জামায়াতে ইসলামী ধর্মের নামে ব্যবসা করা একটি দল — নীলা ইসরাফিল
- Update Time : ০৯:১১:৩৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৪ নভেম্বর ২০২৫
- / ২২৩ Time View

সাবেক এনসিপি নেত্রী নীলা ইসরাফিল সম্প্রতি এক ভিডিও বার্তায় জামায়াতে ইসলামীর চরিত্র ও রাজনৈতিক আচরণ সম্পর্কে তীব্র সমালোচনা করে বলেন, বাংলাদেশে এতদিন যারা এই দলটিকে শুধুই ধর্মীয় সংগঠন বা শান্তিবাদী রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে ভেবেছে, তারা আসলে ভয়ংকর ভুল করেছে। তার ভাষায়, “জামায়াতে ইসলামী এমন একটি দল, যারা ধর্মকে ব্যবসা বানিয়েছে, ধর্মের অপব্যাখ্যা করে মানুষের আবেগকে ব্যবহার করেছে। এই দল শিরককারী, ধর্ম ব্যবসায়ী এবং বাস্তবে একটি টেরোরিস্ট সংগঠনের মতো আচরণ করে। আমরা সাধারণ মানুষ এতদিন তা বুঝতে পারিনি।”
নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে প্রকাশিত ভিডিও বার্তায় নীলা ইসরাফিল আরও বলেন, শেখ হাসিনা জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করেছিলেন কারণ তিনি দলটির প্রকৃতি গভীরভাবে বুঝেছিলেন। “আমরা অনেকেই ভেবেছিলাম—একটা দলকে কেন নিষিদ্ধ করা হবে? তাদেরও কি রাজনীতি করার অধিকার নেই? কিন্তু আজকে বাস্তবতা পুরোপুরি পরিষ্কার হয়েছে। হাসিনা কেন তাদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে বাধা দিয়েছিলেন, আজ তা নিখুঁতভাবে বুঝতে পারছি।” — বলেন তিনি।
নীলা ইসরাফিল বাংলাদেশের সামাজিক ও ধর্মীয় সম্প্রীতির প্রসঙ্গ তুলে আরও বলেন, “বাংলাদেশ একটি সমৃদ্ধ দেশ। এখানে হিন্দু-মুসলিম-বৌদ্ধ-খ্রিস্টানসহ সব ধর্ম, সব গোত্র, সব জাতিগোষ্ঠী মিলেমিশে একসঙ্গে বাস করে। আমাদের সংস্কৃতি, আমাদের মানসিকতার শক্তি এটাই—আমরা ভাই-ভাই, বোন-বোন। এই ভ্রাতৃত্বকে যারা ধর্মের নামে বিভ্রান্তি তৈরি করে ভেঙে দিতে চায়, তাদেরকে মুনাফিক ছাড়া আর কিছু বলা যায় না।”
জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় এলে দেশে কী ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে তা নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, “নারীদের কথা বাদই দিলাম, সাধারণ মানুষই বা বাঁচবে কীভাবে? বাউল শিল্পীদের ওপর হামলা, মুক্তচিন্তা ও সংস্কৃতির ওপর আঘাত, মাঠে-ঘাটে নারীদের ধর্ষণ—এসব ঘটনায় এদের প্রকৃত চেহারা প্রকাশ পায়। এটা কোন রাষ্ট্র? আমরা কী ধরনের বাংলাদেশে পৌঁছে গেছি?”
ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নীরবতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন নীলা। তিনি বলেন, “ড. ইউনূস কী করছেন? তিনি কি কোনওভাবে রাজনৈতিক সুরক্ষা
নীলার বক্তব্যে স্পষ্ট—তিনি মনে করেন জামায়াতে ইসলামী কেবল রাজনৈতিক দল নয়, বরং ধর্মকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে ক্ষমতা দখলের উদ্দেশ্যে তৎপর একটি গোষ্ঠী, যার কর্মকাণ্ড দেশের বহুত্ববাদ, ধর্মীয় সম্প্রীতি ও মানবাধিকারকে গুরুতরভাবে হুমকির মুখে ফেলতে পারে।

















