বাধ্যতামূলক অবসরে যাওয়া সেই ৩২ ডিসি কারা?
- Update Time : ১১:১৪:২৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬
- / ৫৬ Time View

২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালনকারী তৎকালীন ৩২ জেলা প্রশাসককে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছে সরকার। তাঁদের মধ্যে কেউ বর্তমানে যুগ্ম সচিব পদমর্যাদায় ছিলেন এবং অবসরের আগে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) হিসেবে সংযুক্ত ছিলেন। সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৪৫ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে জনস্বার্থে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
২৭ জুলাই প্রজ্ঞাপন
সোমবার (২৭ জুলাই) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে পৃথক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এসব কর্মকর্তাকে অবসরে পাঠানোর সিদ্ধান্ত জানানো হয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সরকারি চাকরির মেয়াদ ২৫ বছর পূর্ণ হয়েছে। আইন অনুযায়ী জনস্বার্থে তাঁদের অবসর দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং আদেশ তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হবে। বিধি অনুযায়ী তাঁরা অবসর-সংক্রান্ত প্রাপ্য সুবিধাদি পাবেন।
কারা রয়েছেন তালিকায়?
২০১৮ সালের নির্বাচনে নিজ নিজ জেলার রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করা এই ৩২ কর্মকর্তা হলেন—
১. রাজশাহীর এস এম আব্দুল কাদের
২. মাগুরার মো. আলী আকবর
৩. হবিগঞ্জের মাহমুদুল কবীর মুরাদ
৪. মানিকগঞ্জের এস এম ফেরদৌস
৫. কিশোরগঞ্জের মো. সারওয়ার মুর্শেদ চৌধুরী
৬. নরসিংদীর সৈয়দা ফারহানা কাউনাইন
৭. খুলনার মোহাম্মদ হেলাল হোসেন
৮. শেরপুরের আনার কলি মাহবুব
৯. কুড়িগ্রামের মোছা. সুলতানা পারভীন
১০. নীলফামারীর নাজিয়া শিরিন
১১. পটুয়াখালীর মো. মতিউল ইসলাম চৌধুরী
১২. চুয়াডাঙ্গার গোপাল চন্দ্র দাস
১৩. ভোলার মোহাম্মদ মাসুদ আলম ছিদ্দিক
১৪. বরিশালের এস এম অজিয়র রহমান
১৫. ফেনীর মো. ওয়াহেদুজ্জামান
১৬. খাগড়াছড়ির মো. সাহেদুল ইসলাম
১৭. ঝিনাইদহের সরোজ কুমার নাথ
১৮. পাবনার মো. জসিম উদ্দিন
১৯. সুনামগঞ্জের মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ
২১. রাঙ্গামাটির এ কে এম মামুনুর রশিদ
২২. লক্ষ্মীপুরের অঞ্জন চন্দ্র পাল
২৩. চট্টগ্রামের মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন
২৪. নওগাঁর মো. মিজানুর রহমান
২৫. চাঁপাইনবাবগঞ্জের এ জেড এম নূরুল হক
২৬. শরীয়তপুরের কাজী আবু তাহের
২৭. নাটোরের মো. শাহরিয়ার
২৮. বান্দরবানের মো. দাউদুল ইসলাম
২৯. নেত্রকোনার মঈনউল ইসলাম
৩০. কুষ্টিয়ার মো. আসলাম হোসেন
৩১. কুমিল্লার মো. আবুল ফজল মীর
৩২. চাঁদপুরের মো. মাজেদুর রহমান খান।
কেন আলোচনায় ২০১৮ সালের নির্বাচন?
২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে অন্যতম বিতর্কিত নির্বাচন হিসেবে আলোচিত হয়ে আসছে। ওই নির্বাচনে ভোটগ্রহণের আগে ব্যালটে সিল মারা, ভোটকেন্দ্রে অনিয়ম, বিরোধী প্রার্থী ও কর্মীদের ওপর চাপ এবং ভোটারদের স্বাধীনভাবে ভোট দিতে না পারার মতো নানা অভিযোগ রাজনৈতিক মহলে উঠে আসে। তবে সে সময় নির্বাচন কমিশন এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছিল।
নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট ২৮৮টি আসনে জয় পায় এবং জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট পায় সাতটি আসন। নির্বাচনটির গ্রহণযোগ্যতা ও মাঠ প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে পরবর্তী সময়েও রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্ক অব্যাহত থাকে।
রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে তাঁদের ভূমিকা
বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জেলা প্রশাসকরা অনেক ক্ষেত্রে নিজ নিজ জেলার রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৮ সালের নির্বাচনেও তালিকাভুক্ত কর্মকর্তারা সংশ্লিষ্ট জেলায় এ দায়িত্বে ছিলেন। ফলে তাঁদের বর্তমান বাধ্যতামূলক অবসরের সিদ্ধান্তের সঙ্গে ২০১৮ সালের নির্বাচনী দায়িত্বের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—কোনো কর্মকর্তাকে শুধু ২০১৮ সালের নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করার কারণে শাস্তিমূলকভাবে অবসরে পাঠানো হয়েছে—এমন কথা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়নি। সরকারি আদেশে জনস্বার্থ এবং ২৫ বছর চাকরি পূর্ণ হওয়ার বিষয়টি আইনি ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তাই তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগতভাবে কোনো নির্দিষ্ট অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে—এমন দাবি করার আগে সরকারি নথি বা তদন্ত প্রতিবেদন থাকা প্রয়োজন।
সরকারি চাকরি আইনের ৪৫ ধারা কী বলে?
সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৪৫ ধারায় কোনো সরকারি কর্মচারীর চাকরির মেয়াদ ২৫ বছর পূর্ণ হলে জনস্বার্থে সরকার তাঁকে অবসরে পাঠাতে পারে। এ ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়া হলেও বিধি অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা অবসরকালীন প্রাপ্য সুবিধা পাওয়ার অধিকারী হন। (
প্রশাসনে নতুন বার্তার ইঙ্গিত?
সরকারের এই সিদ্ধান্ত প্রশাসনে জবাবদিহিতা, প্রশাসনিক সংস্কার এবং অতীতের বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের পুনর্মূল্যায়ন নিয়ে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে প্রশাসনিক সংস্কার ও গতিশীলতার প্রসঙ্গ উঠে এসেছে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে প্রত্যেক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পৃথক অভিযোগ বা নির্দিষ্ট দায়ের বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সমীচীন নয়।
একদিকে ২০১৮ সালের নির্বাচনের বিতর্কিত অধ্যায় এবং অন্যদিকে ২৫ বছর চাকরি পূর্ণ করা কর্মকর্তাদের জনস্বার্থে বাধ্যতামূলক অবসর—দুই বিষয়কে কেন্দ্র করে প্রশাসন ও রাজনৈতিক অঙ্গনে এ সিদ্ধান্তের প্রভাব নিয়ে আলোচনা আরও বাড়তে পারে।

















