সময়: সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

লিবিয়া থেকে গ্রিস যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা: ৯ বাংলাদেশিসহ ১০ জনের মৃত্যু

অনলাইন ডেস্ক
  • Update Time : ১২:১৮:০২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬
  • / ৫৯ Time View

 

ভূমধ্যসাগরে গ্রিসগামী একটি অভিবাসীবাহী নৌকা দিকভ্রষ্ট হয়ে সাগরে ১০ দিন ভেসে থাকার পর ২৯ জন বাংলাদেশিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় ৯ জন বাংলাদেশি ও ১ জন সুদানি নাগরিকসহ মোট ১০ জনের প্রাণহানি ঘটেছে।

মিশরের মারসা মাতরুহ উপকূল থেকে উদ্ধারের পর জীবিতদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। রোববার (১৬ আগস্ট) কায়রোতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রথম সচিব (শ্রম) মো. জাকির হোসেন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।

 

ঘটনার প্রেক্ষাপট সমুদ্রযাত্রার বিবরণ

মানবপাচারকারী চক্রের প্রলোভনে পড়ে লিবিয়া হয়ে ইউরোপে পৌঁছানোর উদ্দেশ্যে অভিবাসনপ্রত্যাশীরা এই ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রা শুরু করেছিলেন।

 

  • যাত্রার সূচনা: গত ৩ আগস্ট ৩৮ জন বাংলাদেশি এবং ৪ জন সুদানি নাগরিকসহ মোট ৪২ জন যাত্রী লিবিয়ার তবরুক উপকূল থেকে একটি রাবারের নৌকায় গ্রিসের উদ্দেশে রওনা হন।
  • প্রযুক্তিগত ত্রুটি: নৌকাটি একটি সাধারণ স্পিডবোটের ইঞ্জিন দিয়ে চালানো হচ্ছিল এবং এতে দিকনির্ণয়ের জন্য কোনো উপযুক্ত নেভিগেশন ব্যবস্থা ছিল না।
  • প্রতারণা বিভীষিকা: পাচারকারীরা যাত্রীদের জানিয়েছিল ৩৬ ঘণ্টার মধ্যেই তারা গ্রিস পৌঁছে যাবেন। কিন্তু নেভিগেশন ব্যবস্থা না থাকায় সমুদ্রের মাঝপথে নৌকাটি দিক হারিয়ে ফেলে। একপর্যায়ে জ্বালানি শেষ হয়ে গেলে নৌকাটি গভীর সাগরে নিয়ন্ত্রণহীনভাবে ভাসতে থাকে।

১০ দিনের চরম দুর্ভোগ করুণ পরিণতি

টানা ১০ দিন তীব্র রোদ, প্রচণ্ড গরম এবং খাবার ও পানির চরম সংকটে সাগরে ভেসে থাকার সময় যাত্রীরা একে একে অসুস্থ হয়ে পড়েন। কায়রো দূতাবাসের কর্মকর্তারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বাংলাদেশি নাগরিক আব্দুল করিমের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার রোমহর্ষক বিবরণ জানতে পারেন।

  • তীব্র সংকট: সাগরে পানীয় জল ও খাবারের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় পুষ্টিহীনতা ও ডিহাইড্রেশনে ৯ বাংলাদেশি ও ১ জন সুদানি নাগরিকের মৃত্যু হয়।

 

  • মরদেহের পরিণতি: দীর্ঘ সময় সমুদ্রে অবস্থান করায় মৃতদেহগুলোতে পচন ধরতে শুরু করে। বাধ্য হয়ে জীবিত যাত্রীরা নিহতদের মরদেহ সাগরে ভাসিয়ে দেন।

উদ্ধার অভিযান বর্তমান অবস্থা

গত ১৩ আগস্ট নৌকাটি দিক হারিয়ে ভাসতে ভাসতে মিশরের মারসা মাতরুহ উপকূলে পৌঁছালে স্থানীয় পুলিশ দ্রুত উদ্ধার অভিযান চালায়।

  • হাসপাতালে ভর্তি: উদ্ধারের সময় ১৮ জনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক ছিল এবং তারা অচেতন অবস্থায় ছিলেন। তাঁদের দ্রুত মারসা মাতরুহ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
  • চিকিৎসাধীন ২৯ জন: বর্তমানে পুলিশের তথ্যমতে জীবিত ২৯ জন বাংলাদেশি নাগরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং তাঁদের স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ প্রত্যাবাসন

মিশরস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস জানিয়েছে, চিকিৎসাধীন বাংলাদেশিরা সুস্থ হওয়ার পর স্থানীয় আইন এবং প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাঁদের যত দ্রুত সম্ভব নিরাপদভাবে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

