সময়: বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

২৬ টুকরো লাশ উদ্ধার: বন্ধুই হয়ে গেল খুনি, প্রেমিকা সহযোগী—দুই দিন বাসায় লুকিয়ে রাখা হয় আশরাফুলের মৃতদেহ

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ১০:২১:২৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ নভেম্বর ২০২৫
  • / ২১৩ Time View

রাজধানীতে কাঁচামাল ব্যবসায়ী আশরাফুল হক (৪২) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ ও র‍্যাব। হৃদয়বিদারক এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে আশরাফুলের বাল্যবন্ধু জরেজুল ইসলাম এবং তার প্রেমিকা শামীমা আক্তারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শুক্রবার ঢাকা ও কুমিল্লায় পৃথক অভিযানে এ দুজনকে আটক করা হয়।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) জানায়, কুমিল্লার দাউদকান্দি থেকে জরেজুলকে গ্রেপ্তার করে ডিবি দক্ষিণ বিভাগ। অন্যদিকে রাজধানীর এক এলাকা থেকে শামীমাকে আটক করে র‍্যাব। শামীমার কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ আলামতও উদ্ধার করা হয়েছে, যা তদন্তে নতুন অগ্রগতি এনে দিয়েছে।

ডিবি প্রধান মো. শফিকুল ইসলাম জানান, বৃহস্পতিবার রাতে জাতীয় ঈদগাহ মাঠের প্রধান গেটের পাশে দুটি নীল রঙের ড্রামের ভেতর থেকে ২৬ টুকরা মানবদেহ উদ্ধার করার পর ডিবি ছায়া তদন্ত শুরু করে। সিসিটিভি ফুটেজ, কল রেকর্ড ও গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণে দ্রুতই সন্দেহভাজন হিসেবে জরেজুল ও শামীমার নাম উঠে আসে।

তদন্তে বেরিয়ে আসে আরও ভয়াবহ তথ্য—রাজধানীর দনিয়ার একটি ভাড়া বাসায় পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয় আশরাফুলকে। হত্যার পর মরদেহটি দুই দিন ধরে সেই বাসাতেই লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। পরে মরদেহ গুমের উদ্দেশ্যে দা দিয়ে ২৬ টুকরো করে দুটি ড্রামে ভরে হাইকোর্টের সামনে এনে ফেলে রেখে যায় জরেজুল ও শামীমা।

ডিবির যুগ্ম কমিশনার (দক্ষিণ) নাসিরুল ইসলাম জানান, জরেজুলকে গ্রেপ্তারের পর দনিয়ার বাসায় অভিযান চালিয়ে রক্তমাখা হাতুড়ি উদ্ধার করা হয়েছে, যা হত্যায় ব্যবহৃত মূল অস্ত্র হিসেবে ধারণা করা হচ্ছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জরেজুল হত্যার দায় স্বীকার করেছে বলেও জানান তিনি।

তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, মালয়েশিয়াপ্রবাসী জরেজুল ও নিহত আশরাফুল শৈশবের বন্ধু ছিলেন। প্রায় তিন বছর আগে ‘বিগো লাইভ’ অ্যাপে পরিচয় হয় জরেজুলের সঙ্গে শামীমা আক্তারের। সেখান থেকেই তাদের ঘনিষ্ঠতা বাড়তে থাকে। তবে পরে আশরাফুলও শামীমার সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলেন। এই ত্রিভুজ সম্পর্ক নিয়েই শুরু হয় ঈর্ষা ও মানসিক দ্বন্দ্ব। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে গত মঙ্গলবার দনিয়ার বাসায় বালিশ চাপা ও হাতুড়ি দিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয় আশরাফুলকে।

হত্যার পরও তারা বাসার ভেতরে মৃতদেহ রেখে স্বাভাবিকভাবেই চলাফেরা করেন। বুধবার রাত পর্যন্ত লাশটি ঘরে লুকিয়ে রেখে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পরিকল্পনামাফিক ড্রামে ভরে জাতীয় ঈদগাহ মাঠের কাছে এনে ফেলে পালিয়ে যায় তারা।

পুলিশ মরদেহের সুরতহাল ও শনাক্তকরণ সম্পন্ন করার পর জানা যায়, নিহত আশরাফুল রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার নয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তার স্ত্রী, দশ বছরের এক মেয়ে এবং সাত বছরের একটি ছেলে রয়েছে। আশরাফুলের বোন আনজিরা বেগম বাদী হয়ে শাহবাগ থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।

এ ঘটনায় রাজধানীতে চাঞ্চল্যের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও আতঙ্ক ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ বলছে, পুরো ঘটনার আরো অনেক দিক তদন্ত করা হচ্ছে, এবং কেউ জড়িত থাকলে তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

