সময়: সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬, ৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পাবলিক টয়লেট সমাচার: টিকিট কেটেও কেন স্টেশনের টয়লেট ব্যবহার করতে অতিরিক্ত টাকা দিতে হবে?

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ০৮:১৩:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
  • / ১১৬ Time View

 

বাংলাদেশ রেলওয়ে দেশের কোটি মানুষের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও সাশ্রয়ী গণপরিবহন। প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রী ট্যাক্স ও ভ্যাটসহ নির্ধারিত ভাড়া পরিশোধ করে ট্রেনে ভ্রমণ করেন। কিন্তু প্রশ্ন হলো—এই অর্থের বিনিময়ে একজন যাত্রী কি ন্যূনতম নাগরিক সেবাটুকুও পাচ্ছেন?

ট্রেনের সময়সূচি, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, নিরাপত্তা ও যাত্রীসেবার নানা সীমাবদ্ধতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ রয়েছে। তবে এর বাইরেও একটি বিষয় প্রতিনিয়ত সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে—রেলস্টেশনের পাবলিক টয়লেট ব্যবহারে অতিরিক্ত অর্থ আদায়।

একজন যাত্রী যখন বৈধভাবে টিকিট কিনছেন এবং সেই টিকিটের সঙ্গে সরকারকে ট্যাক্স ও ভ্যাটও দিচ্ছেন, তখন স্টেশনের টয়লেট ব্যবহারের জন্য আবার আলাদা করে টাকা দিতে হবে কেন? এটি কি বাংলাদেশ রেলওয়ের নীতিমালার অংশ, নাকি ইজারা বা ঠিকাদারি ব্যবস্থার কারণে যাত্রীদের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক বোঝা চাপানো হচ্ছে?

বিশেষ করে ঢাকা কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন এবং বিমানবন্দর (এয়ারপোর্ট) রেলওয়ে স্টেশনে এই চিত্র অত্যন্ত হতাশাজনক। দেশের প্রধান দুটি রেলস্টেশনে বৈধ টিকিটধারী যাত্রীদের কাছ থেকেও টয়লেট ব্যবহারের জন্য আলাদা অর্থ আদায়ের বিষয়টি সত্যিই প্রশ্নবিদ্ধ এবং একটি আধুনিক জনসেবামুখী রেলব্যবস্থার সঙ্গে মোটেও সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

পাবলিক টয়লেট কোনো বিলাসী সেবা নয়; এটি একটি মৌলিক জনসেবা। বিশেষ করে নারী, শিশু, প্রবীণ ও অসুস্থ যাত্রীদের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অথচ অনেক স্টেশনে টয়লেট ব্যবহারের জন্য অতিরিক্ত টাকা দিতে হয়, যা যাত্রীদের জন্য বিব্রতকর ও অস্বস্তিকর অভিজ্ঞতা তৈরি করে।

বিশ্বের অনেক দেশেই বৈধ টিকিটধারী যাত্রীদের জন্য রেলস্টেশনের মৌলিক সুবিধাগুলো সহজলভ্য রাখা হয়। বাংলাদেশেও যদি সত্যিকার অর্থে যাত্রীবান্ধব রেলব্যবস্থা গড়ে তুলতে হয়, তবে এমন ছোট কিন্তু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর প্রতিও গুরুত্ব দিতে হবে।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত বিষয়টি গুরুত্বসহকারে পর্যালোচনা করা এবং বৈধ টিকিটধারী যাত্রীদের জন্য স্টেশন টয়লেট ব্যবহারের ব্যবস্থা বিনামূল্যে অথবা টিকিটের সেবার অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া। এতে একদিকে যেমন যাত্রীসেবার মান উন্নত হবে, অন্যদিকে বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রতি মানুষের আস্থা আরও বৃদ্ধি পাবে।

বিষয়টি অনেকের কাছে ছোট মনে হতে পারে। কিন্তু যারা নিয়মিত ট্রেনে ভ্রমণ করেন এবং স্টেশনে নেমে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হন, তারাই জানেন এই অতিরিক্ত অর্থ আদায় কতটা অযৌক্তিক ও ভোগান্তিকর। একটি আধুনিক, মানবিক ও জনবান্ধব রেলব্যবস্থা গড়ে তুলতে হলে এমন মৌলিক সেবাগুলোর উন্নয়ন এবং বৈধ টিকিটধারী যাত্রীদের জন্য অপ্রয়োজনীয় অতিরিক্ত ব্যয় দূর করাও সময়ের দাবি।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

পাবলিক টয়লেট সমাচার: টিকিট কেটেও কেন স্টেশনের টয়লেট ব্যবহার করতে অতিরিক্ত টাকা দিতে হবে?

