সময়: রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সৌদিতে ফেলে আসা লাগেজের জেরে কসবায় সংঘর্ষ, আহত ১৫; বিএনপি-জামায়াত নেতাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত

বিল্লাল হোসেন
  • Update Time : ০৫:৪৯:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
  • / ১১৫ Time View

 

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলায় সৌদি আরব থেকে ফেরার সময় এক হজযাত্রীর ফেলে আসা লাগেজকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। পরে স্থানীয় রাজনৈতিক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

শনিবার (১৩ জুন) সকালে উপজেলার কদমতলী মোড় এলাকায় শাহপুর ও আড়াইবাড়ী গ্রামের লোকজনের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শাহপুর গ্রামের এক বৃদ্ধা চলতি বছর কসবা হজ কাফেলার মাধ্যমে পবিত্র হজ পালন করতে সৌদি আরব গিয়েছিলেন। দেশে ফেরার সময় তার একটি লাগেজ সৌদি আরবে থেকে যায়। বিষয়টি নিয়ে গত বৃহস্পতিবার ওই বৃদ্ধার পরিবারের সদস্যরা সংশ্লিষ্ট হজ এজেন্সির সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং লাগেজ ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানান।

এ সময় হজ এজেন্সির পক্ষ থেকে জানানো হয়, ব্যক্তিগত লাগেজের দায়-দায়িত্ব মূলত হজযাত্রীর নিজের। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে তর্ক-বিতর্কের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে এজেন্সির কার্যালয়ে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এর জের ধরে শনিবার সকালে কদমতলী এলাকায় দুই গ্রামের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মুখোমুখি অবস্থান নেয়। পরে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়লে অন্তত ১৫ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লেও স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াতের নেতাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি বর্তমানে শান্ত রয়েছে বলে জানা গেছে। স্থানীয় সূত্র জানায়, রাতে উভয় পক্ষকে নিয়ে একটি সালিশি বৈঠকের আয়োজন করা হতে পারে।

সংঘর্ষের পর ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় জামায়াত নেতা শিবলি নুমানি, গোলাম সারুয়ার,শিবির নেতা জাহিদ এবং  বিএনপি নেতা  জনাব এখলাছুর রহমান এবং কামাল উদ্দিনসহ এলাকার বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিত্ব। তারা উভয় পক্ষকে সংযত থাকার আহ্বান জানান এবং শান্তিপূর্ণ সমাধানের উদ্যোগ নেন।

কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজনীন সুলতানা বলেন, “সৌদি আরবে ফেলে আসা একটি লাগেজকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট উত্তেজনার জের ধরেই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেখেছে এবং বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

এলাকাবাসীর আশা, সালিশি বৈঠকের মাধ্যমে দ্রুত বিরোধের সমাধান হবে এবং এলাকায় স্থায়ী শান্তি ফিরে আসবে।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

