সময়: সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬, ৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তানজিয়া জামান মিথিলা—‘বিকিনি না পরলে আমি জিততে পারবো না’

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ১২:২৫:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ নভেম্বর ২০২৫
  • / ২৪৪ Time View

বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ সৌন্দর্য প্রতিযোগিতা মিস ইউনিভার্স—যা গ্ল্যামার, প্রতিযোগিতা ও আন্তর্জাতিক পরিচিতির দিক থেকে অন্য সব প্রতিযোগিতাকে ছাড়িয়ে গেছে। এর ৭৪তম আসরে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন মডেল অভিনেত্রী তানজিয়া জামান মিথিলা, যিনি এ বছর ‘মিস ইউনিভার্স বাংলাদেশ ২০২৫’-এর মুকুট জিতে জাতীয় পরিমণ্ডলে আলোচনায় আসেন। দেশীয় পর্বে জয়ী হওয়ার পর গত অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে তিনি থাইল্যান্ডে পৌঁছান মূল প্রতিযোগিতার প্রস্তুতির জন্য।

কিন্তু থাইল্যান্ডে পৌঁছানোর পর থেকেই তাকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে বিতর্ক, বিশেষ করে তার পোশাক—বিশেষত বিকিনি পরা নিয়ে। নেটিজেনদের একাংশের সমালোচনা, কটূক্তি ও প্রশ্নবানে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানাতে এক ভিডিও বার্তায় নিজের কঠোর বাস্তবতার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন মিথিলা।

বিদেশিরা ট্রল করলে কষ্ট পাই না, কষ্ট পাই নিজের দেশের মানুষকে দেখে”

ভিডিও বার্তায় তানজিয়া বলেন,
“আমাকে বিদেশিরা কিছু বললে বা ট্রল করলে আমার তেমন কিছু যায় আসে না। তারা তো জানেই না আমি কী ধরনের পরিশ্রম করছি। কিন্তু আমাদের দেশের মানুষ—যারা সব দেখছে, জানছে—তারা যদি সমালোচনা করে, এটি হৃদয়বিদারক। এত বড় একটি দেশ থেকে একজন প্রতিযোগী এসে প্রাণপণ চেষ্টা করছে, প্রতিদিন ঘন্টার পর ঘন্টা ট্রেনিং করছে, শৃঙ্খলার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে, কোটি মানুষের সামনে নিজের দেশকে তুলে ধরছে… তবুও যদি নিজের দেশের মানুষ প্রশংসা বা সমর্থন না দেয়, তবে সেটি দুঃখজনক।”

তিনি আরও বলেন,
“মানুষ ভাবছে আমরা শুধু সাজগোজ করি। আসলে এখানে ডজনখানেক স্কিল শিখতে হয়—র‌্যাম্প, ফিটনেস, ডায়েট, কমিউনিকেশন, স্কিল, টাইম ম্যানেজমেন্ট—সবকিছু কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হয়। প্রতিটি মিনিট গুরুত্বপূর্ণ।”

বিকিনি ছাড়া মিস ইউনিভার্সে টপ ৩০-যাওয়া অসম্ভব”—প্রতিযোগিতার নিয়মই বাধ্য করছে

সবচেয়ে আলোচিত বিষয় বিকিনি পরা নিয়ে তানজিয়া স্পষ্ট ও নির্ভীকভাবে বললেন—

“আপনারা যতই সমালোচনা করুন—বাস্তবতা হলো, বিকিনি ছাড়া আমি টপ থার্টিতেই যেতে পারবো না। প্রতিযোগিতার নিয়মই এ রকম। ফিটনেস রাউন্ডে বিকিনি বাধ্যতামূলক। আপনারা চান আমি দেশের জন্য জিতি, তাহলে আমাকে নিয়ম মেনে চলতেই হবে। এখানে ধর্মের কোনো ভূমিকা নেই—এটা পুরোপুরি প্রতিযোগিতার কাঠামো।”

তিনি আরও যোগ করেন,
“যদি বাংলাদেশকে শীর্ষ পর্যায়ে তুলে ধরতে হয়, তবে আমাকে সেই internacional standard অনুযায়ী উপস্থাপন করতেই হবে। আমি চাই দেশ জিতুক, দেশ মাথা উঁচু করে দাঁড়াক। কিন্তু আপনারা যদি নিজের মানুষকেই সমর্থন না করেন, তাহলে এগিয়ে যাওয়া আরও কঠিন।”

মিস ইউনিভার্স একটি যুদ্ধক্ষেত্র—প্রতিযোগিতা ভয়াবহ কঠিন”