Update Time : ০৮:১৩:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬

 

বাংলাদেশ রেলওয়ে দেশের কোটি মানুষের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও সাশ্রয়ী গণপরিবহন। প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রী ট্যাক্স ও ভ্যাটসহ নির্ধারিত ভাড়া পরিশোধ করে ট্রেনে ভ্রমণ করেন। কিন্তু প্রশ্ন হলো—এই অর্থের বিনিময়ে একজন যাত্রী কি ন্যূনতম নাগরিক সেবাটুকুও পাচ্ছেন?

ট্রেনের সময়সূচি, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, নিরাপত্তা ও যাত্রীসেবার নানা সীমাবদ্ধতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ রয়েছে। তবে এর বাইরেও একটি বিষয় প্রতিনিয়ত সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে—রেলস্টেশনের পাবলিক টয়লেট ব্যবহারে অতিরিক্ত অর্থ আদায়।

একজন যাত্রী যখন বৈধভাবে টিকিট কিনছেন এবং সেই টিকিটের সঙ্গে সরকারকে ট্যাক্স ও ভ্যাটও দিচ্ছেন, তখন স্টেশনের টয়লেট ব্যবহারের জন্য আবার আলাদা করে টাকা দিতে হবে কেন? এটি কি বাংলাদেশ রেলওয়ের নীতিমালার অংশ, নাকি ইজারা বা ঠিকাদারি ব্যবস্থার কারণে যাত্রীদের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক বোঝা চাপানো হচ্ছে?

বিশেষ করে ঢাকা কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন এবং বিমানবন্দর (এয়ারপোর্ট) রেলওয়ে স্টেশনে এই চিত্র অত্যন্ত হতাশাজনক। দেশের প্রধান দুটি রেলস্টেশনে বৈধ টিকিটধারী যাত্রীদের কাছ থেকেও টয়লেট ব্যবহারের জন্য আলাদা অর্থ আদায়ের বিষয়টি সত্যিই প্রশ্নবিদ্ধ এবং একটি আধুনিক জনসেবামুখী রেলব্যবস্থার সঙ্গে মোটেও সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

পাবলিক টয়লেট কোনো বিলাসী সেবা নয়; এটি একটি মৌলিক জনসেবা। বিশেষ করে নারী, শিশু, প্রবীণ ও অসুস্থ যাত্রীদের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অথচ অনেক স্টেশনে টয়লেট ব্যবহারের জন্য অতিরিক্ত টাকা দিতে হয়, যা যাত্রীদের জন্য বিব্রতকর ও অস্বস্তিকর অভিজ্ঞতা তৈরি করে।

বিশ্বের অনেক দেশেই বৈধ টিকিটধারী যাত্রীদের জন্য রেলস্টেশনের মৌলিক সুবিধাগুলো সহজলভ্য রাখা হয়। বাংলাদেশেও যদি সত্যিকার অর্থে যাত্রীবান্ধব রেলব্যবস্থা গড়ে তুলতে হয়, তবে এমন ছোট কিন্তু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর প্রতিও গুরুত্ব দিতে হবে।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত বিষয়টি গুরুত্বসহকারে পর্যালোচনা করা এবং বৈধ টিকিটধারী যাত্রীদের জন্য স্টেশন টয়লেট ব্যবহারের ব্যবস্থা বিনামূল্যে অথবা টিকিটের সেবার অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া। এতে একদিকে যেমন যাত্রীসেবার মান উন্নত হবে, অন্যদিকে বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রতি মানুষের আস্থা আরও বৃদ্ধি পাবে।

বিষয়টি অনেকের কাছে ছোট মনে হতে পারে। কিন্তু যারা নিয়মিত ট্রেনে ভ্রমণ করেন এবং স্টেশনে নেমে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হন, তারাই জানেন এই অতিরিক্ত অর্থ আদায় কতটা অযৌক্তিক ও ভোগান্তিকর। একটি আধুনিক, মানবিক ও জনবান্ধব রেলব্যবস্থা গড়ে তুলতে হলে এমন মৌলিক সেবাগুলোর উন্নয়ন এবং বৈধ টিকিটধারী যাত্রীদের জন্য অপ্রয়োজনীয় অতিরিক্ত ব্যয় দূর করাও সময়ের দাবি।