সময়: শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ব্রিকস সম্মেলন ‘মিনাব ১৬৮’ বিমানে দিল্লি পৌঁছালেন আরাগচি

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ১১:৫২:৫২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬
  • / ২২৯ Time View

আব্বাস আরাগচি তিন দিনের সরকারি সফরে নয়াদিল্লি পৌঁছেছেন। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি শুরুর পর তেহরান থেকে এটি প্রথম উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক সফর হিসেবে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মূলত ব্রিকস সদস্য দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে অংশ নিতে ভারতে এসেছেন। তবে সফরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর-এর সঙ্গে তার দ্বিপাক্ষিক বৈঠককে।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত, মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট। বিশেষ করে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী যে বিমানে দিল্লিতে পৌঁছেছেন, তার নাম দেওয়া হয়েছে “মিনাব ১৬৮”। ইরানের মিনাব শহরের একটি স্কুলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত ১৬৮ শিক্ষার্থীর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বিমানের এই প্রতীকী নামকরণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আরাগচিকে স্বাগত জানিয়েছেন। এদিকে ভারতীয় কূটনৈতিক মহল মনে করছে, হরমুজ প্রণালিতে আটকে থাকা বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার বিষয়ে ভারত তেহরানের ওপর কূটনৈতিক চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হওয়ায় হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা এখন বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সফরকালে আরাগচি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি-র সঙ্গেও সাক্ষাৎ করবেন বলে জানা গেছে। এছাড়া ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজিম ঘারিবাবাদি বলেছেন, ব্রিকস জোটে ইরানের সক্রিয় অংশগ্রহণ বিশ্ব রাজনীতিতে একটি ন্যায়ভিত্তিক ভারসাম্য গড়ে তোলার কৌশলগত পদক্ষেপ।

তেহরান মনে করছে, ব্রিকস উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক কাঠামোয় সংস্কার আনার একটি বড় প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করতে পারে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রকেন্দ্রিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার বিকল্প হিসেবে স্বাধীন বাণিজ্য ও ব্যাংকিং কাঠামো তৈরির ওপরও জোর দিচ্ছে ইরান।

বর্তমানে ভারত ব্রিকসের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছে। আগামী সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠেয় শীর্ষ সম্মেলনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে এই বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত নিয়ে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য থাকায় একটি যৌথ বিবৃতি প্রণয়ন ভারতের জন্য বড় কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।

বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইরান-এর মধ্যে জ্বালানি অবকাঠামোকে ঘিরে উত্তেজনা এই ঐকমত্যের পথে নতুন বাধা তৈরি করেছে। তেহরান ইতোমধ্যে ভারতকে আহ্বান জানিয়েছে, বর্তমান ব্রিকস সভাপতি হিসেবে যেন তারা যুদ্ধ বন্ধে আরও সক্রিয় ও স্বাধীন ভূমিকা পালন করে।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

ব্রিকস সম্মেলন ‘মিনাব ১৬৮’ বিমানে দিল্লি পৌঁছালেন আরাগচি

Update Time : ১১:৫২:৫২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬

আব্বাস আরাগচি তিন দিনের সরকারি সফরে নয়াদিল্লি পৌঁছেছেন। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি শুরুর পর তেহরান থেকে এটি প্রথম উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক সফর হিসেবে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মূলত ব্রিকস সদস্য দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে অংশ নিতে ভারতে এসেছেন। তবে সফরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর-এর সঙ্গে তার দ্বিপাক্ষিক বৈঠককে।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত, মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট। বিশেষ করে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী যে বিমানে দিল্লিতে পৌঁছেছেন, তার নাম দেওয়া হয়েছে “মিনাব ১৬৮”। ইরানের মিনাব শহরের একটি স্কুলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত ১৬৮ শিক্ষার্থীর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বিমানের এই প্রতীকী নামকরণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আরাগচিকে স্বাগত জানিয়েছেন। এদিকে ভারতীয় কূটনৈতিক মহল মনে করছে, হরমুজ প্রণালিতে আটকে থাকা বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার বিষয়ে ভারত তেহরানের ওপর কূটনৈতিক চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হওয়ায় হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা এখন বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সফরকালে আরাগচি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি-র সঙ্গেও সাক্ষাৎ করবেন বলে জানা গেছে। এছাড়া ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজিম ঘারিবাবাদি বলেছেন, ব্রিকস জোটে ইরানের সক্রিয় অংশগ্রহণ বিশ্ব রাজনীতিতে একটি ন্যায়ভিত্তিক ভারসাম্য গড়ে তোলার কৌশলগত পদক্ষেপ।

তেহরান মনে করছে, ব্রিকস উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক কাঠামোয় সংস্কার আনার একটি বড় প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করতে পারে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রকেন্দ্রিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার বিকল্প হিসেবে স্বাধীন বাণিজ্য ও ব্যাংকিং কাঠামো তৈরির ওপরও জোর দিচ্ছে ইরান।

বর্তমানে ভারত ব্রিকসের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছে। আগামী সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠেয় শীর্ষ সম্মেলনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে এই বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত নিয়ে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য থাকায় একটি যৌথ বিবৃতি প্রণয়ন ভারতের জন্য বড় কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।

বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইরান-এর মধ্যে জ্বালানি অবকাঠামোকে ঘিরে উত্তেজনা এই ঐকমত্যের পথে নতুন বাধা তৈরি করেছে। তেহরান ইতোমধ্যে ভারতকে আহ্বান জানিয়েছে, বর্তমান ব্রিকস সভাপতি হিসেবে যেন তারা যুদ্ধ বন্ধে আরও সক্রিয় ও স্বাধীন ভূমিকা পালন করে।