প্রতিযোগিতার পরিবেশ নিয়ে মিথিলার ব্যাখ্যা আরও তীব্র—

“এই জায়গাটা বিশাল। এখানে সবাই অসাধারণ। কেউ খারাপ না—সবাইই প্রশিক্ষিত, সবাইই পরিশ্রমী। তাদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে হলে আমাকে শতভাগ দিতে হবে। নিজের দেশের মানুষের সমর্থন ছাড়া আন্তর্জাতিক মঞ্চে লড়াই করা আরও কঠিন হয়ে পড়ে। আপনারা পাশে থাকলে আমি আরও ভালোভাবে লড়তে পারবো।”

তিনি মনে করিয়ে দেন—মিস ইউনিভার্স কেবল একটি সৌন্দর্য প্রতিযোগিতা নয়; এটি সাংস্কৃতিক উপস্থাপন, ব্যক্তিত্ব, আত্মবিশ্বাস, মানবিকতা, নেতৃত্ব ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে নিজেকে তুলে ধরার একটি পূর্ণাঙ্গ প্ল্যাটফর্ম।

সামাজিক বাস্তবতা বনাম আন্তর্জাতিক মঞ্চ

মিথিলার বক্তব্যে স্পষ্ট—বাংলাদেশের সামাজিক ও ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার বাস্তবতা বহু জায়গাতেই সাংঘর্ষিক। কিন্তু ব্যক্তিগত সীমানা অতিক্রম করে জাতীয় পতাকা তুলে ধরতে গেলে অনেক সময় আন্তর্জাতিক নিয়মের সঙ্গেই চলতে হয়। এতে তিনি নিজের সিদ্ধান্তে অবিচল থেকেছেন।

সর্বশেষ বার্তায় অনুরোধ—“সমালোচনা নয়, সমর্থন চাই”

শেষে মিথিলা মানুষের প্রতি সরাসরি অনুরোধ করেন—

“আপনারা সমালোচনা করবেন—কোরো না সেটা বলছি না। কিন্তু দেশের নাম যখন বড় মঞ্চে উঠে আসে, সেখানে একটু প্রশংসা, একটু সমর্থন দিলে আমি আরও শক্তি পেতাম। দেশের প্রতি আমার ভালোবাসা থেকেই এখানে এত কষ্ট করছি।”

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

তানজিয়া জামান মিথিলা—‘বিকিনি না পরলে আমি জিততে পারবো না’

Update Time : ১২:২৫:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ নভেম্বর ২০২৫

বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ সৌন্দর্য প্রতিযোগিতা মিস ইউনিভার্স—যা গ্ল্যামার, প্রতিযোগিতা ও আন্তর্জাতিক পরিচিতির দিক থেকে অন্য সব প্রতিযোগিতাকে ছাড়িয়ে গেছে। এর ৭৪তম আসরে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন মডেল অভিনেত্রী তানজিয়া জামান মিথিলা, যিনি এ বছর ‘মিস ইউনিভার্স বাংলাদেশ ২০২৫’-এর মুকুট জিতে জাতীয় পরিমণ্ডলে আলোচনায় আসেন। দেশীয় পর্বে জয়ী হওয়ার পর গত অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে তিনি থাইল্যান্ডে পৌঁছান মূল প্রতিযোগিতার প্রস্তুতির জন্য।

কিন্তু থাইল্যান্ডে পৌঁছানোর পর থেকেই তাকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে বিতর্ক, বিশেষ করে তার পোশাক—বিশেষত বিকিনি পরা নিয়ে। নেটিজেনদের একাংশের সমালোচনা, কটূক্তি ও প্রশ্নবানে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানাতে এক ভিডিও বার্তায় নিজের কঠোর বাস্তবতার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন মিথিলা।

বিদেশিরা ট্রল করলে কষ্ট পাই না, কষ্ট পাই নিজের দেশের মানুষকে দেখে”

ভিডিও বার্তায় তানজিয়া বলেন,
“আমাকে বিদেশিরা কিছু বললে বা ট্রল করলে আমার তেমন কিছু যায় আসে না। তারা তো জানেই না আমি কী ধরনের পরিশ্রম করছি। কিন্তু আমাদের দেশের মানুষ—যারা সব দেখছে, জানছে—তারা যদি সমালোচনা করে, এটি হৃদয়বিদারক। এত বড় একটি দেশ থেকে একজন প্রতিযোগী এসে প্রাণপণ চেষ্টা করছে, প্রতিদিন ঘন্টার পর ঘন্টা ট্রেনিং করছে, শৃঙ্খলার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে, কোটি মানুষের সামনে নিজের দেশকে তুলে ধরছে… তবুও যদি নিজের দেশের মানুষ প্রশংসা বা সমর্থন না দেয়, তবে সেটি দুঃখজনক।”

