সময়: রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ১৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পাবলিক পরীক্ষায় ‘সাইলেন্ট এক্সপেল’ প্রথা থাকছে না: শিক্ষামন্ত্রী

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ০৫:৪৫:৫১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬
  • / ২০২ Time View

পাবলিক পরীক্ষাকে ঘিরে দীর্ঘদিনের একটি বিতর্কিত প্রথার অবসান ঘটাতে যাচ্ছে সরকার। শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন ঘোষণা দিয়েছেন—এবার থেকে ‘সাইলেন্ট এক্সপেল’ বা নীরব বহিষ্কারের কোনো সুযোগ থাকবে না। যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া কোনো শিক্ষার্থীকে শাস্তি দেওয়া যাবে না—এই সিদ্ধান্ত শুধু একটি প্রশাসনিক পরিবর্তন নয়, বরং শিক্ষাব্যবস্থায় ন্যায়বিচার ও স্বচ্ছতার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ ছিল, কিছু ক্ষেত্রে পরীক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ ছাড়াই বা যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে বহিষ্কারের মতো কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হতো। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভীতি, অনিশ্চয়তা এবং অবিচারের আশঙ্কা তৈরি হতো। “নীরব বহিষ্কার” নামক এই প্রথা মূলত স্বচ্ছতার পরিপন্থী এবং আইনের দৃষ্টিতে প্রশ্নবিদ্ধ ছিল—যা অবশেষে স্বীকার করল সরকার নিজেই।

শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, শাস্তি দিতে হলে অবশ্যই ‘ডিউ প্রসেস’ বা সুনির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। অর্থাৎ, পরীক্ষাকক্ষে কোনো অনিয়ম হলে সেটি সেখানেই প্রমাণিত হতে হবে, এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিতে হবে। এই নীতি প্রতিষ্ঠিত হলে শিক্ষার্থীদের অধিকার সুরক্ষিত হবে এবং পরীক্ষা ব্যবস্থার ওপর আস্থা বাড়বে।

এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—সরকার কেবল নিয়ম বাতিল করেই থেমে থাকেনি, বরং পুরনো নীতিমালার অসঙ্গতিগুলো চিহ্নিত করে তা সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে। ১৯৬১ সালের পুরনো নীতিমালা থেকে আসা বিভ্রান্তি এবং বিতর্কিত ধারা বাতিল করার সিদ্ধান্ত সময়োপযোগী বলেই বিবেচিত হবে।

তবে প্রশ্ন থেকে যায়—শুধু নীতিমালা পরিবর্তন করলেই কি সমস্যার সমাধান হবে? বাস্তবে অনেক সময় দেখা যায়, ভালো নীতিও কার্যকর বাস্তবায়নের অভাবে ব্যর্থ হয়। তাই এই সিদ্ধান্তের সফলতা নির্ভর করবে মাঠপর্যায়ে এর সঠিক প্রয়োগের ওপর। শিক্ষা বোর্ড, কেন্দ্র সচিব এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকরা কতটা সততা ও দক্ষতার সঙ্গে এই নীতি অনুসরণ করেন, সেটিই হবে মূল চ্যালেঞ্জ।

শিক্ষামন্ত্রী যে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বলেছেন—কঠোরতা শিক্ষার্থীদের জন্য নয়, বরং দায়িত্বপ্রাপ্তদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জন্য—তা বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, একটি সুস্থ শিক্ষা ব্যবস্থায় শিক্ষার্থী নয়, বরং ব্যবস্থাপনাই হওয়া উচিত দায়বদ্ধতার কেন্দ্রবিন্দু।

একই সঙ্গে আসন্ন এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষাকে ঘিরে সরকারের প্রস্তুতির কথাও ইতিবাচক বার্তা দেয়। যদি এই পরীক্ষাগুলো স্বচ্ছ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা যায়, তবে তা শিক্ষাব্যবস্থার প্রতি আস্থা পুনর্গঠনে সহায়ক হবে।

সর্বোপরি বলা যায়, ‘সাইলেন্ট এক্সপেল’ প্রথা বাতিলের সিদ্ধান্ত শিক্ষাব্যবস্থায় ন্যায়, স্বচ্ছতা এবং মানবিকতার একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে। তবে এই উদ্যোগকে বাস্তব অর্থে সফল করতে হলে প্রয়োজন কঠোর মনিটরিং, জবাবদিহিতা এবং নীতির সঠিক প্রয়োগ।

শিক্ষার্থীরা যেন ভয়ের মধ্যে নয়, আত্মবিশ্বাস নিয়ে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারে—এই লক্ষ্য অর্জনই হওয়া উচিত সরকারের পরবর্তী অগ্রাধিকার।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