বিল্লাল হোসেন

বিল্লাল হোসেন, একজন প্রজ্ঞাবান পেশাজীবী, যিনি গণিতের ওপর স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন এবং ব্যাংকার, অর্থনীতিবিদ, ও মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ বিশেষজ্ঞ হিসেবে একটি সমৃদ্ধ ও বহুমুখী ক্যারিয়ার গড়ে তুলেছেন। তার আর্থিক খাতে যাত্রা তাকে নেতৃত্বের ভূমিকায় নিয়ে গেছে, বিশেষ করে সৌদি আরবের আল-রাজি ব্যাংকিং Inc. এবং ব্যাংক-আল-বিলাদে বিদেশী সম্পর্ক ও করেসপন্ডেন্ট মেইন্টেনেন্স অফিসার হিসেবে। প্রথাগত অর্থনীতির গণ্ডির বাইরে, বিল্লাল একজন প্রখ্যাত লেখক ও বিশ্লেষক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন, বিভিন্ন পত্রিকা ও অনলাইন পোর্টালে মননশীল কলাম ও গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপন করে। তার দক্ষতা বিস্তৃত বিষয় জুড়ে রয়েছে, যেমন অর্থনীতির জটিলতা, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, প্রবাসী শ্রমিকদের দুঃখ-কষ্ট, রেমিটেন্স, রিজার্ভ এবং অন্যান্য সম্পর্কিত দিক। বিল্লাল তার লেখায় একটি অনন্য বিশ্লেষণাত্মক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে আসেন, যা ব্যাংকিং ক্যারিয়ারে অর্জিত বাস্তব জ্ঞানকে একত্রিত করে একাডেমিক কঠোরতার সাথে। তার প্রবন্ধগুলো শুধুমাত্র জটিল বিষয়গুলির উপর গভীর বোঝাপড়ার প্রতিফলন নয়, বরং পাঠকদের জন্য জ্ঞানপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি প্রদান করে, যা তত্ত্ব ও বাস্তব প্রয়োগের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করে। বিল্লাল হোসেনের অবদান তার প্রতিশ্রুতি প্রদর্শন করে যে, তিনি আমাদের আন্তঃসংযুক্ত বিশ্বের জটিলতাগুলি উন্মোচন করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যা বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটের একটি বিস্তৃত এবং আরও সূক্ষ্ম বোঝাপড়ার দিকে মূল্যবান অন্তর্দৃষ্টি প্রদান করে।

সৌদিতে ফেলে আসা লাগেজের জেরে কসবায় সংঘর্ষ, আহত ১৫; বিএনপি-জামায়াত নেতাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত

Update Time : ০৫:৪৯:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

 

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলায় সৌদি আরব থেকে ফেরার সময় এক হজযাত্রীর ফেলে আসা লাগেজকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। পরে স্থানীয় রাজনৈতিক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

শনিবার (১৩ জুন) সকালে উপজেলার কদমতলী মোড় এলাকায় শাহপুর ও আড়াইবাড়ী গ্রামের লোকজনের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শাহপুর গ্রামের এক বৃদ্ধা চলতি বছর কসবা হজ কাফেলার মাধ্যমে পবিত্র হজ পালন করতে সৌদি আরব গিয়েছিলেন। দেশে ফেরার সময় তার একটি লাগেজ সৌদি আরবে থেকে যায়। বিষয়টি নিয়ে গত বৃহস্পতিবার ওই বৃদ্ধার পরিবারের সদস্যরা সংশ্লিষ্ট হজ এজেন্সির সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং লাগেজ ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানান।

এ সময় হজ এজেন্সির পক্ষ থেকে জানানো হয়, ব্যক্তিগত লাগেজের দায়-দায়িত্ব মূলত হজযাত্রীর নিজের। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে তর্ক-বিতর্কের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে এজেন্সির কার্যালয়ে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এর জের ধরে শনিবার সকালে কদমতলী এলাকায় দুই গ্রামের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মুখোমুখি অবস্থান নেয়। পরে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়লে অন্তত ১৫ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লেও স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াতের নেতাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি বর্তমানে শান্ত রয়েছে বলে জানা গেছে। স্থানীয় সূত্র জানায়, রাতে উভয় পক্ষকে নিয়ে একটি সালিশি বৈঠকের আয়োজন করা হতে পারে।

সংঘর্ষের পর ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় জামায়াত নেতা শিবলি নুমানি, গোলাম সারুয়ার,শিবির নেতা জাহিদ এবং  বিএনপি নেতা  জনাব এখলাছুর রহমান এবং কামাল উদ্দিনসহ এলাকার বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিত্ব। তারা উভয় পক্ষকে সংযত থাকার আহ্বান জানান এবং শান্তিপূর্ণ সমাধানের উদ্যোগ নেন।

কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজনীন সুলতানা বলেন, “সৌদি আরবে ফেলে আসা একটি লাগেজকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট উত্তেজনার জের ধরেই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেখেছে এবং বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

এলাকাবাসীর আশা, সালিশি বৈঠকের মাধ্যমে দ্রুত বিরোধের সমাধান হবে এবং এলাকায় স্থায়ী শান্তি ফিরে আসবে।