তিনি আরও বলেন,
“মানুষ ভাবছে আমরা শুধু সাজগোজ করি। আসলে এখানে ডজনখানেক স্কিল শিখতে হয়—র‌্যাম্প, ফিটনেস, ডায়েট, কমিউনিকেশন, স্কিল, টাইম ম্যানেজমেন্ট—সবকিছু কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হয়। প্রতিটি মিনিট গুরুত্বপূর্ণ।”

বিকিনি ছাড়া মিস ইউনিভার্সে টপ ৩০-যাওয়া অসম্ভব”—প্রতিযোগিতার নিয়মই বাধ্য করছে

সবচেয়ে আলোচিত বিষয় বিকিনি পরা নিয়ে তানজিয়া স্পষ্ট ও নির্ভীকভাবে বললেন—

“আপনারা যতই সমালোচনা করুন—বাস্তবতা হলো, বিকিনি ছাড়া আমি টপ থার্টিতেই যেতে পারবো না। প্রতিযোগিতার নিয়মই এ রকম। ফিটনেস রাউন্ডে বিকিনি বাধ্যতামূলক। আপনারা চান আমি দেশের জন্য জিতি, তাহলে আমাকে নিয়ম মেনে চলতেই হবে। এখানে ধর্মের কোনো ভূমিকা নেই—এটা পুরোপুরি প্রতিযোগিতার কাঠামো।”

তিনি আরও যোগ করেন,
“যদি বাংলাদেশকে শীর্ষ পর্যায়ে তুলে ধরতে হয়, তবে আমাকে সেই internacional standard অনুযায়ী উপস্থাপন করতেই হবে। আমি চাই দেশ জিতুক, দেশ মাথা উঁচু করে দাঁড়াক। কিন্তু আপনারা যদি নিজের মানুষকেই সমর্থন না করেন, তাহলে এগিয়ে যাওয়া আরও কঠিন।”

মিস ইউনিভার্স একটি যুদ্ধক্ষেত্র—প্রতিযোগিতা ভয়াবহ কঠিন”

প্রতিযোগিতার পরিবেশ নিয়ে মিথিলার ব্যাখ্যা আরও তীব্র—

“এই জায়গাটা বিশাল। এখানে সবাই অসাধারণ। কেউ খারাপ না—সবাইই প্রশিক্ষিত, সবাইই পরিশ্রমী। তাদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে হলে আমাকে শতভাগ দিতে হবে। নিজের দেশের মানুষের সমর্থন ছাড়া আন্তর্জাতিক মঞ্চে লড়াই করা আরও কঠিন হয়ে পড়ে। আপনারা পাশে থাকলে আমি আরও ভালোভাবে লড়তে পারবো।”

তিনি মনে করিয়ে দেন—মিস ইউনিভার্স কেবল একটি সৌন্দর্য প্রতিযোগিতা নয়; এটি সাংস্কৃতিক উপস্থাপন, ব্যক্তিত্ব, আত্মবিশ্বাস, মানবিকতা, নেতৃত্ব ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে নিজেকে তুলে ধরার একটি পূর্ণাঙ্গ প্ল্যাটফর্ম।

সামাজিক বাস্তবতা বনাম আন্তর্জাতিক মঞ্চ

মিথিলার বক্তব্যে স্পষ্ট—বাংলাদেশের সামাজিক ও ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার বাস্তবতা বহু জায়গাতেই সাংঘর্ষিক। কিন্তু ব্যক্তিগত সীমানা অতিক্রম করে জাতীয় পতাকা তুলে ধরতে গেলে অনেক সময় আন্তর্জাতিক নিয়মের সঙ্গেই চলতে হয়। এতে তিনি নিজের সিদ্ধান্তে অবিচল থেকেছেন।

সর্বশেষ বার্তায় অনুরোধ—“সমালোচনা নয়, সমর্থন চাই”

শেষে মিথিলা মানুষের প্রতি সরাসরি অনুরোধ করেন—

“আপনারা সমালোচনা করবেন—কোরো না সেটা বলছি না। কিন্তু দেশের নাম যখন বড় মঞ্চে উঠে আসে, সেখানে একটু প্রশংসা, একটু সমর্থন দিলে আমি আরও শক্তি পেতাম। দেশের প্রতি আমার ভালোবাসা থেকেই এখানে এত কষ্ট করছি।”