সময়: রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ১৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরানের হামলার মুখে পিছু হটলো মার্কিন ডেস্ট্রয়ার

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ১১:০৫:১৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৮ মে ২০২৬
  • / ১১৮ Time View
হরমুজ প্রণালিতে অভিযান চালাচ্ছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী। ছবি: প্রেস টিভি

 

পারস্য উপসাগরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত জলপথ হরমুজ প্রণালিতে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করেছে। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তাদের ব্যাপক যৌথ সামরিক অভিযানের মুখে মার্কিন নৌবাহিনীর তিনটি ডেস্ট্রয়ার যুদ্ধজাহাজ হরমুজ এলাকা ছেড়ে পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৭ মে) সন্ধ্যায় পরিচালিত এই অভিযানের বিষয়ে আইআরজিসি নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, ইরানের পানিসীমার কাছাকাছি মার্কিন উসকানিমূলক তৎপরতার জবাব হিসেবেই এই অভিযান চালানো হয়েছে। ইরানি বাহিনীর দাবি, হামলায় মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলোর উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং প্রবল আঘাতের মুখে তারা দ্রুত এলাকা ত্যাগ করে।

আইআরজিসি নৌবাহিনীর কমান্ডার জানান, সাম্প্রতিক দুটি ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। প্রথমত, জাস্ক বন্দরের কাছে একটি ইরানি তেলবাহী ট্যাংকারে মার্কিন হামলার অভিযোগ আনে তেহরান। দ্বিতীয়ত, ইরানের সতর্কতা উপেক্ষা করে মার্কিন নৌবাহিনীর তিনটি ডেস্ট্রয়ার হরমুজ প্রণালির দিকে অগ্রসর হতে থাকে। এই পরিস্থিতিকে ইরান নিজেদের সার্বভৌমত্বের জন্য সরাসরি হুমকি হিসেবে বিবেচনা করে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, অভিযানে জাহাজ বিধ্বংসী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং বিস্ফোরকবাহী ড্রোন ব্যবহার করা হয়। ইরানি বাহিনীর দাবি অনুযায়ী, অত্যন্ত নিখুঁত সমন্বয়ের মাধ্যমে সরাসরি মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। ইরানের গোয়েন্দা পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থায় মার্কিন সামরিক সম্পদের ‘মারাত্মক ক্ষয়ক্ষতি’ শনাক্ত হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

আইআরজিসির ভাষ্যমতে, ভয়াবহ হামলার মুখে টিকতে না পেরে মার্কিন ডেস্ট্রয়ারগুলো দ্রুত হরমুজ প্রণালি এলাকা ত্যাগ করে। এই ঘটনার মাধ্যমে ইরান আবারও দেখিয়ে দিয়েছে যে, তাদের সামুদ্রিক সীমান্তে কোনো ধরনের সামরিক আগ্রাসন বা অনধিকার প্রবেশ বরদাশত করা হবে না।

খাতাম আল-আম্বিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তরের মুখপাত্র ইব্রাহিম জোলফাগারি মার্কিন পদক্ষেপকে ‘সামুদ্রিক দস্যুতা’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের বুঝতে হবে যে, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান যেকোনো আগ্রাসনের বিরুদ্ধে কঠোর ও চূড়ান্ত জবাব দিতে প্রস্তুত।

বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট হরমুজ প্রণালিতে এই ধরনের সামরিক সংঘাত বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করতে পারে। কারণ বিশ্বের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ তেল ও গ্যাস প্রতিদিন এই জলপথ দিয়েই পরিবাহিত হয়। ফলে এ অঞ্চলে উত্তেজনা বাড়লে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম আরও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এদিকে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানের এই দাবির বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। তবে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা এবং সামরিক অবস্থানকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক মহলে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

ইরানের হামলার মুখে পিছু হটলো মার্কিন ডেস্ট্রয়ার

Update Time : ১১:০৫:১৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৮ মে ২০২৬
হরমুজ প্রণালিতে অভিযান চালাচ্ছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী। ছবি: প্রেস টিভি

 

পারস্য উপসাগরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত জলপথ হরমুজ প্রণালিতে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করেছে। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তাদের ব্যাপক যৌথ সামরিক অভিযানের মুখে মার্কিন নৌবাহিনীর তিনটি ডেস্ট্রয়ার যুদ্ধজাহাজ হরমুজ এলাকা ছেড়ে পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৭ মে) সন্ধ্যায় পরিচালিত এই অভিযানের বিষয়ে আইআরজিসি নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, ইরানের পানিসীমার কাছাকাছি মার্কিন উসকানিমূলক তৎপরতার জবাব হিসেবেই এই অভিযান চালানো হয়েছে। ইরানি বাহিনীর দাবি, হামলায় মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলোর উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং প্রবল আঘাতের মুখে তারা দ্রুত এলাকা ত্যাগ করে।

আইআরজিসি নৌবাহিনীর কমান্ডার জানান, সাম্প্রতিক দুটি ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। প্রথমত, জাস্ক বন্দরের কাছে একটি ইরানি তেলবাহী ট্যাংকারে মার্কিন হামলার অভিযোগ আনে তেহরান। দ্বিতীয়ত, ইরানের সতর্কতা উপেক্ষা করে মার্কিন নৌবাহিনীর তিনটি ডেস্ট্রয়ার হরমুজ প্রণালির দিকে অগ্রসর হতে থাকে। এই পরিস্থিতিকে ইরান নিজেদের সার্বভৌমত্বের জন্য সরাসরি হুমকি হিসেবে বিবেচনা করে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, অভিযানে জাহাজ বিধ্বংসী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং বিস্ফোরকবাহী ড্রোন ব্যবহার করা হয়। ইরানি বাহিনীর দাবি অনুযায়ী, অত্যন্ত নিখুঁত সমন্বয়ের মাধ্যমে সরাসরি মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। ইরানের গোয়েন্দা পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থায় মার্কিন সামরিক সম্পদের ‘মারাত্মক ক্ষয়ক্ষতি’ শনাক্ত হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

আইআরজিসির ভাষ্যমতে, ভয়াবহ হামলার মুখে টিকতে না পেরে মার্কিন ডেস্ট্রয়ারগুলো দ্রুত হরমুজ প্রণালি এলাকা ত্যাগ করে। এই ঘটনার মাধ্যমে ইরান আবারও দেখিয়ে দিয়েছে যে, তাদের সামুদ্রিক সীমান্তে কোনো ধরনের সামরিক আগ্রাসন বা অনধিকার প্রবেশ বরদাশত করা হবে না।

খাতাম আল-আম্বিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তরের মুখপাত্র ইব্রাহিম জোলফাগারি মার্কিন পদক্ষেপকে ‘সামুদ্রিক দস্যুতা’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের বুঝতে হবে যে, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান যেকোনো আগ্রাসনের বিরুদ্ধে কঠোর ও চূড়ান্ত জবাব দিতে প্রস্তুত।

বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট হরমুজ প্রণালিতে এই ধরনের সামরিক সংঘাত বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করতে পারে। কারণ বিশ্বের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ তেল ও গ্যাস প্রতিদিন এই জলপথ দিয়েই পরিবাহিত হয়। ফলে এ অঞ্চলে উত্তেজনা বাড়লে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম আরও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এদিকে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানের এই দাবির বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। তবে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা এবং সামরিক অবস্থানকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক মহলে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।