‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ ইস্যুতে মন্ত্রীর বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জামায়াতের
- Update Time : ০২:৪৪:৩৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / ১৫২ Time View

‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ স্লোগান নিয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ-এর সাম্প্রতিক মন্তব্যের কঠোর সমালোচনা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের শনিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) এক বিবৃতিতে এ প্রতিক্রিয়া জানান।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় মন্ত্রীর দেওয়া বক্তব্য কেবল অযৌক্তিক নয়, বরং ভাষা ও ইতিহাসের বাস্তবতাকে অস্বীকার করার শামিল। তাঁর মতে, ‘ইনকিলাব’ শব্দটি আরবি উৎসের হলেও উপমহাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলন, স্বৈরাচারবিরোধী সংগ্রাম এবং গণঅধিকার প্রতিষ্ঠার নানা পর্যায়ে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। ভাষা কখনো স্থির নয়; জনগণের ব্যবহারের মধ্য দিয়েই তা বিকশিত ও সমৃদ্ধ হয়।
বাংলা ভাষার বহুমাত্রিক গঠনপ্রকৃতি তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলা ভাষা তদ্ভব, তৎসম, আরবি, ফারসি, পর্তুগিজ ও ইংরেজিসহ বিভিন্ন ভাষা থেকে শব্দ গ্রহণ করে আজকের রূপ পেয়েছে। তাই কোনো শব্দের উৎসের ভিত্তিতে তাকে ‘বাংলাবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া ভাষাবিজ্ঞানের মৌলিক নীতির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। ভাষাকে কেন্দ্র করে বিভাজন সৃষ্টির চেষ্টা দায়িত্বশীল অবস্থানের পরিচায়ক হতে পারে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক গোষ্ঠীর একচেটিয়া স্লোগান নয়; বরং এটি অন্যায়, শোষণ ও স্বৈরতন্ত্রের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে এসেছে। গণতান্ত্রিক পরিবেশে নাগরিকদের প্রতিবাদী কণ্ঠকে ভাষাগত যুক্তিতে খাটো করা সমীচীন নয় বলেও দাবি করা হয়।

সাম্প্রতিক সময়ে দেশে বিভিন্ন অপরাধ, দুর্নীতি ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রসঙ্গ টেনে জামায়াত নেতা বলেন, জনগণের অধিকার ক্ষুণ্ন হওয়া, চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব, টেন্ডারবাজি, ঘুষ-দুর্নীতি এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে অনিয়ম—এসব বিষয়েই সরকারের বেশি মনোযোগ দেওয়া উচিত। নাগরিকদের ন্যায্য দাবিকে বিতর্কিত না করে জনদুর্ভোগ কমাতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়াই সরকারের দায়িত্ব বলে তিনি মত দেন।
শেষে মন্ত্রীর বক্তব্য অবিলম্বে প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলা ভাষা জাতির গৌরব ও আত্মপরিচয়ের অন্যতম ভিত্তি। ভাষার বহুমাত্রিক ঐতিহ্যকে অস্বীকার করে বিভক্তির রাজনীতি পরিহার করা প্রয়োজন। অন্যথায় জনগণই এ বিষয়ে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করবে বলে সতর্ক করা হয়।
















