সময়: বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হাসিনা দেশে ফিরতে চান, তবে…

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ০৮:২৮:৫৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ নভেম্বর ২০২৫
  • / ৪৬০ Time View

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতীয় দৈনিক দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, তিনি বাংলাদেশে ফিরতে ইচ্ছুক। তবে তাঁর প্রত্যাবর্তনের শর্ত পরিষ্কার—দেশে আগে অবাধ, সুষ্ঠু সকল রাজনৈতিক শক্তির অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করতে হবে। দিল্লির একটি নিরাপদ ও গোপন স্থানে অবস্থানরত হাসিনা সাক্ষাৎকারে বলেন, “এখানে আমি আপাতত স্বাধীনভাবে দিন কাটাতে পারছি। যুক্তিযুক্ত সীমার মধ্যে যা চাই, তা করতে পারছি।”

সাক্ষাৎকারে তিনি বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতা ও ক্ষমতাচ্যুতির ঘটনার জন্য সরাসরি দায়ী করেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে। তাঁর দাবি, উগ্রপন্থী গোষ্ঠীগুলো আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইউনূসকে ব্যবহার করছে, আর এর ফলে বাংলাদেশের বহুদিনের সহনশীল সামাজিক কাঠামো ভেঙে পড়ছে।

অভ্যুত্থান প্রসঙ্গে হাসিনার বক্তব্য

শেখ হাসিনা বলেন, জুলাই-আগস্টের আন্দোলন মূলত সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতির সংস্কারকে কেন্দ্র করেই শুরু হয়েছিল এবং তা প্রথমে ছিল শান্তিপূর্ণ। সরকার দাবি মেনে নিলেও আচমকা আন্দোলনের রূপ পাল্টে সহিংসতায় পরিণত হয়। তাঁর দাবি, আন্দোলনকে সহিংসতার দিকে ঠেলে দেয় একটি চরমপন্থি সংগঠন, যারা পরিকল্পিতভাবে পরিস্থিতি ঘোলাটে করে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, সরকারের হাতে থাকা ফরেনসিক তদন্ত প্রতিবেদনে বিদেশি ভাড়াটে উস্কানিদাতাদের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে। তাঁর ভাষায়, “আমার ধারণা, ইউনূস ও তাঁর অনুগামীরা আন্দোলনকে সহিংসতার দিকে ঠেলে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।”

এটা কোনো রাজনৈতিক আন্দোলন ছিল না”

দুর্নীতি ও অন্যান্য অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে হাসিনা তা একেবারেই নাকচ করে দেন। তিনি বলেন, এসব মামলা ও অভিযোগ রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের তৈরি কাল্পনিক গল্প। তাঁর মতে, আন্দোলনের চরিত্র ছিল সামাজিক, কিন্তু উদ্দেশ্য ছিল রাজনৈতিক উস্কানি সৃষ্টি করে সরকারকে হটানো।

বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ

হাসিনার অভিযোগ, ড. ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বাংলাদেশ দ্রুত উগ্রপন্থার দিকে ঝুঁকে পড়ছে। তিনি দাবি করেন,

  • মন্ত্রিসভায় উগ্রবাদী মতাদর্শের মানুষ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে,
  • সংখ্যালঘু সম্প্রদায় ক্রমেই ঝুঁকিতে পড়ছে,
  • দেশের বহুদিনের ধর্মনিরপেক্ষ রাজনৈতিক কাঠামো ভেঙে পড়ছে।

তাঁর ভাষায়, “যে সমাজটিকে আমরা শান্তিপূর্ণ ও সহনশীল পরিচয়ে গড়ে তুলেছিলাম, তা এখন অস্থিতিশীলতার দিকে যাচ্ছে। এই ধারা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে সংখ্যালঘুরা বড় ধরনের টার্গেটে পরিণত হতে পারে।”

দেশে ফেরা নাকি অনিশ্চয়তা?

