সময়: শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সংসদে হাসনাত আবদুল্লাহ-সংবিধান মানলে খালেদা জিয়া সেদিন জেল থেকে বের হতে পারতেন না

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ০৭:৩২:২৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬
  • / ১৭২ Time View

 

জাতীয় সংসদে সংবিধান, গণআন্দোলন এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী Khaleda Zia-এর মুক্তি প্রসঙ্গে বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য Hasnat Abdullah। তিনি বলেন, সংবিধানকে যদি বাইবেল বা গসপেলের মতো কঠোরভাবে মানা হতো, তাহলে খালেদা জিয়া কখনো জেল থেকে বের হতে পারতেন না।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) বিকেলে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন সংক্রান্ত আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন, ৬ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মাধ্যমে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি জোরালো হয় এবং রাষ্ট্রপতির আদেশে তাকে কারাগার থেকে মুক্ত করা হয়।

হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, সংবিধানকে অক্ষরে অক্ষরে অনুসরণ করা হলে ওই পরিস্থিতিতে খালেদা জিয়ার মুক্তি সম্ভব হতো না। তিনি এ প্রসঙ্গে সংবিধানের বাস্তব প্রয়োগ ও রাজনৈতিক বাস্তবতার মধ্যে পার্থক্যের বিষয়টি তুলে ধরেন।

এ সময় তিনি সংসদ সদস্য Andalib Rahman Partha-এর বক্তব্যেরও সমালোচনা করেন। তার অভিযোগ, সংবিধান পরিবর্তনের পক্ষে অবস্থান নেওয়াদের স্বাধীনতাবিরোধীদের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে এবং ট্রেজারি বেঞ্চ থেকে তা সমর্থন দেওয়া হয়েছে, যা রাজনৈতিকভাবে অযৌক্তিক।

তিনি আরও বলেন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন আপসহীন আন্দোলন করেছেন এবং তার রাজনৈতিক বক্তব্যকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে। সংবিধান সংশোধন বা পরিবর্তনের প্রসঙ্গকে স্বাধীনতাবিরোধী তকমার সঙ্গে যুক্ত করা হলে তা মূলত খালেদা জিয়াকেই অপমান করা হয় কিনা, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।

সংবিধান আংশিকভাবে মানার অভিযোগ তুলে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ১৯৭২ সালের সংবিধানের কিছু ধারা রাজনৈতিকভাবে গ্রহণ করা হলেও কিছু ধারা উপেক্ষা করা হয়েছে। তার ভাষায়, “যে অংশ সুবিধাজনক, সেটি মানা হচ্ছে; আর যে অংশ বিপক্ষে যাচ্ছে, সেটি মানা হচ্ছে না।”

তিনি আরও বলেন, যারা কখনো সংবিধান মেনে চলেন আবার কখনো তা অমান্য করেন, তারা মূলত ‘অপরচুনিস্ট’। এই ধরনের দ্বৈত অবস্থান দেশের রাজনীতিতে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

এছাড়া অ্যাটর্নি জেনারেল নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তার দাবি, সংবিধান অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পরামর্শ করার কথা থাকলেও সে সময় কার সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছিল, তা স্পষ্ট নয়। তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়ার আহ্বান জানান।

বক্তব্যের শেষ দিকে তিনি বলেন, দীর্ঘ আন্দোলন, ত্যাগ ও সংগ্রামের মধ্য দিয়ে দেশে রাজনৈতিক পরিবর্তন এসেছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের রক্ত, শ্রম ও ত্যাগের মাধ্যমেই স্বৈরাচারের পতন সম্ভব হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সংসদে হাসনাত আবদুল্লাহ-সংবিধান মানলে খালেদা জিয়া সেদিন জেল থেকে বের হতে পারতেন না

Update Time : ০৭:৩২:২৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬

 

জাতীয় সংসদে সংবিধান, গণআন্দোলন এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী Khaleda Zia-এর মুক্তি প্রসঙ্গে বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য Hasnat Abdullah। তিনি বলেন, সংবিধানকে যদি বাইবেল বা গসপেলের মতো কঠোরভাবে মানা হতো, তাহলে খালেদা জিয়া কখনো জেল থেকে বের হতে পারতেন না।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) বিকেলে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন সংক্রান্ত আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন, ৬ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মাধ্যমে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি জোরালো হয় এবং রাষ্ট্রপতির আদেশে তাকে কারাগার থেকে মুক্ত করা হয়।

হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, সংবিধানকে অক্ষরে অক্ষরে অনুসরণ করা হলে ওই পরিস্থিতিতে খালেদা জিয়ার মুক্তি সম্ভব হতো না। তিনি এ প্রসঙ্গে সংবিধানের বাস্তব প্রয়োগ ও রাজনৈতিক বাস্তবতার মধ্যে পার্থক্যের বিষয়টি তুলে ধরেন।

এ সময় তিনি সংসদ সদস্য Andalib Rahman Partha-এর বক্তব্যেরও সমালোচনা করেন। তার অভিযোগ, সংবিধান পরিবর্তনের পক্ষে অবস্থান নেওয়াদের স্বাধীনতাবিরোধীদের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে এবং ট্রেজারি বেঞ্চ থেকে তা সমর্থন দেওয়া হয়েছে, যা রাজনৈতিকভাবে অযৌক্তিক।

তিনি আরও বলেন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন আপসহীন আন্দোলন করেছেন এবং তার রাজনৈতিক বক্তব্যকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে। সংবিধান সংশোধন বা পরিবর্তনের প্রসঙ্গকে স্বাধীনতাবিরোধী তকমার সঙ্গে যুক্ত করা হলে তা মূলত খালেদা জিয়াকেই অপমান করা হয় কিনা, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।

সংবিধান আংশিকভাবে মানার অভিযোগ তুলে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ১৯৭২ সালের সংবিধানের কিছু ধারা রাজনৈতিকভাবে গ্রহণ করা হলেও কিছু ধারা উপেক্ষা করা হয়েছে। তার ভাষায়, “যে অংশ সুবিধাজনক, সেটি মানা হচ্ছে; আর যে অংশ বিপক্ষে যাচ্ছে, সেটি মানা হচ্ছে না।”

তিনি আরও বলেন, যারা কখনো সংবিধান মেনে চলেন আবার কখনো তা অমান্য করেন, তারা মূলত ‘অপরচুনিস্ট’। এই ধরনের দ্বৈত অবস্থান দেশের রাজনীতিতে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

এছাড়া অ্যাটর্নি জেনারেল নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তার দাবি, সংবিধান অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পরামর্শ করার কথা থাকলেও সে সময় কার সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছিল, তা স্পষ্ট নয়। তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়ার আহ্বান জানান।

বক্তব্যের শেষ দিকে তিনি বলেন, দীর্ঘ আন্দোলন, ত্যাগ ও সংগ্রামের মধ্য দিয়ে দেশে রাজনৈতিক পরিবর্তন এসেছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের রক্ত, শ্রম ও ত্যাগের মাধ্যমেই স্বৈরাচারের পতন সম্ভব হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।