সময়: শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬, ১৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বীকৃতি পেল তালশহর কারিমিয়া ফাজিল মাদরাসা

বিল্লাল হোসেন
  • Update Time : ০৩:০৩:১৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬
  • / ৬৫ Time View

নিজস্ব প্রতিবেদক, ব্রাহ্মণবাড়িয়া:
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তালশহর কারিমিয়া ফাজিল মাদরাসা ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বীকৃতি অর্জন করে নতুন এক মাইলফলক স্পর্শ করেছে। দেশের অন্যতম সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর মধ্যে আনন্দের বন্যা বইছে।

সম্প্রতি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে মাদরাসাটিকে জেলার একমাত্র শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে নির্বাচিত করে সম্মাননা স্মারক ও সনদ প্রদান করা হয়। গত ৩০ জুন অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে তালশহর কারিমিয়া ফাজিল মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোহাম্মদ ইসমাঈল ভূঁইয়া ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছ থেকে এ সম্মাননা গ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টা ড. সি আর আবরার (আনু মুহাম্মদ)। এ সময় দেশের বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষাবিদ, মাদরাসা শিক্ষার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং শিক্ষা প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে ২০০৪ সালে জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহে জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ শ্রেণিশিক্ষক হিসেবে সনদপত্র ও স্বর্ণপদক অর্জন করেন বর্তমান ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোহাম্মদ ইসমাঈল ভূঁইয়া। এছাড়াও একই অনুষ্ঠানে এ মাদরাসার শিক্ষার্থী কারওয়ানা ইয়াসমিন ফাজিলা পরীক্ষায় জিপিএ-অর্জনকারী জেলার একমাত্র শিক্ষার্থী হিসেবে বিশেষ সম্মাননা লাভ করেন।

১৯৪৯ সালে এলাকার বিশিষ্ট দানবীর, শিক্ষানুরাগী ও ধর্মপ্রাণ ব্যক্তিত্ব আব্দুল হামিদ মুফতি-এর হাত ধরে প্রতিষ্ঠিত হয় তালশহর কারিমিয়া ফাজিল মাদরাসা। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে আসা এ প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থীর পদচারণায় মুখর।

মাদরাসাটিতে সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি দাখিল ও আলিম পর্যায়ে বিজ্ঞান বিভাগও চালু রয়েছে। প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে প্রবাসী ও স্থানীয় দাতাদের সহযোগিতা এবং এলাকাবাসীর আন্তরিক প্রচেষ্টা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

প্রতিষ্ঠানটি ইতোমধ্যে একাধিকবার জেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি অর্জন করেছে। এখান থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে বহু শিক্ষার্থী দেশ-বিদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করছে এবং সমাজ, দেশ ও জাতির কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে।

তালশহর কারিমিয়া ফাজিল মাদরাসার এ অর্জন শুধু ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার জন্যই নয়, বরং দেশের মাদরাসা শিক্ষার জন্যও একটি গৌরবোজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। স্থানীয়রা আশা করছেন, ভবিষ্যতেও প্রতিষ্ঠানটি শিক্ষা, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধের বিকাশে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