লিবিয়া থেকে গ্রিস যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা: ৯ বাংলাদেশিসহ ১০ জনের মৃত্যু

Update Time : ১২:১৮:০২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬

 

ভূমধ্যসাগরে গ্রিসগামী একটি অভিবাসীবাহী নৌকা দিকভ্রষ্ট হয়ে সাগরে ১০ দিন ভেসে থাকার পর ২৯ জন বাংলাদেশিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় ৯ জন বাংলাদেশি ও ১ জন সুদানি নাগরিকসহ মোট ১০ জনের প্রাণহানি ঘটেছে।

মিশরের মারসা মাতরুহ উপকূল থেকে উদ্ধারের পর জীবিতদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। রোববার (১৬ আগস্ট) কায়রোতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রথম সচিব (শ্রম) মো. জাকির হোসেন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।

 

ঘটনার প্রেক্ষাপট সমুদ্রযাত্রার বিবরণ

মানবপাচারকারী চক্রের প্রলোভনে পড়ে লিবিয়া হয়ে ইউরোপে পৌঁছানোর উদ্দেশ্যে অভিবাসনপ্রত্যাশীরা এই ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রা শুরু করেছিলেন।

 

  • যাত্রার সূচনা: গত ৩ আগস্ট ৩৮ জন বাংলাদেশি এবং ৪ জন সুদানি নাগরিকসহ মোট ৪২ জন যাত্রী লিবিয়ার তবরুক উপকূল থেকে একটি রাবারের নৌকায় গ্রিসের উদ্দেশে রওনা হন।
  • প্রযুক্তিগত ত্রুটি: নৌকাটি একটি সাধারণ স্পিডবোটের ইঞ্জিন দিয়ে চালানো হচ্ছিল এবং এতে দিকনির্ণয়ের জন্য কোনো উপযুক্ত নেভিগেশন ব্যবস্থা ছিল না।
  • প্রতারণা বিভীষিকা: পাচারকারীরা যাত্রীদের জানিয়েছিল ৩৬ ঘণ্টার মধ্যেই তারা গ্রিস পৌঁছে যাবেন। কিন্তু নেভিগেশন ব্যবস্থা না থাকায় সমুদ্রের মাঝপথে নৌকাটি দিক হারিয়ে ফেলে। একপর্যায়ে জ্বালানি শেষ হয়ে গেলে নৌকাটি গভীর সাগরে নিয়ন্ত্রণহীনভাবে ভাসতে থাকে।

১০ দিনের চরম দুর্ভোগ করুণ পরিণতি

টানা ১০ দিন তীব্র রোদ, প্রচণ্ড গরম এবং খাবার ও পানির চরম সংকটে সাগরে ভেসে থাকার সময় যাত্রীরা একে একে অসুস্থ হয়ে পড়েন। কায়রো দূতাবাসের কর্মকর্তারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বাংলাদেশি নাগরিক আব্দুল করিমের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার রোমহর্ষক বিবরণ জানতে পারেন।

  • তীব্র সংকট: সাগরে পানীয় জল ও খাবারের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় পুষ্টিহীনতা ও ডিহাইড্রেশনে ৯ বাংলাদেশি ও ১ জন সুদানি নাগরিকের মৃত্যু হয়।

 

  • মরদেহের পরিণতি: দীর্ঘ সময় সমুদ্রে অবস্থান করায় মৃতদেহগুলোতে পচন ধরতে শুরু করে। বাধ্য হয়ে জীবিত যাত্রীরা নিহতদের মরদেহ সাগরে ভাসিয়ে দেন।

উদ্ধার অভিযান বর্তমান অবস্থা

গত ১৩ আগস্ট নৌকাটি দিক হারিয়ে ভাসতে ভাসতে মিশরের মারসা মাতরুহ উপকূলে পৌঁছালে স্থানীয় পুলিশ দ্রুত উদ্ধার অভিযান চালায়।

  • হাসপাতালে ভর্তি: উদ্ধারের সময় ১৮ জনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক ছিল এবং তারা অচেতন অবস্থায় ছিলেন। তাঁদের দ্রুত মারসা মাতরুহ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
  • চিকিৎসাধীন ২৯ জন: বর্তমানে পুলিশের তথ্যমতে জীবিত ২৯ জন বাংলাদেশি নাগরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং তাঁদের স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ প্রত্যাবাসন

মিশরস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস জানিয়েছে, চিকিৎসাধীন বাংলাদেশিরা সুস্থ হওয়ার পর স্থানীয় আইন এবং প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাঁদের যত দ্রুত সম্ভব নিরাপদভাবে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।