স্বৈরাচার হাসিনার আজীবন সদস্যপদ বাতিল করল ডাকসু
- Update Time : ০৫:০০:৩৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ নভেম্বর ২০২৫
- / ১৫১ Time View

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) এক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে—ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থার প্রতীক হিসেবে পরিচিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেওয়া ‘আজীবন সদস্যপদ’ বাতিল করা হয়েছে।
বুধবার (১২ নভেম্বর) রাতে অনুষ্ঠিত ডাকসুর দ্বিতীয় সাধারণ সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম আনুষ্ঠানিকভাবে এই সিদ্ধান্তের ঘোষণা দেন। তিনি জানান, “২০১৯ সালে শেখ হাসিনাকে যেভাবে ডাকসুর আজীবন সদস্যপদ দেওয়া হয়েছিল, তা সম্পূর্ণ অবৈধ, গঠনতন্ত্রবহির্ভূত এবং গণতন্ত্রবিরোধী ছিল। আজকের সভায় সর্বসম্মতভাবে সেই বিতর্কিত রেজুলেশন বাতিলের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।”
সভাটি অনুষ্ঠিত হয় সন্ধ্যা ৬টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু কনফারেন্স রুমে। এতে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও ডাকসুর সভাপতি অধ্যাপক নিয়াজ আহমদ খান। উপস্থিত ছিলেন ডাকসুর সহসভাপতি (ভিপি), সাধারণ সম্পাদক (জিএস), সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস)সহ কার্যনির্বাহী পরিষদের পূর্ণাঙ্গ সদস্যরা।
২০১৯ সালে দীর্ঘদিন পর অনুষ্ঠিত ডাকসু নির্বাচনের পর আওয়ামী লীগপন্থী একটি অংশের উদ্যোগে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘ডাকসুর আজীবন সদস্যপদ’ দেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে-বাইরে বিষয়টি তখনই তীব্র বিতর্কের জন্ম দেয়। ছাত্রসমাজের অনেকেই দাবি করেন, এটি ছিল ডাকসুর ঐতিহ্য ও স্বাধীনতাকে কলঙ্কিত করার প্রচেষ্টা।
নতুন ডাকসু নেতৃত্ব মনে করছে, সেই বিতর্কিত সিদ্ধান্ত বাতিলের মধ্য দিয়ে ছাত্র রাজনীতিতে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের পথে একটি প্রতীকী অগ্রগতি ঘটেছে।
ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, “ডাকসু কখনো কোনো ব্যক্তি পূজার মঞ্চ হতে পারে না। এটি ছাত্রদের অধিকার ও গণতন্ত্র রক্ষার প্ল্যাটফর্ম। আজ আমরা ইতিহাসের দায় পূরণ করেছি।”
সভার অন্য সদস্যরাও বলেন, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ডাকসু তার গৌরবোজ্জ্বল ঐতিহ্যে ফিরে যাচ্ছে—যেখানে স্বাধীনতা, অধিকার ও প্রতিবাদের চেতনাই ছিল কেন্দ্রবিন্দু।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন ও প্রাক্তন নেতারা ডাকসুর এ সিদ্ধান্তকে ‘সময়োপযোগী’ ও ‘জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
















