নুরুল হকের মাথায় আঘাত, নাকের হাড় ভেঙেছে, মেডিকেল বোর্ড গঠন
- Update Time : ০২:০৩:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৫
- / ১০৭ Time View

গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি ও সাবেক ডাকসু ভিপি নুরুল হক নুরের শারীরিক অবস্থা গুরুতর বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, নুরুল হকের মাথায় গুরুতর আঘাত রয়েছে এবং তাঁর নাকের হাড় ভেঙে গেছে। আঘাতজনিত কারণে শুক্রবার রাতে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়, তবে বর্তমানে রক্তক্ষরণ বন্ধ হয়েছে এবং তিনি চেতনাসম্পন্ন অবস্থায় আছেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আগামী ৪৮ ঘণ্টা তার শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণে রাখা হবে, এবং এই সময়ের আগে তাকে সম্পূর্ণ ঝুঁকিমুক্ত ঘোষণা করা সম্ভব নয়।
নুরুল হকের চিকিৎসায় ইতিমধ্যেই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সর্বোচ্চ পর্যায়ের মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার রাতেই বোর্ডটি গঠিত হয় এবং আজ শনিবার সকালে নুরুল হকের চিকিৎসা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার জন্য বোর্ডের সদস্যরা বৈঠক করবেন বলে জানিয়েছেন হাসপাতাল পরিচালক।
শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজধানীর কাকরাইল এলাকায় জাতীয় পার্টি (জাপা) ও গণ অধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় নুরুল হক গুরুতর আহত হন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, গণ অধিকার পরিষদের একটি মিছিল জাপার কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় দুই দলের কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং লাঠিচার্জের ঘটনায় নুরুল হকসহ শতাধিক নেতা-কর্মী আহত হন।
গণ অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান শুক্রবার রাতে গণমাধ্যমকে জানান, “আমরা রাত সাড়ে ৯টার দিকে কার্যালয়ের সামনে সংবাদ সম্মেলনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। ঠিক তখনই পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা আমাদের ওপর হামলা চালান। এতে সভাপতি নুরুল হকসহ শতাধিক নেতা-কর্মী আহত হন। গুরুতর আহত নুরুল হকসহ ছয়জনকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি করা হয়।”
অন্যদিকে জাপার পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, গণ অধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরাই প্রথমে জাপার কার্যালয়ের সামনে এসে হামলা চালান। জাপা নেতারা বলেন, “গণ অধিকার পরিষদের মিছিল থেকে আমাদের ওপর আক্রমণ শুরু হয়, পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যবস্থা নেয়।”
ঘটনা নিয়ে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) শুক্রবার রাতে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, সংঘর্ষের শুরুতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী উভয় পক্ষকে শান্ত থাকার জন্য বারবার অনুরোধ জানিয়েছিল। কিন্তু কিছু নেতা-কর্মী তা উপেক্ষা করে মব ভায়োলেন্সের মাধ্যমে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার চেষ্টা করেন। তারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর আক্রমণ চালান এবং রাত ৯টার দিকে মশালমিছিল নিয়ে সহিংসতা আরও ছড়িয়ে দেন। তারা ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও বিভিন্ন স্থাপনায় আগুন দেওয়ার চেষ্টা করে। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলপ্রয়োগে বাধ্য হয়। আইএসপিআর আরও জানিয়েছে, সংঘর্ষে সেনাবাহিনীর পাঁচজন সদস্য আহত হয়েছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সাম্প্রতিক এই ঘটনা দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করেছে। গণ অধিকার পরিষদের মতো তরুণ নেতৃত্বনির্ভর রাজনৈতিক সংগঠনের নেতার ওপর হামলার ঘটনা বিরোধী দলের প্রতি সরকারের অবস্থান এবং রাজনৈতিক কার্যক্রমের স্বাধীনতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে। একইসঙ্গে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সংঘর্ষের ভিডিও ও নুরুল হকের রক্তাক্ত ছবিগুলো জনমনে ক্ষোভের সঞ্চার করেছে।
বর্তমানে নুরুল হককে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং তার সুস্থতার জন্য গণ অধিকার পরিষদের পক্ষ থেকে দেশবাসীর কাছে দোয়া চাওয়া হয়েছে।