পাবলিক পরীক্ষায় ‘সাইলেন্ট এক্সপেল’ প্রথা থাকছে না: শিক্ষামন্ত্রী

Update Time : ০৫:৪৫:৫১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

পাবলিক পরীক্ষাকে ঘিরে দীর্ঘদিনের একটি বিতর্কিত প্রথার অবসান ঘটাতে যাচ্ছে সরকার। শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন ঘোষণা দিয়েছেন—এবার থেকে ‘সাইলেন্ট এক্সপেল’ বা নীরব বহিষ্কারের কোনো সুযোগ থাকবে না। যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া কোনো শিক্ষার্থীকে শাস্তি দেওয়া যাবে না—এই সিদ্ধান্ত শুধু একটি প্রশাসনিক পরিবর্তন নয়, বরং শিক্ষাব্যবস্থায় ন্যায়বিচার ও স্বচ্ছতার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ ছিল, কিছু ক্ষেত্রে পরীক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ ছাড়াই বা যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে বহিষ্কারের মতো কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হতো। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভীতি, অনিশ্চয়তা এবং অবিচারের আশঙ্কা তৈরি হতো। “নীরব বহিষ্কার” নামক এই প্রথা মূলত স্বচ্ছতার পরিপন্থী এবং আইনের দৃষ্টিতে প্রশ্নবিদ্ধ ছিল—যা অবশেষে স্বীকার করল সরকার নিজেই।

শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, শাস্তি দিতে হলে অবশ্যই ‘ডিউ প্রসেস’ বা সুনির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। অর্থাৎ, পরীক্ষাকক্ষে কোনো অনিয়ম হলে সেটি সেখানেই প্রমাণিত হতে হবে, এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিতে হবে। এই নীতি প্রতিষ্ঠিত হলে শিক্ষার্থীদের অধিকার সুরক্ষিত হবে এবং পরীক্ষা ব্যবস্থার ওপর আস্থা বাড়বে।

এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—সরকার কেবল নিয়ম বাতিল করেই থেমে থাকেনি, বরং পুরনো নীতিমালার অসঙ্গতিগুলো চিহ্নিত করে তা সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে। ১৯৬১ সালের পুরনো নীতিমালা থেকে আসা বিভ্রান্তি এবং বিতর্কিত ধারা বাতিল করার সিদ্ধান্ত সময়োপযোগী বলেই বিবেচিত হবে।

তবে প্রশ্ন থেকে যায়—শুধু নীতিমালা পরিবর্তন করলেই কি সমস্যার সমাধান হবে? বাস্তবে অনেক সময় দেখা যায়, ভালো নীতিও কার্যকর বাস্তবায়নের অভাবে ব্যর্থ হয়। তাই এই সিদ্ধান্তের সফলতা নির্ভর করবে মাঠপর্যায়ে এর সঠিক প্রয়োগের ওপর। শিক্ষা বোর্ড, কেন্দ্র সচিব এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকরা কতটা সততা ও দক্ষতার সঙ্গে এই নীতি অনুসরণ করেন, সেটিই হবে মূল চ্যালেঞ্জ।

শিক্ষামন্ত্রী যে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বলেছেন—কঠোরতা শিক্ষার্থীদের জন্য নয়, বরং দায়িত্বপ্রাপ্তদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জন্য—তা বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, একটি সুস্থ শিক্ষা ব্যবস্থায় শিক্ষার্থী নয়, বরং ব্যবস্থাপনাই হওয়া উচিত দায়বদ্ধতার কেন্দ্রবিন্দু।

একই সঙ্গে আসন্ন এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষাকে ঘিরে সরকারের প্রস্তুতির কথাও ইতিবাচক বার্তা দেয়। যদি এই পরীক্ষাগুলো স্বচ্ছ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা যায়, তবে তা শিক্ষাব্যবস্থার প্রতি আস্থা পুনর্গঠনে সহায়ক হবে।

সর্বোপরি বলা যায়, ‘সাইলেন্ট এক্সপেল’ প্রথা বাতিলের সিদ্ধান্ত শিক্ষাব্যবস্থায় ন্যায়, স্বচ্ছতা এবং মানবিকতার একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে। তবে এই উদ্যোগকে বাস্তব অর্থে সফল করতে হলে প্রয়োজন কঠোর মনিটরিং, জবাবদিহিতা এবং নীতির সঠিক প্রয়োগ।

শিক্ষার্থীরা যেন ভয়ের মধ্যে নয়, আত্মবিশ্বাস নিয়ে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারে—এই লক্ষ্য অর্জনই হওয়া উচিত সরকারের পরবর্তী অগ্রাধিকার।