সময়: রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ১৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মার্কিন যুদ্ধজাহাজও ছাই হবে: যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর হুঁশিয়ারি আইআরজিসির

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ১০:২০:১৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১ মে ২০২৬
  • / ১৬০ Time View

 

ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক আগ্রাসন চালানো হলে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলোর পরিণতিও আঞ্চলিক মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোর মতোই ভয়াবহ হবে বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে Islamic Revolutionary Guard Corps (আইআরজিসি)।

আইআরজিসির মহাকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র ইউনিটের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল Seyed Majid Mousavi মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের উদ্দেশ্যে দেওয়া এক বার্তায় বলেন, ইরানের ওপর যেকোনো সামরিক হামলার জবাব হবে দীর্ঘমেয়াদি, কঠোর এবং ধ্বংসাত্মক।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি দাবি করেন, “মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলোর যে অবস্থা হয়েছে, যুদ্ধজাহাজগুলোর ক্ষেত্রেও একই পরিণতি অপেক্ষা করছে।” তার এই বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

ইরানি এই সামরিক কর্মকর্তা অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে ‘স্বল্পমেয়াদি কিন্তু তীব্র’ হামলার পরিকল্পনা করছে। তবে তেহরান এ ধরনের যেকোনো পদক্ষেপের কঠোর প্রতিশোধ নেবে বলেও তিনি সতর্ক করেন।

এদিকে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump বৃহস্পতিবার United States Central Command (সেন্টকম)-এর প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপারের কাছ থেকে ইরানকে ঘিরে নতুন সামরিক পরিকল্পনা বিষয়ে ব্রিফিং নেবেন।

প্রতিবেদনগুলোতে আরও দাবি করা হয়েছে, সম্ভাব্য মার্কিন পরিকল্পনার মধ্যে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয় হামলা, হরমুজ প্রণালীর একটি অংশের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া এবং ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুদ জব্দে বিশেষ বাহিনী মোতায়েনের মতো বিষয়ও আলোচনায় রয়েছে। যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানায়নি ওয়াশিংটন।

এর আগে ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, সরাসরি বোমা হামলার চেয়ে ইরানের বিরুদ্ধে নৌ-অবরোধ আরও কার্যকর হতে পারে। তবে প্রয়োজনে সামরিক অভিযানের পথও খোলা রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেছিলেন।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান উত্তেজনা এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে সামান্য ভুল হিসাবও বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ নিতে পারে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি নিয়ে যেকোনো সামরিক পদক্ষেপ বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

মার্কিন যুদ্ধজাহাজও ছাই হবে: যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর হুঁশিয়ারি আইআরজিসির

Update Time : ১০:২০:১৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১ মে ২০২৬

 

ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক আগ্রাসন চালানো হলে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলোর পরিণতিও আঞ্চলিক মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোর মতোই ভয়াবহ হবে বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে Islamic Revolutionary Guard Corps (আইআরজিসি)।

আইআরজিসির মহাকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র ইউনিটের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল Seyed Majid Mousavi মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের উদ্দেশ্যে দেওয়া এক বার্তায় বলেন, ইরানের ওপর যেকোনো সামরিক হামলার জবাব হবে দীর্ঘমেয়াদি, কঠোর এবং ধ্বংসাত্মক।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি দাবি করেন, “মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলোর যে অবস্থা হয়েছে, যুদ্ধজাহাজগুলোর ক্ষেত্রেও একই পরিণতি অপেক্ষা করছে।” তার এই বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

ইরানি এই সামরিক কর্মকর্তা অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে ‘স্বল্পমেয়াদি কিন্তু তীব্র’ হামলার পরিকল্পনা করছে। তবে তেহরান এ ধরনের যেকোনো পদক্ষেপের কঠোর প্রতিশোধ নেবে বলেও তিনি সতর্ক করেন।

এদিকে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump বৃহস্পতিবার United States Central Command (সেন্টকম)-এর প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপারের কাছ থেকে ইরানকে ঘিরে নতুন সামরিক পরিকল্পনা বিষয়ে ব্রিফিং নেবেন।

প্রতিবেদনগুলোতে আরও দাবি করা হয়েছে, সম্ভাব্য মার্কিন পরিকল্পনার মধ্যে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয় হামলা, হরমুজ প্রণালীর একটি অংশের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া এবং ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুদ জব্দে বিশেষ বাহিনী মোতায়েনের মতো বিষয়ও আলোচনায় রয়েছে। যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানায়নি ওয়াশিংটন।

এর আগে ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, সরাসরি বোমা হামলার চেয়ে ইরানের বিরুদ্ধে নৌ-অবরোধ আরও কার্যকর হতে পারে। তবে প্রয়োজনে সামরিক অভিযানের পথও খোলা রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেছিলেন।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান উত্তেজনা এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে সামান্য ভুল হিসাবও বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ নিতে পারে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি নিয়ে যেকোনো সামরিক পদক্ষেপ বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।