সময়: রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ১৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শাহবাগ থানায় ডাকসু নেতাদের ওপর হামলার অভিযোগ, আইনের শাসন নিয়ে প্রশ্ন

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ০৭:৪৯:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬
  • / ১৪৪ Time View
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) দুপুরে ডাকসু ভবনের সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ভিপি সাদিক কায়েম। ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

 

রাজধানীর শাহবাগ থানা-তে ডাকসু নেতাদের মারধরের অভিযোগকে কেন্দ্র করে নতুন করে আইনের শাসন ও নাগরিক অধিকার নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)-এর ভিপি সাদিক কায়েম দাবি করেছেন, ডাকসু নেতা এ বি জুবায়ের ও মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদকে থানার গেট থেকে শুরু করে ওসির কক্ষ পর্যন্ত মারতে মারতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) দুপুরে ডাকসু ভবনের সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, থানায় প্রবেশের পর থেকেই তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তিনি প্রশ্ন তোলেন—একজন নাগরিক যদি থানার ভেতরেই আইনি সুরক্ষা না পান, তাহলে দেশে আইনের শাসন কোথায়?

ঘটনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরে তিনি জানান, আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ নামে এক শিক্ষার্থী নিজের নিরাপত্তার জন্য সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে থানায় গেলে তা গ্রহণ করা হয়নি। বরং তাকে দীর্ঘ সময় থানায় আটকে রাখা হয় এবং পরে অন্য থানায় স্থানান্তর করা হয়। পুলিশের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে ‘উপরের নির্দেশ’-এর কথা বলা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

এ ঘটনায় আহত ডাকসু নেতারা বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ চিকিৎসা নেওয়ার পর তারা এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে আছেন বলে জানা গেছে। গুরুতর আঘাতের কারণে তাদের সুস্থ হতে কিছুটা সময় লাগবে।

উল্লেখ্য, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যানের পরিবারের সদস্যকে নিয়ে আপত্তিকর পোস্ট ছড়িয়ে পড়ার প্রেক্ষিতে এই ঘটনার সূত্রপাত। সংশ্লিষ্ট স্ক্রিনশটটি ভুয়া দাবি করে থানায় অভিযোগ জানাতে গেলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং পরবর্তীতে এই হামলার অভিযোগ উঠে।

এই ঘটনার পর আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা, নাগরিক নিরাপত্তা এবং মতপ্রকাশের অধিকার নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা এখন সময়ের দাবিv

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

শাহবাগ থানায় ডাকসু নেতাদের ওপর হামলার অভিযোগ, আইনের শাসন নিয়ে প্রশ্ন

Update Time : ০৭:৪৯:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) দুপুরে ডাকসু ভবনের সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ভিপি সাদিক কায়েম। ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

 

রাজধানীর শাহবাগ থানা-তে ডাকসু নেতাদের মারধরের অভিযোগকে কেন্দ্র করে নতুন করে আইনের শাসন ও নাগরিক অধিকার নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)-এর ভিপি সাদিক কায়েম দাবি করেছেন, ডাকসু নেতা এ বি জুবায়ের ও মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদকে থানার গেট থেকে শুরু করে ওসির কক্ষ পর্যন্ত মারতে মারতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) দুপুরে ডাকসু ভবনের সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, থানায় প্রবেশের পর থেকেই তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তিনি প্রশ্ন তোলেন—একজন নাগরিক যদি থানার ভেতরেই আইনি সুরক্ষা না পান, তাহলে দেশে আইনের শাসন কোথায়?

ঘটনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরে তিনি জানান, আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ নামে এক শিক্ষার্থী নিজের নিরাপত্তার জন্য সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে থানায় গেলে তা গ্রহণ করা হয়নি। বরং তাকে দীর্ঘ সময় থানায় আটকে রাখা হয় এবং পরে অন্য থানায় স্থানান্তর করা হয়। পুলিশের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে ‘উপরের নির্দেশ’-এর কথা বলা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

এ ঘটনায় আহত ডাকসু নেতারা বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ চিকিৎসা নেওয়ার পর তারা এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে আছেন বলে জানা গেছে। গুরুতর আঘাতের কারণে তাদের সুস্থ হতে কিছুটা সময় লাগবে।

উল্লেখ্য, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যানের পরিবারের সদস্যকে নিয়ে আপত্তিকর পোস্ট ছড়িয়ে পড়ার প্রেক্ষিতে এই ঘটনার সূত্রপাত। সংশ্লিষ্ট স্ক্রিনশটটি ভুয়া দাবি করে থানায় অভিযোগ জানাতে গেলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং পরবর্তীতে এই হামলার অভিযোগ উঠে।

এই ঘটনার পর আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা, নাগরিক নিরাপত্তা এবং মতপ্রকাশের অধিকার নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা এখন সময়ের দাবিv