তারকাদের হাতে-গালে হঠাৎ সংখ্যা
- Update Time : ০১:৫৭:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২৫
- / ১৯৯ Time View

সোশ্যাল মিডিয়া খুললেই চোখে পড়ছে হাতে বা গালে লেখা সংখ্যা—কখনও ‘৯’, কখনও ‘২৪’, আবার কারও মুখে ‘১০০০’ কিংবা ‘৯৯+’। দেশের জনপ্রিয় নারী তারকাদের এমন অস্বাভাবিক ছবিতে চমকে উঠেছেন নেটিজেনরা। প্রথমে অনেকে ভেবেছিলেন—এ কি নতুন কোনো নাটক বা চলচ্চিত্রের প্রচারণা? কিন্তু কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই স্পষ্ট হয়ে যায়—এই অদ্ভুত সংখ্যাগুলোর পেছনে লুকিয়ে আছে আরও ভয়াবহ, আরও নির্মম এক বাস্তবতা।
ডিজিটাল সহিংসতা ও সাইবার বুলিংয়ের বিরুদ্ধে সচেতনতা ছড়াতে তারকারা একযোগে শুরু করেছেন নতুন প্রচারাভিযান—‘মাই নাম্বার, মাই রুলস’। প্রতিদিন সোশ্যাল মিডিয়ায় তারা কতবার হয়রানির শিকার হন—সেই সংখ্যাটিই লিখে পোস্ট করছেন ছবিতে।
তিশার ‘৯’: আন্দোলনের প্রথম আওয়াজ
২৫ নভেম্বর অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশা প্রথম এ ধরনের ছবি প্রকাশ করেন। তার গালে বড় করে লেখা ছিল—‘৯’।
ক্যাপশনে তিশা লেখেন—প্রতিদিন কমপক্ষে ৯ বার সাইবার হয়রানির মুখে পড়তে হয় তাকে। সেই সাথে তিনি জানান,
“মানুষ কেবল একটি সংখ্যা দেখছে, কিন্তু এর পেছনে রয়েছে আমার প্রতিদিনের সংগ্রাম, ভয়, অপমান এবং সবকিছু জয়ের গল্প।”
তার এই আহ্বানে মুহূর্তেই সাড়া দেন আরও অনেক শিল্পী।
পরপর আসতে থাকে আরও সংখ্যা
- রুনা খান—২৪
• শবনম ফারিয়া—১০০০
• দীঘি—৩
• মৌসুমী হামিদ—৭২
• সাজিয়া সুলতানা পুতুল—৯
• আশনা হাবিব ভাবনা—৯৯+
শিল্পীদের এসব সংখ্যাই বলে দেয় অনলাইনে তারা কতটা ভয়াবহ কটূক্তি, অশ্লীল বার্তা ও মানসিক নির্যাতনের মুখে পড়েন প্রতিদিন।
মহিলাদের অনলাইন পরিবেশ আরও অনিরাপদ
রুনা খান বলেন—সোশ্যাল মিডিয়া যত দ্রুত মানুষের হাতে পৌঁছেছে, তার ব্যবহারবিধি শিখতে অনেকেই আগ্রহী হয়নি। ফলে তারকা তো বটেই, সাধারণ নারীরাও প্রতিদিন অসংখ্য অপমানজনক বার্তা পেয়ে থাকেন।
অভিনেত্রী ভাবনা ‘৯৯+’ লিখে সকল নারীদের উদ্দেশে লিখেছেন—
তিনি আরও উল্লেখ করেন—গত ৫ আগস্টের পর নারীদের অনলাইন পরিবেশ আরও ভয়াবহ হয়ে উঠেছে।
১৬ দিনের ক্যাম্পেইন
আন্তর্জাতিক ডিজিটাল সহিংসতা বিরোধী প্রচারের অংশ হিসেবে বাংলাদেশেও ‘মাই নাম্বার, মাই রুলস’ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এই ক্যাম্পেইন চলবে ১৬ দিনব্যাপী। উদ্দেশ্য একটাই—নিজেদের অভিজ্ঞতার সংখ্যা প্রকাশ করে সমাজের ভেতরকার সমস্যাকে দৃশ্যমান করা।
তারকাদের আহ্বান
সবাই চাইছেন, নারীরা আর চুপ করে না থেকে নিজেরা প্রতিদিন যে সংখ্যক হয়রানির শিকার হচ্ছেন—সেটাই যেন হয় প্রতিবাদের ভাষা।
বার্তা একটাই—
সংখ্যা লুকিয়ে রাখো না, সংখ্যাই হোক প্রতিরোধের শক্তি।














