শফিকুর রহমানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বার্তা: ‘প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নয়, নিজের মন্ত্রণালয়ে মনোযোগ দিন’
- Update Time : ০৯:৫৭:৩২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬
- / ৪৫ Time View

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নিজ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালনে আরও মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, ঘুষ, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির কারণে দেশে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং এসব সমস্যা দূর করতে সরকারের কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাজধানীর ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইডিইবি)-এর মাল্টিপারপাস হলে ঢাকা জেলা জামায়াতে ইসলামীর আয়োজিত সদস্য (রুকন) সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি জনগণের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করছে। এ অবস্থায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীলদের নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা প্রয়োজন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উদ্দেশে তিনি বলেন, “সব বিষয়ে মন্তব্য করার পরিবর্তে নিজের মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে মনোযোগ দিন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রীরই পালন করতে দিন। আপনি আপনার মন্ত্রণালয়ের কাজে অ্যাটেনশন দিন, যাতে জনগণ শান্তিতে বসবাস করতে পারে।”
ঘুষ-দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির অভিযোগ
জামায়াত আমির অভিযোগ করেন, ঘুষ, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির কারণে দেশে বিনিয়োগের পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এতে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি কর্মসংস্থানও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
তিনি সম্প্রতি এক সাবেক হুইপের বক্তব্যের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, কোনোভাবেই চাঁদাবাজিকে স্বাভাবিক বা অনিবার্য বিষয় হিসেবে তুলে ধরা উচিত নয়।
তার ভাষায়, “যদি বলা হয় বাংলাদেশে চাঁদাবাজি বন্ধ করা সম্ভব নয়, তাহলে সেটি চাঁদাবাজিকে বৈধতা দেওয়ার মতো বার্তা দেয়। এমন মনোভাব দেশের জন্য শুভ নয়।”
‘সদিচ্ছা থাকলে চাঁদাবাজি বন্ধ সম্ভব’
ডা. শফিকুর রহমানের দাবি, সরকারের আন্তরিক রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকলে চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। অন্যদিকে সদিচ্ছার অভাব থাকলে আইন প্রয়োগ করেও কাঙ্ক্ষিত ফল অর্জন করা কঠিন হবে।
আন্তর্জাতিক বিষয়ে অবস্থান
আন্তর্জাতিক প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবর্তনের অভিজ্ঞতা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আলোচিত হচ্ছে। তবে জামায়াতে ইসলামী অন্য কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের নীতিতে বিশ্বাস করে না।
তিনি বলেন, “প্রতিটি দেশের জনগণই তাদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে। একইভাবে আমরা চাই, অন্য কোনো দেশও বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করুক।”
সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়েও মন্তব্য
সীমান্ত নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর শান্তি ও স্থিতিশীলতা পারস্পরিকভাবে সম্পর্কযুক্ত। তিনি মন্তব্য করেন, “বাংলাদেশের শান্তি বিঘ্নিত হলে তার প্রভাব প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপরও পড়তে পারে।”

















