সময়: বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভারতীয় দূতকে তলব,হাসিনার সঙ্গে গণমাধ্যমের কথা বলা বন্ধের আহ্বান

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ০৫:৩১:২৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ নভেম্বর ২০২৫
  • / ২০৬ Time View

দিল্লিতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক গণমাধ্যমে উপস্থিতি ঘিরে কূটনৈতিক অস্বস্তি তৈরি হয়েছে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের মধ্যে। বাংলাদেশ সরকার মনে করছে, ভারতের মূলধারার গণমাধ্যমগুলোতে পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য প্রচার দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ও আস্থার পরিবেশের জন্য অনুকূল নয়।

এই প্রেক্ষাপটে বুধবার (১২ নভেম্বর) সকালে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় উপহাইকমিশনার পবন ভাদে-কে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করা হয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দক্ষিণ এশিয়া অনুবিভাগের মহাপরিচালক তাঁর হাতে বাংলাদেশের উদ্বেগের বার্তাটি তুলে দেন।

কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়— দিল্লিতে শেখ হাসিনাকে মূলধারার ভারতীয় গণমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে হস্তক্ষেপের ইঙ্গিত বহন করছে এবং এতে দুই দেশের দীর্ঘদিনের পারস্পরিক আস্থা ও সৌহার্দ্যের পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

একজন জ্যেষ্ঠ পররাষ্ট্র কর্মকর্তা বলেন, “একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রী, যিনি মানবতাবিরোধী অপরাধসহ একাধিক মামলায় বিচারাধীন ও পলাতক, তাঁর গণমাধ্যমে উপস্থিতি কেবল রাজনৈতিক বিতর্ককেই উস্কে দিচ্ছে না, বরং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের স্বাভাবিক প্রবাহেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।”

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এ সময় আরও বলা হয়, ভারতের রাজধানীতে এমন একজন ব্যক্তিকে আশ্রয় দেওয়া এবং তাঁকে বাংলাদেশবিরোধী ঘৃণামূলক বক্তব্যের” মঞ্চ করে দেওয়া বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের নীতি ও কূটনৈতিক সৌজন্যের পরিপন্থী।

ঢাকা স্পষ্ট করে জানিয়েছে, দিল্লিতে বসে শেখ হাসিনার গণমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়া শুধুমাত্র বাংলাদেশ সরকারের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের দৃষ্টান্তই নয়, বরং এর মাধ্যমে এক ধরনের “রাজনৈতিক বার্তা” পাঠানো হচ্ছে, যা জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে।

বাংলাদেশ সরকার ভারতের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, যেন তারা অবিলম্বে শেখ হাসিনাকে মূলধারার গণমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেয় এবং এ বিষয়ে দুই দেশের কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে সমন্বয় করে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভারতীয় উপহাইকমিশনার পবন ভাদেকে অনুরোধ করা হয়েছে, তিনি যেন বাংলাদেশের এই উদ্বেগ ও আহ্বান দ্রুততম সময়ে নয়াদিল্লিতে পৌঁছে দেন এবং এ বিষয়ে ভারতের অবস্থান জানাতে পরবর্তী বৈঠকে প্রস্তুত থাকেন।

একজন কূটনৈতিক বিশ্লেষক বলেন, “এ ধরনের ঘটনা দুই দেশের সম্পর্কের সূক্ষ্ম ভারসাম্যকে নষ্ট করতে পারে। বিশেষ করে সীমান্ত নিরাপত্তা, বাণিজ্য, ও আঞ্চলিক সহযোগিতার মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে যদি রাজনৈতিক অবিশ্বাস বাড়ে, তবে তা দক্ষিণ এশিয়ার কৌশলগত ভারসাম্যেও প্রভাব ফেলবে।”

প্রসঙ্গত, শেখ হাসিনা বর্তমানে দিল্লিতে অবস্থান করছেন এবং সেখান থেকে সম্প্রতি কয়েকটি ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন, যেখানে তিনি বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রক্রিয়া, নির্বাচন এবং প্রশাসনিক বিষয় নিয়ে মন্তব্য করেন। এই বক্তব্যগুলো বাংলাদেশে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে, যার পরিপ্রেক্ষিতেই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ভারতীয় উপহাইকমিশনারকে তলব করে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানায়।

কূটনৈতিক মহলের মতে, এই পদক্ষেপ বাংলাদেশের কূটনৈতিক অবস্থানের দৃঢ় বার্তা বহন করে— যে কোনো দেশই তার অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বাইরের হস্তক্ষেপ বা প্রভাবের প্রচেষ্টা সহ্য করবে না।

সূত্র: প্রথম আলো ও কূটনৈতিক মহলের তথ্য।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

