সময়: মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এইচএসসি পদার্থবিজ্ঞান প্রশ্নে ত্রুটি:প্রশ্নপত্র চূড়ান্তের আগে কেন আরও সতর্কতা নয়?

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ১২:০২:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬
  • / ৮০ Time View

 

চলমান এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রের প্রশ্ন নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, তা গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করছে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটি। প্রশ্নে ত্রুটি বা অসঙ্গতি প্রমাণিত হলে ক্ষতিগ্রস্ত পরীক্ষার্থীদের স্বার্থ বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট প্রশ্নে পূর্ণ নম্বর দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে কমিটি।

সোমবার (১৩ জুলাই) আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক জেসমিন তাসলিমা বানু স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এইচএসসি পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রের সৃজনশীল অংশের ৬ ও ৭ নম্বর প্রশ্ন নিয়ে বিভিন্ন মাধ্যমে যে অভিযোগ উঠেছে, সে বিষয়ে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড অবগত রয়েছে। বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।

তবে প্রশ্ন উঠছে, একটি বোর্ড পরীক্ষার প্রশ্নপত্র চূড়ান্ত করার আগে এতগুলো ধাপ পার হওয়ার পরও কীভাবে প্রশ্নে ভুল বা অসঙ্গতি থেকে যায়? একটি বোর্ড পরীক্ষার প্রশ্ন শুধু একজন ব্যক্তির তৈরি নয়; এটি প্রণয়ন, যাচাই, পরিমার্জন ও চূড়ান্ত অনুমোদনের একাধিক ধাপের মধ্য দিয়ে যাওয়ার কথা। তাই চূড়ান্ত পরীক্ষার আগে আরও কঠোর মান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নির্ভর করে এসব পরীক্ষার ফলাফলের ওপর। প্রশ্নে কোনো ধরনের ভুল থাকলে তা শুধু একটি নম্বরের বিষয় নয়, বরং একজন শিক্ষার্থীর মেধা মূল্যায়ন, ফলাফল ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

আন্তঃশিক্ষা বোর্ড জানিয়েছে, পর্যালোচনায় যদি কোনো প্রশ্নে ত্রুটি প্রমাণিত হয়, তাহলে প্রচলিত মূল্যায়ন নীতিমালা অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের স্বার্থ সম্পূর্ণভাবে রক্ষা করা হবে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট দুটি প্রশ্নের জন্য পরীক্ষার্থীদের পূর্ণ নম্বর দেওয়া হবে।

শিক্ষাবিদদের মতে, ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে প্রশ্ন প্রণয়ন ও যাচাই প্রক্রিয়ায় আরও বেশি বিশেষজ্ঞ যুক্ত করা, একাধিক ধাপে প্রশ্ন পর্যালোচনা এবং চূড়ান্ত অনুমোদনের আগে বিশেষজ্ঞ কমিটির মতামত নেওয়া জরুরি।

পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটি শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের গুজব বা বিভ্রান্তিকর তথ্যে উদ্বিগ্ন না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। এখন সবার প্রত্যাশা, দ্রুত ও স্বচ্ছ পর্যালোচনার মাধ্যমে প্রকৃত বিষয়টি নিশ্চিত করা হবে এবং কোনো শিক্ষার্থী যেন অন্যায়ের শিকার না হয়।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

এইচএসসি পদার্থবিজ্ঞান প্রশ্নে ত্রুটি:প্রশ্নপত্র চূড়ান্তের আগে কেন আরও সতর্কতা নয়?

Update Time : ১২:০২:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

 

চলমান এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রের প্রশ্ন নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, তা গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করছে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটি। প্রশ্নে ত্রুটি বা অসঙ্গতি প্রমাণিত হলে ক্ষতিগ্রস্ত পরীক্ষার্থীদের স্বার্থ বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট প্রশ্নে পূর্ণ নম্বর দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে কমিটি।

সোমবার (১৩ জুলাই) আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক জেসমিন তাসলিমা বানু স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এইচএসসি পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রের সৃজনশীল অংশের ৬ ও ৭ নম্বর প্রশ্ন নিয়ে বিভিন্ন মাধ্যমে যে অভিযোগ উঠেছে, সে বিষয়ে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড অবগত রয়েছে। বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।

তবে প্রশ্ন উঠছে, একটি বোর্ড পরীক্ষার প্রশ্নপত্র চূড়ান্ত করার আগে এতগুলো ধাপ পার হওয়ার পরও কীভাবে প্রশ্নে ভুল বা অসঙ্গতি থেকে যায়? একটি বোর্ড পরীক্ষার প্রশ্ন শুধু একজন ব্যক্তির তৈরি নয়; এটি প্রণয়ন, যাচাই, পরিমার্জন ও চূড়ান্ত অনুমোদনের একাধিক ধাপের মধ্য দিয়ে যাওয়ার কথা। তাই চূড়ান্ত পরীক্ষার আগে আরও কঠোর মান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নির্ভর করে এসব পরীক্ষার ফলাফলের ওপর। প্রশ্নে কোনো ধরনের ভুল থাকলে তা শুধু একটি নম্বরের বিষয় নয়, বরং একজন শিক্ষার্থীর মেধা মূল্যায়ন, ফলাফল ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

আন্তঃশিক্ষা বোর্ড জানিয়েছে, পর্যালোচনায় যদি কোনো প্রশ্নে ত্রুটি প্রমাণিত হয়, তাহলে প্রচলিত মূল্যায়ন নীতিমালা অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের স্বার্থ সম্পূর্ণভাবে রক্ষা করা হবে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট দুটি প্রশ্নের জন্য পরীক্ষার্থীদের পূর্ণ নম্বর দেওয়া হবে।

শিক্ষাবিদদের মতে, ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে প্রশ্ন প্রণয়ন ও যাচাই প্রক্রিয়ায় আরও বেশি বিশেষজ্ঞ যুক্ত করা, একাধিক ধাপে প্রশ্ন পর্যালোচনা এবং চূড়ান্ত অনুমোদনের আগে বিশেষজ্ঞ কমিটির মতামত নেওয়া জরুরি।

পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটি শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের গুজব বা বিভ্রান্তিকর তথ্যে উদ্বিগ্ন না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। এখন সবার প্রত্যাশা, দ্রুত ও স্বচ্ছ পর্যালোচনার মাধ্যমে প্রকৃত বিষয়টি নিশ্চিত করা হবে এবং কোনো শিক্ষার্থী যেন অন্যায়ের শিকার না হয়।