সময়: শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬, ১৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পে-স্কেল নিয়ে নানা জল্পনা, বাস্তবায়নে এখনো অনিশ্চয়তা

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ০৩:১৭:০২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬
  • / ৫০ Time View

 

নতুন অর্থবছর থেকে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন পে-স্কেল কার্যকরের ঘোষণা দেওয়া হলেও এখনো এ-সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশ হয়নি। ফলে বেতন কত বাড়বে, কোন গ্রেডে কী ধরনের পরিবর্তন আসবে এবং কবে থেকে নতুন কাঠামো কার্যকর হবে—এসব নিয়ে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ব্যাপক জল্পনা-কল্পনা তৈরি হয়েছে।

সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতা, মূল্যস্ফীতি এবং বাজেট সক্ষমতা বিবেচনায় নতুন বেতন কাঠামো ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। তবে জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশ হুবহু বাস্তবায়ন করা হবে নাকি সংশোধিত কোনো কাঠামো গ্রহণ করা হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।

এ লক্ষ্যে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বে গঠিত ১০ সদস্যের উচ্চপর্যায়ের কমিটি ইতোমধ্যে একটি খসড়া রূপরেখা প্রস্তুত করেছে। কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে বর্তমানে চূড়ান্ত গেজেট প্রণয়নের কাজ চলছে। সরকার এখন বিশ্লেষণ করছে, কত ধাপে বেতন বৃদ্ধি করা হবে এবং এর ফলে সম্ভাব্য মূল্যস্ফীতির চাপ কীভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব হবে।

প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর জানিয়েছেন, নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি এবং দেশের আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়েই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, প্রথম ধাপে মূল বেতন বা বেসিক বেতন বৃদ্ধি করা হতে পারে। তবে গেজেট প্রকাশের নির্দিষ্ট তারিখ কিংবা গ্রেডভিত্তিক বেতন বৃদ্ধির পরিমাণ সম্পর্কে তিনি কোনো সুস্পষ্ট তথ্য দেননি।

এর আগে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী জাতীয় সংসদে বাজেট বক্তব্যে উল্লেখ করেন, প্রায় ১১ বছর ধরে সরকারি চাকরিজীবীরা একই বেতন কাঠামোর আওতায় রয়েছেন, অথচ এই সময়ে জীবনযাত্রার ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সে কারণেই ১ জুলাই ২০২৬ থেকে নতুন বেতন কাঠামো পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, প্রশাসনিক ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে কিছুটা সময় লাগায় গেজেট প্রকাশে বিলম্ব হচ্ছে। তবে চলতি মাসের মাঝামাঝি কিংবা শেষ সপ্তাহে গেজেট প্রকাশের সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে গেজেট প্রকাশে বিলম্ব হলেও বকেয়াসহ বেতন-ভাতা সমন্বয়ের বিষয়টি সরকারের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে।

উল্লেখ্য, দেশে সর্বশেষ জাতীয় বেতন স্কেল কার্যকর হয়েছিল ২০১৫ সালে। এরপর প্রতি বছর ৫ শতাংশ হারে বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট যুক্ত হলেও নতুন কোনো পূর্ণাঙ্গ পে-স্কেল ঘোষণা করা হয়নি। দীর্ঘ এক যুগের এই অচলাবস্থা কাটাতে ‘জাতীয় বেতন কমিশন-২০২৫’ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির সুপারিশ করে।

কমিশনের প্রস্তাব অনুযায়ী, সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে। পাশাপাশি বৈশাখী ভাতা ২০ শতাংশ থেকে ৫০ শতাংশে উন্নীত করা এবং নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের যাতায়াত ভাতায় বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

তবে এসব সুপারিশ পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন করতে সরকারের অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হবে, যা জাতীয় বাজেটের ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

অর্থনীতিবিদ ও অবসরপ্রাপ্ত প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের মতে, দীর্ঘদিন পর সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন কাঠামো পুনর্বিন্যাস এখন সময়ের দাবি। তবে এটি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি, মূল্যস্ফীতি এবং সরকারি আর্থিক সক্ষমতার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা জরুরি।