বিল্লাল হোসেন

বিল্লাল হোসেন, একজন প্রজ্ঞাবান পেশাজীবী, যিনি গণিতের ওপর স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন এবং ব্যাংকার, অর্থনীতিবিদ, ও মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ বিশেষজ্ঞ হিসেবে একটি সমৃদ্ধ ও বহুমুখী ক্যারিয়ার গড়ে তুলেছেন। তার আর্থিক খাতে যাত্রা তাকে নেতৃত্বের ভূমিকায় নিয়ে গেছে, বিশেষ করে সৌদি আরবের আল-রাজি ব্যাংকিং Inc. এবং ব্যাংক-আল-বিলাদে বিদেশী সম্পর্ক ও করেসপন্ডেন্ট মেইন্টেনেন্স অফিসার হিসেবে। প্রথাগত অর্থনীতির গণ্ডির বাইরে, বিল্লাল একজন প্রখ্যাত লেখক ও বিশ্লেষক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন, বিভিন্ন পত্রিকা ও অনলাইন পোর্টালে মননশীল কলাম ও গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপন করে। তার দক্ষতা বিস্তৃত বিষয় জুড়ে রয়েছে, যেমন অর্থনীতির জটিলতা, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, প্রবাসী শ্রমিকদের দুঃখ-কষ্ট, রেমিটেন্স, রিজার্ভ এবং অন্যান্য সম্পর্কিত দিক। বিল্লাল তার লেখায় একটি অনন্য বিশ্লেষণাত্মক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে আসেন, যা ব্যাংকিং ক্যারিয়ারে অর্জিত বাস্তব জ্ঞানকে একত্রিত করে একাডেমিক কঠোরতার সাথে। তার প্রবন্ধগুলো শুধুমাত্র জটিল বিষয়গুলির উপর গভীর বোঝাপড়ার প্রতিফলন নয়, বরং পাঠকদের জন্য জ্ঞানপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি প্রদান করে, যা তত্ত্ব ও বাস্তব প্রয়োগের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করে। বিল্লাল হোসেনের অবদান তার প্রতিশ্রুতি প্রদর্শন করে যে, তিনি আমাদের আন্তঃসংযুক্ত বিশ্বের জটিলতাগুলি উন্মোচন করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যা বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটের একটি বিস্তৃত এবং আরও সূক্ষ্ম বোঝাপড়ার দিকে মূল্যবান অন্তর্দৃষ্টি প্রদান করে।

ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বীকৃতি পেল তালশহর কারিমিয়া ফাজিল মাদরাসা

Update Time : ০৩:০৩:১৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক, ব্রাহ্মণবাড়িয়া:
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তালশহর কারিমিয়া ফাজিল মাদরাসা ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বীকৃতি অর্জন করে নতুন এক মাইলফলক স্পর্শ করেছে। দেশের অন্যতম সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর মধ্যে আনন্দের বন্যা বইছে।

সম্প্রতি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে মাদরাসাটিকে জেলার একমাত্র শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে নির্বাচিত করে সম্মাননা স্মারক ও সনদ প্রদান করা হয়। গত ৩০ জুন অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে তালশহর কারিমিয়া ফাজিল মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোহাম্মদ ইসমাঈল ভূঁইয়া ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছ থেকে এ সম্মাননা গ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টা ড. সি আর আবরার (আনু মুহাম্মদ)। এ সময় দেশের বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষাবিদ, মাদরাসা শিক্ষার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং শিক্ষা প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে ২০০৪ সালে জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহে জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ শ্রেণিশিক্ষক হিসেবে সনদপত্র ও স্বর্ণপদক অর্জন করেন বর্তমান ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোহাম্মদ ইসমাঈল ভূঁইয়া। এছাড়াও একই অনুষ্ঠানে এ মাদরাসার শিক্ষার্থী কারওয়ানা ইয়াসমিন ফাজিলা পরীক্ষায় জিপিএ-অর্জনকারী জেলার একমাত্র শিক্ষার্থী হিসেবে বিশেষ সম্মাননা লাভ করেন।

১৯৪৯ সালে এলাকার বিশিষ্ট দানবীর, শিক্ষানুরাগী ও ধর্মপ্রাণ ব্যক্তিত্ব আব্দুল হামিদ মুফতি-এর হাত ধরে প্রতিষ্ঠিত হয় তালশহর কারিমিয়া ফাজিল মাদরাসা। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে আসা এ প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থীর পদচারণায় মুখর।

মাদরাসাটিতে সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি দাখিল ও আলিম পর্যায়ে বিজ্ঞান বিভাগও চালু রয়েছে। প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে প্রবাসী ও স্থানীয় দাতাদের সহযোগিতা এবং এলাকাবাসীর আন্তরিক প্রচেষ্টা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

প্রতিষ্ঠানটি ইতোমধ্যে একাধিকবার জেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি অর্জন করেছে। এখান থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে বহু শিক্ষার্থী দেশ-বিদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করছে এবং সমাজ, দেশ ও জাতির কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে।

তালশহর কারিমিয়া ফাজিল মাদরাসার এ অর্জন শুধু ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার জন্যই নয়, বরং দেশের মাদরাসা শিক্ষার জন্যও একটি গৌরবোজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। স্থানীয়রা আশা করছেন, ভবিষ্যতেও প্রতিষ্ঠানটি শিক্ষা, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধের বিকাশে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।