ইসলামী ঐক্যজোটের একাংশকে ইসি সংলাপ থেকে বের করে দেওয়া হলো
- Update Time : ০২:৩৩:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ নভেম্বর ২০২৫
- / ২১৫ Time View

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সঙ্গে চলমান সংলাপে ইসলামী ঐক্যজোটের দুই ভাগে বিভক্ত অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব তীব্র আকার ধারণ করায় দলটির একাংশকে সভাকক্ষ থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। রোববার (১৬ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ইসির সম্মেলনকক্ষে সংলাপ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হওয়ার আগ মুহূর্তেই এই অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়। ঘটনাটি অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যেও ব্যাপক আলোড়ন তোলে।
সংলাপস্থলে উপস্থিত ছিলেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনসহ চার নির্বাচন কমিশনার, ইসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং আমন্ত্রিত ছয়টি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা। নির্ধারিত সময়ের কয়েক মিনিট আগে ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব মুফতি সাখাওয়াত হোসেন রাজির নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল হলে প্রবেশ করেন। কিন্তু তারা দেখতে পান, এরই মধ্যে সেখানে বসে আছেন হাসানাত আমিনীর নেতৃত্বাধীন ইসলামী ঐক্যজোটের আরেক অংশ।
হলরুমে প্রবেশ করেই তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন মুফতি সাখাওয়াত হোসেন রাজি। তিনি আমিনীর অংশকে ‘ফ্যাসিবাদের দোসর’ বলে আখ্যায়িত করেন এবং অভিযোগ তোলেন, “তারা বিগত নির্বাচনে ফ্যাসিবাদকে বৈধতা দিয়েছে। তাদের সঙ্গে বসে আমরা কোনো সংলাপে অংশ নেব না।” তার এই মন্তব্যে মুহূর্তেই কক্ষের পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
এরপর পরিস্থিতি ঠান্ডা করার জন্য ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ দুই পক্ষকেই তাদের আমন্ত্রণপত্র যাচাইয়ের অনুরোধ করেন। রাজির অংশ হার্ডকপি প্রদর্শন করতে সক্ষম হলেও আমিনীর অংশ কেবল মোবাইল ফোনে থাকা ডিজিটাল কপি দেখাতে পারেন। সচিব স্পষ্টভাবে জানান, “হার্ডকপি ছাড়া সংলাপে অংশ নেওয়ার অনুমতি দেওয়া যাবে না।” বারবার অনুরোধ করেও আমিনীর অনুসারীরা শর্ত পূরণ করতে না পারায় শেষ পর্যন্ত তাদের সভাকক্ষ ত্যাগ করতে বাধ্য হতে হয়।
কক্ষের বাইরে এসে হাসানাত আমিনীর অংশের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আলতাফ হোসেন সাংবাদিকদের ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এটা সম্পূর্ণ একতরফা সিদ্ধান্ত। আমাদের দলই যে নিবন্ধিত, সেটিও কমিশন জানে। আমন্ত্রণপত্রও আমাদেরকেই দেওয়া হয়েছিল। অন্য অংশ ব্ল্যাকমেল করে আমন্ত্রণপত্র সংগ্রহ করেছে, আর ইসি সেটি বিবেচনা না করেই আমাদের বের করে দিল।”
এদিকে সংলাপ শুরুর বক্তব্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, একটি অংশগ্রহণমূলক, স্বচ্ছ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজনের জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর সহযোগিতা অত্যন্ত জরুরি। তিনি আরও বলেন, আচরণবিধি যথাযথভাবে অনুসরণ করলে সংলাপের পরিবেশ উন্নত হবে এবং ভোটপ্রক্রিয়া আরও গ্রহণযোগ্য হবে। সিইসি রাজনৈতিক দলগুলোকে নির্বাচনী আচরণবিধি জনসাধারণের মাঝে প্রচারেও উৎসাহিত করেন।
রোববার সকালের সংলাপে উপস্থিত ছিলেন— গণফোরাম, গণফ্রন্ট, ইসলামী ঐক্যফ্রন্ট বাংলাদেশ, ইসলামী ঐক্যজোট (রাজি অংশ), বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি (বিএসপি) এবং বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির প্রতিনিধি দল।