ভারতীয় দূতকে তলব,হাসিনার সঙ্গে গণমাধ্যমের কথা বলা বন্ধের আহ্বান

Update Time : ০৫:৩১:২৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ নভেম্বর ২০২৫

দিল্লিতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক গণমাধ্যমে উপস্থিতি ঘিরে কূটনৈতিক অস্বস্তি তৈরি হয়েছে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের মধ্যে। বাংলাদেশ সরকার মনে করছে, ভারতের মূলধারার গণমাধ্যমগুলোতে পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য প্রচার দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ও আস্থার পরিবেশের জন্য অনুকূল নয়।

এই প্রেক্ষাপটে বুধবার (১২ নভেম্বর) সকালে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় উপহাইকমিশনার পবন ভাদে-কে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করা হয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দক্ষিণ এশিয়া অনুবিভাগের মহাপরিচালক তাঁর হাতে বাংলাদেশের উদ্বেগের বার্তাটি তুলে দেন।

কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়— দিল্লিতে শেখ হাসিনাকে মূলধারার ভারতীয় গণমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে হস্তক্ষেপের ইঙ্গিত বহন করছে এবং এতে দুই দেশের দীর্ঘদিনের পারস্পরিক আস্থা ও সৌহার্দ্যের পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

একজন জ্যেষ্ঠ পররাষ্ট্র কর্মকর্তা বলেন, “একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রী, যিনি মানবতাবিরোধী অপরাধসহ একাধিক মামলায় বিচারাধীন ও পলাতক, তাঁর গণমাধ্যমে উপস্থিতি কেবল রাজনৈতিক বিতর্ককেই উস্কে দিচ্ছে না, বরং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের স্বাভাবিক প্রবাহেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।”

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এ সময় আরও বলা হয়, ভারতের রাজধানীতে এমন একজন ব্যক্তিকে আশ্রয় দেওয়া এবং তাঁকে বাংলাদেশবিরোধী ঘৃণামূলক বক্তব্যের” মঞ্চ করে দেওয়া বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের নীতি ও কূটনৈতিক সৌজন্যের পরিপন্থী।

ঢাকা স্পষ্ট করে জানিয়েছে, দিল্লিতে বসে শেখ হাসিনার গণমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়া শুধুমাত্র বাংলাদেশ সরকারের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের দৃষ্টান্তই নয়, বরং এর মাধ্যমে এক ধরনের “রাজনৈতিক বার্তা” পাঠানো হচ্ছে, যা জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে।

বাংলাদেশ সরকার ভারতের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, যেন তারা অবিলম্বে শেখ হাসিনাকে মূলধারার গণমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেয় এবং এ বিষয়ে দুই দেশের কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে সমন্বয় করে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভারতীয় উপহাইকমিশনার পবন ভাদেকে অনুরোধ করা হয়েছে, তিনি যেন বাংলাদেশের এই উদ্বেগ ও আহ্বান দ্রুততম সময়ে নয়াদিল্লিতে পৌঁছে দেন এবং এ বিষয়ে ভারতের অবস্থান জানাতে পরবর্তী বৈঠকে প্রস্তুত থাকেন।

একজন কূটনৈতিক বিশ্লেষক বলেন, “এ ধরনের ঘটনা দুই দেশের সম্পর্কের সূক্ষ্ম ভারসাম্যকে নষ্ট করতে পারে। বিশেষ করে সীমান্ত নিরাপত্তা, বাণিজ্য, ও আঞ্চলিক সহযোগিতার মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে যদি রাজনৈতিক অবিশ্বাস বাড়ে, তবে তা দক্ষিণ এশিয়ার কৌশলগত ভারসাম্যেও প্রভাব ফেলবে।”

প্রসঙ্গত, শেখ হাসিনা বর্তমানে দিল্লিতে অবস্থান করছেন এবং সেখান থেকে সম্প্রতি কয়েকটি ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন, যেখানে তিনি বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রক্রিয়া, নির্বাচন এবং প্রশাসনিক বিষয় নিয়ে মন্তব্য করেন। এই বক্তব্যগুলো বাংলাদেশে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে, যার পরিপ্রেক্ষিতেই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ভারতীয় উপহাইকমিশনারকে তলব করে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানায়।

কূটনৈতিক মহলের মতে, এই পদক্ষেপ বাংলাদেশের কূটনৈতিক অবস্থানের দৃঢ় বার্তা বহন করে— যে কোনো দেশই তার অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বাইরের হস্তক্ষেপ বা প্রভাবের প্রচেষ্টা সহ্য করবে না।

সূত্র: প্রথম আলো ও কূটনৈতিক মহলের তথ্য।