সময়: শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শহীদ মিনারে সাংবাদিকের প্রশ্নে জামায়াত আমিরের প্রতিক্রিয়া—‘আজ এমন প্রশ্ন কেন’

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ০৩:২৮:৫১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / ১৭৪ Time View

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে এ কর্মসূচিতে অংশ নেন। দলটির আমির হিসেবে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এটাই তার প্রথম পুষ্পস্তবক অর্পণ।

শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) প্রথম প্রহরে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদনের পর তিনি শহীদ মিনারে যান। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন নাহিদ ইসলাম, আখতার হোসেন, হাসনাত আবদুল্লাহসহ ১১ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতারা।

পুষ্পস্তবক অর্পণের পর ডা. শফিকুর রহমান সেখানে মোনাজাত পরিচালনা করেন। পরে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তাকে প্রশ্ন করা হয়—জামায়াত আগে কখনও ফুল দিতে না এলে এবার কেন এ সিদ্ধান্ত? জবাবে তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতার অংশ হিসেবে বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে এটি তার দায়িত্ব। সেই দায়িত্ববোধ থেকেই তিনি সহকর্মীদের নিয়ে শ্রদ্ধা জানাতে এসেছেন।

আরেক প্রশ্নে জানতে চাওয়া হয়, জামায়াতে ইসলামী এখনও কি শহীদ মিনারে ফুল দেওয়া বিষয়ে আগের অবস্থানে আছে কিনা। এ প্রশ্নে তিনি কিছুটা বিরক্তি প্রকাশ করে বলেন, এত পবিত্র দিনে এ ধরনের প্রশ্ন না করাই ভালো। “আজ এমন প্রশ্ন কেন”—বলেই তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান।

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে তিনি সরাসরি আজিমপুর কবরস্থানে যান। সেখানে ভাষা শহীদদের কবর জিয়ারত করেন এবং তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনায় দোয়া করেন।

আজিমপুরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ১৯৪৭ সাল থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান পর্যন্ত যারা মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে প্রাণ দিয়েছেন, তাদের সবার শাহাদাত কবুলের জন্য প্রার্থনা করা হয়েছে। ভাষা আন্দোলনের চেতনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি মন্তব্য করেন, ভাষার অধিকার অর্জিত হলেও দেশের মানুষ এখনও পূর্ণাঙ্গ নাগরিক অধিকার ভোগ করতে পারছে না।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, অতীতে কায়েমি স্বার্থে পরিচালিত সরকারগুলো জনগণের ন্যায্য অধিকার দমিয়ে রাখতে চেয়েছিল বলেই প্রতিবাদ ও বিদ্রোহের জন্ম হয়েছে। সেই সংগ্রামের ফলেই ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তবে ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

শহীদ মিনারে সাংবাদিকের প্রশ্নে জামায়াত আমিরের প্রতিক্রিয়া—‘আজ এমন প্রশ্ন কেন’

Update Time : ০৩:২৮:৫১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে এ কর্মসূচিতে অংশ নেন। দলটির আমির হিসেবে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এটাই তার প্রথম পুষ্পস্তবক অর্পণ।

শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) প্রথম প্রহরে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদনের পর তিনি শহীদ মিনারে যান। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন নাহিদ ইসলাম, আখতার হোসেন, হাসনাত আবদুল্লাহসহ ১১ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতারা।

পুষ্পস্তবক অর্পণের পর ডা. শফিকুর রহমান সেখানে মোনাজাত পরিচালনা করেন। পরে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তাকে প্রশ্ন করা হয়—জামায়াত আগে কখনও ফুল দিতে না এলে এবার কেন এ সিদ্ধান্ত? জবাবে তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতার অংশ হিসেবে বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে এটি তার দায়িত্ব। সেই দায়িত্ববোধ থেকেই তিনি সহকর্মীদের নিয়ে শ্রদ্ধা জানাতে এসেছেন।

আরেক প্রশ্নে জানতে চাওয়া হয়, জামায়াতে ইসলামী এখনও কি শহীদ মিনারে ফুল দেওয়া বিষয়ে আগের অবস্থানে আছে কিনা। এ প্রশ্নে তিনি কিছুটা বিরক্তি প্রকাশ করে বলেন, এত পবিত্র দিনে এ ধরনের প্রশ্ন না করাই ভালো। “আজ এমন প্রশ্ন কেন”—বলেই তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান।

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে তিনি সরাসরি আজিমপুর কবরস্থানে যান। সেখানে ভাষা শহীদদের কবর জিয়ারত করেন এবং তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনায় দোয়া করেন।

আজিমপুরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ১৯৪৭ সাল থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান পর্যন্ত যারা মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে প্রাণ দিয়েছেন, তাদের সবার শাহাদাত কবুলের জন্য প্রার্থনা করা হয়েছে। ভাষা আন্দোলনের চেতনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি মন্তব্য করেন, ভাষার অধিকার অর্জিত হলেও দেশের মানুষ এখনও পূর্ণাঙ্গ নাগরিক অধিকার ভোগ করতে পারছে না।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, অতীতে কায়েমি স্বার্থে পরিচালিত সরকারগুলো জনগণের ন্যায্য অধিকার দমিয়ে রাখতে চেয়েছিল বলেই প্রতিবাদ ও বিদ্রোহের জন্ম হয়েছে। সেই সংগ্রামের ফলেই ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তবে ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।