‘চাচাকে বাবা সাজিয়ে’ মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চাকরি নেওয়া সেই ইউএনও কামাল হোসেনকে ওএসডি করা হয়েছে
- Update Time : ১০:৩৫:৪৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ নভেম্বর ২০২৫
- / ১৯২ Time View

নিজের চাচাকে বাবা পরিচয় দিয়ে মুক্তিযোদ্ধা কোটার সুবিধা নিয়ে প্রশাসন ক্যাডারে চাকরি পাওয়ার অভিযোগে চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. কামাল হোসেনকে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হয়েছে। বুধবার (৫ নভেম্বর) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এক প্রজ্ঞাপনে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, “চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার নাচোল উপজেলার নির্বাহী অফিসার মো. কামাল হোসেনকে জনস্বার্থে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হলো। এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।”
দুদকের তদন্তে ডিএনএ পরীক্ষার সিদ্ধান্ত
এর একদিন আগে, মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর), দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার তদন্তে ডিএনএ পরীক্ষা করার সিদ্ধান্ত নেয়। দুদক জানায়, ইউএনও কামাল হোসেন মুক্তিযোদ্ধা কোটায় সুবিধা পেতে নিজের জন্মদাতা পিতা-মাতার পরিবর্তে চাচা ও চাচিকে বাবা-মা হিসেবে দেখিয়ে প্রতারণা করেছেন।
দুদকের মহাপরিচালক আখতার হোসেন গণমাধ্যমকে জানান, “কামাল হোসেন মুক্তিযোদ্ধা চাচাকে বাবা পরিচয়ে প্রতারণা করে কোটা সুবিধা নিয়ে বিসিএসে চাকরি নিয়েছেন। তার বিরুদ্ধে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদ ব্যবহার করে সরকারি চাকরি ও অন্যান্য সুবিধা গ্রহণের অভিযোগে একাধিক তদন্ত চলছে।”
প্রতারণার বিস্তারিত অভিযোগ
মামলার তথ্য অনুযায়ী, কামাল হোসেন ৩৫তম বিসিএস পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সময় মুক্তিযোদ্ধা কোটায় সুবিধা পেতে নিজের প্রকৃত পিতা-মাতা মো. আবুল কাশেম ও মোছা. হাবিয়া খাতুনের পরিবর্তে চাচা মো. আহসান হাবীব (বীর মুক্তিযোদ্ধা) এবং চাচি মোছা. সানোয়ারা খাতুনকে পিতা-মাতা হিসেবে উল্লেখ করেন। তদন্তে প্রমাণ পাওয়া গেছে, এই পরিচয় জালিয়াতির মাধ্যমে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি, চাকরি ও সরকারি সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেছেন।
পেশাগত দায়িত্ব ও বর্তমান অবস্থা
বর্তমানে মো. কামাল হোসেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন। এর আগে তিনি মাগুরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সিনিয়র সহকারী কমিশনার এবং নওগাঁর আত্রাই উপজেলার ইউএনও হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
দুদকের মামলাটি দায়ের করা হয় গত বছরের ২৬ ডিসেম্বর, যেখানে তার বিরুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় জালিয়াতি, মিথ্যা তথ্য প্রদান এবং প্রতারণার মাধ্যমে সরকারি চাকরি গ্রহণের অভিযোগ আনা হয়।
সরকারি সূত্র জানিয়েছে, ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে তার পারিবারিক পরিচয় নিশ্চিত করার পর পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তবে ইতিমধ্যেই তাকে পদ থেকে সরিয়ে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার মাধ্যমে কার্যত প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনাটি সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থার অপব্যবহারের একটি নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত, যা ভবিষ্যতে নিয়োগপ্রক্রিয়ায় আরও কঠোর যাচাই-বাছাইয়ের প্রয়োজনীয়তা নির্দেশ করছে।