সূত্র: বিবিসি বাংলা

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

পে-স্কেল নিয়ে নানা জল্পনা, বাস্তবায়নে এখনো অনিশ্চয়তা

Update Time : ০৩:১৭:০২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬

 

নতুন অর্থবছর থেকে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন পে-স্কেল কার্যকরের ঘোষণা দেওয়া হলেও এখনো এ-সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশ হয়নি। ফলে বেতন কত বাড়বে, কোন গ্রেডে কী ধরনের পরিবর্তন আসবে এবং কবে থেকে নতুন কাঠামো কার্যকর হবে—এসব নিয়ে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ব্যাপক জল্পনা-কল্পনা তৈরি হয়েছে।

সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতা, মূল্যস্ফীতি এবং বাজেট সক্ষমতা বিবেচনায় নতুন বেতন কাঠামো ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। তবে জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশ হুবহু বাস্তবায়ন করা হবে নাকি সংশোধিত কোনো কাঠামো গ্রহণ করা হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।

এ লক্ষ্যে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বে গঠিত ১০ সদস্যের উচ্চপর্যায়ের কমিটি ইতোমধ্যে একটি খসড়া রূপরেখা প্রস্তুত করেছে। কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে বর্তমানে চূড়ান্ত গেজেট প্রণয়নের কাজ চলছে। সরকার এখন বিশ্লেষণ করছে, কত ধাপে বেতন বৃদ্ধি করা হবে এবং এর ফলে সম্ভাব্য মূল্যস্ফীতির চাপ কীভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব হবে।

প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর জানিয়েছেন, নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি এবং দেশের আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়েই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, প্রথম ধাপে মূল বেতন বা বেসিক বেতন বৃদ্ধি করা হতে পারে। তবে গেজেট প্রকাশের নির্দিষ্ট তারিখ কিংবা গ্রেডভিত্তিক বেতন বৃদ্ধির পরিমাণ সম্পর্কে তিনি কোনো সুস্পষ্ট তথ্য দেননি।

এর আগে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী জাতীয় সংসদে বাজেট বক্তব্যে উল্লেখ করেন, প্রায় ১১ বছর ধরে সরকারি চাকরিজীবীরা একই বেতন কাঠামোর আওতায় রয়েছেন, অথচ এই সময়ে জীবনযাত্রার ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সে কারণেই ১ জুলাই ২০২৬ থেকে নতুন বেতন কাঠামো পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, প্রশাসনিক ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে কিছুটা সময় লাগায় গেজেট প্রকাশে বিলম্ব হচ্ছে। তবে চলতি মাসের মাঝামাঝি কিংবা শেষ সপ্তাহে গেজেট প্রকাশের সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে গেজেট প্রকাশে বিলম্ব হলেও বকেয়াসহ বেতন-ভাতা সমন্বয়ের বিষয়টি সরকারের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে।

উল্লেখ্য, দেশে সর্বশেষ জাতীয় বেতন স্কেল কার্যকর হয়েছিল ২০১৫ সালে। এরপর প্রতি বছর ৫ শতাংশ হারে বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট যুক্ত হলেও নতুন কোনো পূর্ণাঙ্গ পে-স্কেল ঘোষণা করা হয়নি। দীর্ঘ এক যুগের এই অচলাবস্থা কাটাতে ‘জাতীয় বেতন কমিশন-২০২৫’ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির সুপারিশ করে।

কমিশনের প্রস্তাব অনুযায়ী, সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে। পাশাপাশি বৈশাখী ভাতা ২০ শতাংশ থেকে ৫০ শতাংশে উন্নীত করা এবং নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের যাতায়াত ভাতায় বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

তবে এসব সুপারিশ পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন করতে সরকারের অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হবে, যা জাতীয় বাজেটের ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

অর্থনীতিবিদ ও অবসরপ্রাপ্ত প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের মতে, দীর্ঘদিন পর সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন কাঠামো পুনর্বিন্যাস এখন সময়ের দাবি। তবে এটি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি, মূল্যস্ফীতি এবং সরকারি আর্থিক সক্ষমতার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা জরুরি।

সূত্র: বিবিসি বাংলা