শেখ হাসিনা স্পষ্ট করে জানান, তিনি দেশে ফিরতে চান—কিন্তু বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি তাঁর নিরাপত্তা ও গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্য কতটা অনুকূল, তা নিয়েই তাঁর প্রধান শঙ্কা। তিনি মনে করেন, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমেই রাজনৈতিক স্বাভাবিকতা ফিরিয়ে আনা সম্ভব।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

হাসিনা দেশে ফিরতে চান, তবে…

Update Time : ০৮:২৮:৫৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ নভেম্বর ২০২৫

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতীয় দৈনিক দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, তিনি বাংলাদেশে ফিরতে ইচ্ছুক। তবে তাঁর প্রত্যাবর্তনের শর্ত পরিষ্কার—দেশে আগে অবাধ, সুষ্ঠু সকল রাজনৈতিক শক্তির অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করতে হবে। দিল্লির একটি নিরাপদ ও গোপন স্থানে অবস্থানরত হাসিনা সাক্ষাৎকারে বলেন, “এখানে আমি আপাতত স্বাধীনভাবে দিন কাটাতে পারছি। যুক্তিযুক্ত সীমার মধ্যে যা চাই, তা করতে পারছি।”

সাক্ষাৎকারে তিনি বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতা ও ক্ষমতাচ্যুতির ঘটনার জন্য সরাসরি দায়ী করেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে। তাঁর দাবি, উগ্রপন্থী গোষ্ঠীগুলো আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইউনূসকে ব্যবহার করছে, আর এর ফলে বাংলাদেশের বহুদিনের সহনশীল সামাজিক কাঠামো ভেঙে পড়ছে।

অভ্যুত্থান প্রসঙ্গে হাসিনার বক্তব্য

শেখ হাসিনা বলেন, জুলাই-আগস্টের আন্দোলন মূলত সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতির সংস্কারকে কেন্দ্র করেই শুরু হয়েছিল এবং তা প্রথমে ছিল শান্তিপূর্ণ। সরকার দাবি মেনে নিলেও আচমকা আন্দোলনের রূপ পাল্টে সহিংসতায় পরিণত হয়। তাঁর দাবি, আন্দোলনকে সহিংসতার দিকে ঠেলে দেয় একটি চরমপন্থি সংগঠন, যারা পরিকল্পিতভাবে পরিস্থিতি ঘোলাটে করে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, সরকারের হাতে থাকা ফরেনসিক তদন্ত প্রতিবেদনে বিদেশি ভাড়াটে উস্কানিদাতাদের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে। তাঁর ভাষায়, “আমার ধারণা, ইউনূস ও তাঁর অনুগামীরা আন্দোলনকে সহিংসতার দিকে ঠেলে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।”

এটা কোনো রাজনৈতিক আন্দোলন ছিল না”

দুর্নীতি ও অন্যান্য অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে হাসিনা তা একেবারেই নাকচ করে দেন। তিনি বলেন, এসব মামলা ও অভিযোগ রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের তৈরি কাল্পনিক গল্প। তাঁর মতে, আন্দোলনের চরিত্র ছিল সামাজিক, কিন্তু উদ্দেশ্য ছিল রাজনৈতিক উস্কানি সৃষ্টি করে সরকারকে হটানো।

বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ

হাসিনার অভিযোগ, ড. ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বাংলাদেশ দ্রুত উগ্রপন্থার দিকে ঝুঁকে পড়ছে। তিনি দাবি করেন,

  • মন্ত্রিসভায় উগ্রবাদী মতাদর্শের মানুষ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে,
  • সংখ্যালঘু সম্প্রদায় ক্রমেই ঝুঁকিতে পড়ছে,
  • দেশের বহুদিনের ধর্মনিরপেক্ষ রাজনৈতিক কাঠামো ভেঙে পড়ছে।

তাঁর ভাষায়, “যে সমাজটিকে আমরা শান্তিপূর্ণ ও সহনশীল পরিচয়ে গড়ে তুলেছিলাম, তা এখন অস্থিতিশীলতার দিকে যাচ্ছে। এই ধারা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে সংখ্যালঘুরা বড় ধরনের টার্গেটে পরিণত হতে পারে।”

দেশে ফেরা নাকি অনিশ্চয়তা?

শেখ হাসিনা স্পষ্ট করে জানান, তিনি দেশে ফিরতে চান—কিন্তু বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি তাঁর নিরাপত্তা ও গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্য কতটা অনুকূল, তা নিয়েই তাঁর প্রধান শঙ্কা। তিনি মনে করেন, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমেই রাজনৈতিক স্বাভাবিকতা ফিরিয়ে আনা সম্ভব।