স্কুলে ভর্তির নতুন নীতিমালা প্রকাশ: ৬৩ শতাংশ আসনই কোটা, ক্যাচমেন্ট নিয়ে অভিভাবকদের ক্ষোভ
- Update Time : ০৮:১৬:২১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ নভেম্বর ২০২৫
- / ২৯৭ Time View

সরকারি স্কুলে প্রথম শ্রেণি থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত ভর্তির জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় নতুন নীতিমালা প্রকাশ করেছে। বৃহস্পতিবার মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ থেকে সচিব রেহেনা পারভীনের স্বাক্ষরে প্রকাশিত নীতিমালায় আগের মতোই মোট ৬৩ শতাংশ কোটা বহাল রাখা হয়েছে, যা নিয়ে দেশে—বিশেষ করে নগর এলাকায়—অভিভাবকদের মধ্যে নতুন করে আলোচনা ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
ক্যাচমেন্ট কোটাই সবচেয়ে বড়—৪০ শতাংশ
নীতি অনুযায়ী, এবারও ক্যাচমেন্ট এরিয়া কোটা ৪০ শতাংশ রাখা হয়েছে। অর্থাৎ নির্দিষ্ট এলাকার মধ্যেই বসবাসকারী শিক্ষার্থীরা আসনের বড় অংশ পাবে।
এই কোটার ব্যাপকতা নিয়ে অনেক অভিভাবক দীর্ঘদিন ধরে অসন্তোষ প্রকাশ করে আসছেন—বিশেষত ঢাকায় যারা ভাড়া বাসায় অস্থায়ীভাবে থাকেন। তারা মনে করেন, “ক্যাচমেন্ট সীমাবদ্ধতা” তাদের পছন্দের স্কুলে ভর্তির সুযোগ কমিয়ে দেয়।
ভর্তির বয়সসীমায় কঠোর নির্দেশনা
‘জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০’ অনুসারে ভর্তির বয়স নির্ধারণ করা হয়েছে নিম্নরূপ—
• কাঙ্ক্ষিত শিক্ষাবর্ষের ১ জানুয়ারিতে ন্যূনতম বয়স ৫ বছর
• ৩১ ডিসেম্বর সর্বোচ্চ বয়স ৭ বছর
২০২৬ শিক্ষাবর্ষে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তির জন্য—
-
সর্বনিম্ন জন্মতারিখ হতে হবে: ১ জানুয়ারি ২০২১
-
সর্বোচ্চ জন্মতারিখ: ৩১ ডিসেম্বর ২০১৮
এই বয়স গণনা প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য ধারাবাহিকভাবে পরবর্তী শ্রেণিতেও প্রযোজ্য হবে।
শিক্ষার্থীর বয়স যাচাইয়ের জন্য আবেদন ফরমের সঙ্গে অনলাইন জন্মনিবন্ধন সনদের সত্যায়িত কপি জমা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে বয়সে সর্বোচ্চ ৫ বছর পর্যন্ত বাড়তি সুযোগ
শিক্ষাবর্ষ ও ছাত্রসংখ্যা নির্ধারণ
২০২৬ শিক্ষাবর্ষ চলবে ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত—পূর্বের মতোই বর্ষপঞ্জির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে।
প্রতি শাখায় শিক্ষার্থী সংখ্যা সর্বোচ্চ ৫৫ জনের বেশি হতে পারবে না।
কোন শ্রেণির জন্য কত শতাংশ কোটা?
নীতিমালায় বিভিন্ন প্রয়োজন ও সামাজিক বিবেচনায় মোট ৬৩ শতাংশ কোটা নির্ধারণ করা হয়েছে। তা হলো—
১. ক্যাচমেন্ট এরিয়া — ৪০%
সমগ্র কোটার বড় অংশই এই অঞ্চলে বসবাসকারী শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দ।
২. মুক্তিযোদ্ধা কোটা — ৫%
বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তান ও নাতি-নাতনিদের জন্য সংরক্ষিত।
৩. বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থী — ২%
৪. শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তান — মোট ১%
এবার প্রথমবারের মতো বিভাগ করা হয়েছে:
-
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী — ০.৫%
-
মন্ত্রণালয়ের অধীন দপ্তর/সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারী — ০.৫%
৫. যমজ ও সহোদর কোটা
-
যমজ কোটা কমে আগের ৩% থেকে এখন ২%
-
সহোদর কোটা বেড়ে ২% থেকে ৩%
এই কোটাগুলো এক দম্পতির সর্বোচ্চ তিন সন্তান পর্যন্ত প্রযোজ্য হবে।
৬. সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পঞ্চম শ্রেণি পাস — ১০%
ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হওয়ার ক্ষেত্রে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পাস করা শিক্ষার্থীদের জন্য আবশ্যিকভাবে ১০ শতাংশ আসন খালি রাখতে হবে।
কোটা নিয়ে মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ মতামত
মাউশির এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং অধীনস্থ দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য কোটা রাখা হলেও এর পরিমাণ খুবই সামান্য। তার মতে, “এই কোটা অত্যাবশ্যক নয়, তবে প্রাতিষ্ঠানিক সৌজন্য এবং দীর্ঘদিনের প্রচলিত ব্যবস্থার ধারাবাহিকতায় রাখা হয়েছে।”
অভিভাবকদের উদ্বেগ: কেন এত কোটা?
নতুন নীতিমালায় আসনসংখ্যা অপরিবর্তিত রেখেও কোটার পরিমাণ অধিক থাকায় সাধারণ অভিভাবকদের জন্য মুক্ত প্রতিযোগিতার আসন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।
বিশেষ করে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ মহানগর অঞ্চলে সরকারি বিদ্যালয়ে ভর্তির প্রতিযোগিতা অত্যন্ত কঠিন হওয়ায়—
-
ক্যাচমেন্ট এরিয়া
-
বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক কোটা
-
বিশেষ কোটার বাড়তি সুবিধা
এসবের কারণে অনেক পরিবার মনে করছে, “ভাল স্কুলে ভর্তির সুযোগ এখন আরও সীমিত হয়ে যাচ্ছে।”
