২৬ টুকরো লাশ উদ্ধার: বন্ধুই হয়ে গেল খুনি, প্রেমিকা সহযোগী—দুই দিন বাসায় লুকিয়ে রাখা হয় আশরাফুলের মৃতদেহ

Update Time : ১০:২১:২৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ নভেম্বর ২০২৫

রাজধানীতে কাঁচামাল ব্যবসায়ী আশরাফুল হক (৪২) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ ও র‍্যাব। হৃদয়বিদারক এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে আশরাফুলের বাল্যবন্ধু জরেজুল ইসলাম এবং তার প্রেমিকা শামীমা আক্তারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শুক্রবার ঢাকা ও কুমিল্লায় পৃথক অভিযানে এ দুজনকে আটক করা হয়।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) জানায়, কুমিল্লার দাউদকান্দি থেকে জরেজুলকে গ্রেপ্তার করে ডিবি দক্ষিণ বিভাগ। অন্যদিকে রাজধানীর এক এলাকা থেকে শামীমাকে আটক করে র‍্যাব। শামীমার কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ আলামতও উদ্ধার করা হয়েছে, যা তদন্তে নতুন অগ্রগতি এনে দিয়েছে।

ডিবি প্রধান মো. শফিকুল ইসলাম জানান, বৃহস্পতিবার রাতে জাতীয় ঈদগাহ মাঠের প্রধান গেটের পাশে দুটি নীল রঙের ড্রামের ভেতর থেকে ২৬ টুকরা মানবদেহ উদ্ধার করার পর ডিবি ছায়া তদন্ত শুরু করে। সিসিটিভি ফুটেজ, কল রেকর্ড ও গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণে দ্রুতই সন্দেহভাজন হিসেবে জরেজুল ও শামীমার নাম উঠে আসে।

তদন্তে বেরিয়ে আসে আরও ভয়াবহ তথ্য—রাজধানীর দনিয়ার একটি ভাড়া বাসায় পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয় আশরাফুলকে। হত্যার পর মরদেহটি দুই দিন ধরে সেই বাসাতেই লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। পরে মরদেহ গুমের উদ্দেশ্যে দা দিয়ে ২৬ টুকরো করে দুটি ড্রামে ভরে হাইকোর্টের সামনে এনে ফেলে রেখে যায় জরেজুল ও শামীমা।

ডিবির যুগ্ম কমিশনার (দক্ষিণ) নাসিরুল ইসলাম জানান, জরেজুলকে গ্রেপ্তারের পর দনিয়ার বাসায় অভিযান চালিয়ে রক্তমাখা হাতুড়ি উদ্ধার করা হয়েছে, যা হত্যায় ব্যবহৃত মূল অস্ত্র হিসেবে ধারণা করা হচ্ছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জরেজুল হত্যার দায় স্বীকার করেছে বলেও জানান তিনি।

তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, মালয়েশিয়াপ্রবাসী জরেজুল ও নিহত আশরাফুল শৈশবের বন্ধু ছিলেন। প্রায় তিন বছর আগে ‘বিগো লাইভ’ অ্যাপে পরিচয় হয় জরেজুলের সঙ্গে শামীমা আক্তারের। সেখান থেকেই তাদের ঘনিষ্ঠতা বাড়তে থাকে। তবে পরে আশরাফুলও শামীমার সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলেন। এই ত্রিভুজ সম্পর্ক নিয়েই শুরু হয় ঈর্ষা ও মানসিক দ্বন্দ্ব। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে গত মঙ্গলবার দনিয়ার বাসায় বালিশ চাপা ও হাতুড়ি দিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয় আশরাফুলকে।

হত্যার পরও তারা বাসার ভেতরে মৃতদেহ রেখে স্বাভাবিকভাবেই চলাফেরা করেন। বুধবার রাত পর্যন্ত লাশটি ঘরে লুকিয়ে রেখে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পরিকল্পনামাফিক ড্রামে ভরে জাতীয় ঈদগাহ মাঠের কাছে এনে ফেলে পালিয়ে যায় তারা।

পুলিশ মরদেহের সুরতহাল ও শনাক্তকরণ সম্পন্ন করার পর জানা যায়, নিহত আশরাফুল রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার নয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তার স্ত্রী, দশ বছরের এক মেয়ে এবং সাত বছরের একটি ছেলে রয়েছে। আশরাফুলের বোন আনজিরা বেগম বাদী হয়ে শাহবাগ থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।

এ ঘটনায় রাজধানীতে চাঞ্চল্যের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও আতঙ্ক ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ বলছে, পুরো ঘটনার আরো অনেক দিক তদন্ত করা হচ্ছে, এবং কেউ জড়িত থাকলে তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।