সৌদিতে ফেলে আসা লাগেজের জেরে কসবায় সংঘর্ষ, আহত ১৫; বিএনপি-জামায়াত নেতাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত
- Update Time : ০৫:৪৯:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
- / ১১৫ Time View

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলায় সৌদি আরব থেকে ফেরার সময় এক হজযাত্রীর ফেলে আসা লাগেজকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। পরে স্থানীয় রাজনৈতিক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
শনিবার (১৩ জুন) সকালে উপজেলার কদমতলী মোড় এলাকায় শাহপুর ও আড়াইবাড়ী গ্রামের লোকজনের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শাহপুর গ্রামের এক বৃদ্ধা চলতি বছর কসবা হজ কাফেলার মাধ্যমে পবিত্র হজ পালন করতে সৌদি আরব গিয়েছিলেন। দেশে ফেরার সময় তার একটি লাগেজ সৌদি আরবে থেকে যায়। বিষয়টি নিয়ে গত বৃহস্পতিবার ওই বৃদ্ধার পরিবারের সদস্যরা সংশ্লিষ্ট হজ এজেন্সির সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং লাগেজ ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানান।
এ সময় হজ এজেন্সির পক্ষ থেকে জানানো হয়, ব্যক্তিগত লাগেজের দায়-দায়িত্ব মূলত হজযাত্রীর নিজের। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে তর্ক-বিতর্কের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে এজেন্সির কার্যালয়ে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এর জের ধরে শনিবার সকালে কদমতলী এলাকায় দুই গ্রামের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মুখোমুখি অবস্থান নেয়। পরে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়লে অন্তত ১৫ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লেও স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াতের নেতাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি বর্তমানে শান্ত রয়েছে বলে জানা গেছে। স্থানীয় সূত্র জানায়, রাতে উভয় পক্ষকে নিয়ে একটি সালিশি বৈঠকের আয়োজন করা হতে পারে।
সংঘর্ষের পর ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় জামায়াত নেতা শিবলি নুমানি, গোলাম সারুয়ার,শিবির নেতা জাহিদ এবং বিএনপি নেতা জনাব এখলাছুর রহমান এবং কামাল উদ্দিনসহ এলাকার বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিত্ব। তারা উভয় পক্ষকে সংযত থাকার আহ্বান জানান এবং শান্তিপূর্ণ সমাধানের উদ্যোগ নেন।
কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজনীন সুলতানা বলেন, “সৌদি আরবে ফেলে আসা একটি লাগেজকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট উত্তেজনার জের ধরেই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেখেছে এবং বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এলাকাবাসীর আশা, সালিশি বৈঠকের মাধ্যমে দ্রুত বিরোধের সমাধান হবে এবং এলাকায় স্থায়ী শান্তি ফিরে আসবে।














