিহাসিক জানাজা

১৯৮৯ সালের ৬ জুন আয়াতুল্লাহ খোমেনির জানাজা বিশ্ব ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় ঘটনা হয়ে আছে। লাখো মানুষের ঢলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। শোকাহত জনতার চাপে পদদলিত হয়ে বহু মানুষ আহত হন এবং অন্তত আটজন নিহত হন। প্রায় ১১ হাজার মানুষ আহত হওয়ার তথ্যও প্রকাশিত হয়েছিল।

পরিস্থিতি এতটাই জটিল হয়ে উঠেছিল যে নিরাপত্তা বাহিনীকে আকাশে ফাঁকা গুলি ছুড়তে হয় এবং সেদিনের দাফন কার্যক্রম স্থগিত করা হয়। পরদিন পুনরায় জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার পর তাকে দাফন করা হয়।

পরবর্তীতে Guinness World Records খোমেনির জানাজাকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় জানাজা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

৩৬ বছরের নেতৃত্বের অবসান

১৯৮৯ সালে খোমেনির মৃত্যুর পর আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ইরানের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। দীর্ঘ ৩৬ বছর ৬ মাস তিনি ইরানের ধর্মীয় ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন। ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি এক হামলায় তার মৃত্যু ঘটে।

তার মৃত্যু শুধু ইরানের জন্য নয়, বরং সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি ও মুসলিম বিশ্বের জন্য একটি যুগের অবসান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এখন বিশ্বজুড়ে দৃষ্টি নিবদ্ধ রয়েছে তার জানাজা ও দাফনের দিকে, যা মানব ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জনসমাগমগুলোর একটি হয়ে উঠতে পারে।