সময়: বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাজনৈতিক সমীকরণে আওয়ামী লীগ আবারও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে: গোলাম মাওলা রনি

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ০৩:১১:১৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / ১৬৭ Time View
গোলাম মাওলা রনি। ছবি সংগৃহীত

 

রাজনৈতিক বিশ্লেষক, কলামিস্ট ও সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম মাওলা রনি মন্তব্য করেছেন যে দেশের চলমান রাজনৈতিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ধীরে ধীরে অপরিহার্য শক্তিতে পরিণত হতে পারে। তার মতে, রাজনৈতিক কার্যক্রমে সংগত কারণেই দলটির নেতাকর্মীরা অংশ নেবেন এবং ভবিষ্যৎ ক্ষমতার সমীকরণে আওয়ামী লীগকে এড়িয়ে চলা কঠিন হবে—তা হোক বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কিংবা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী—উভয়ের ক্ষেত্রেই।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত এক ভিডিও বক্তব্যে তিনি বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক রেইস মূলত বিএনপি ও জামায়াতকে ঘিরে আবর্তিত হচ্ছে। যারা এই প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকবে তারা একধরনের জোটগত অবস্থানে যাবে, আর যারা পিছিয়ে পড়বে তারা শক্তি বাড়াতে আওয়ামী লীগের দিকে হাত বাড়াতে পারে।

রনির বিশ্লেষণ অনুযায়ী, যদি বিরোধী শক্তি হিসেবে জামায়াত অত্যন্ত শক্তিশালী হয়ে ওঠে এবং ভবিষ্যৎ নির্বাচনে ক্ষমতার কাছাকাছি পৌঁছে যায়, তাহলে বিএনপি রাজনৈতিক ভারসাম্য রক্ষায় আওয়ামী লীগের সহায়তা চাইতে পারে। আবার উল্টো পরিস্থিতিতে—যদি বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার জনপ্রিয়তা ধরে রাখে এবং তারেক রহমানের নেতৃত্বে শক্ত অবস্থান তৈরি হয়—তাহলে মাঠের রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তারের লক্ষ্যে জামায়াতও আওয়ামী লীগের জন্য রাজনৈতিক পরিসর উন্মুক্ত করতে পারে।

আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট নিয়েও মন্তব্য করেন গোলাম মাওলা রনি। তিনি দাবি করেন, ড. মুহাম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন সরকারের পতন ও দ্রুত নির্বাচন আয়োজনের পেছনে আন্তর্জাতিক সমর্থন, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র-এর ভূমিকা ছিল। অন্যদিকে আঞ্চলিক প্রভাবের ক্ষেত্রে ভারত-এর প্রভাব বেশি বলেও তিনি মত দেন এবং নরেন্দ্র মোদি-র নাম উল্লেখ করেন। তার মতে, এই ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটও আওয়ামী লীগের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে পারে।

তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক অস্থিরতার সময় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা চাপে থাকলেও বর্তমান গণতান্ত্রিক পরিবেশে তারা যদি আনন্দ প্রকাশ করে থাকেন, সেটিকে নেতিবাচকভাবে দেখার কিছু নেই। বরং তিনি মনে করেন, এটি নতুন সরকারের জন্য একটি ইতিবাচক সূচনার ইঙ্গিত হতে পারে।

সব মিলিয়ে গোলাম মাওলা রনির বক্তব্যে স্পষ্ট—বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা যতই তীব্র হোক না কেন, বড় দলগুলোর পারস্পরিক নির্ভরতার সমীকরণে আওয়ামী লীগ আবারও একটি গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর হয়ে উঠতে পারে।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

রাজনৈতিক সমীকরণে আওয়ামী লীগ আবারও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে: গোলাম মাওলা রনি

Update Time : ০৩:১১:১৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
গোলাম মাওলা রনি। ছবি সংগৃহীত

 

রাজনৈতিক বিশ্লেষক, কলামিস্ট ও সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম মাওলা রনি মন্তব্য করেছেন যে দেশের চলমান রাজনৈতিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ধীরে ধীরে অপরিহার্য শক্তিতে পরিণত হতে পারে। তার মতে, রাজনৈতিক কার্যক্রমে সংগত কারণেই দলটির নেতাকর্মীরা অংশ নেবেন এবং ভবিষ্যৎ ক্ষমতার সমীকরণে আওয়ামী লীগকে এড়িয়ে চলা কঠিন হবে—তা হোক বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কিংবা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী—উভয়ের ক্ষেত্রেই।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত এক ভিডিও বক্তব্যে তিনি বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক রেইস মূলত বিএনপি ও জামায়াতকে ঘিরে আবর্তিত হচ্ছে। যারা এই প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকবে তারা একধরনের জোটগত অবস্থানে যাবে, আর যারা পিছিয়ে পড়বে তারা শক্তি বাড়াতে আওয়ামী লীগের দিকে হাত বাড়াতে পারে।

রনির বিশ্লেষণ অনুযায়ী, যদি বিরোধী শক্তি হিসেবে জামায়াত অত্যন্ত শক্তিশালী হয়ে ওঠে এবং ভবিষ্যৎ নির্বাচনে ক্ষমতার কাছাকাছি পৌঁছে যায়, তাহলে বিএনপি রাজনৈতিক ভারসাম্য রক্ষায় আওয়ামী লীগের সহায়তা চাইতে পারে। আবার উল্টো পরিস্থিতিতে—যদি বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার জনপ্রিয়তা ধরে রাখে এবং তারেক রহমানের নেতৃত্বে শক্ত অবস্থান তৈরি হয়—তাহলে মাঠের রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তারের লক্ষ্যে জামায়াতও আওয়ামী লীগের জন্য রাজনৈতিক পরিসর উন্মুক্ত করতে পারে।

আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট নিয়েও মন্তব্য করেন গোলাম মাওলা রনি। তিনি দাবি করেন, ড. মুহাম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন সরকারের পতন ও দ্রুত নির্বাচন আয়োজনের পেছনে আন্তর্জাতিক সমর্থন, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র-এর ভূমিকা ছিল। অন্যদিকে আঞ্চলিক প্রভাবের ক্ষেত্রে ভারত-এর প্রভাব বেশি বলেও তিনি মত দেন এবং নরেন্দ্র মোদি-র নাম উল্লেখ করেন। তার মতে, এই ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটও আওয়ামী লীগের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে পারে।

তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক অস্থিরতার সময় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা চাপে থাকলেও বর্তমান গণতান্ত্রিক পরিবেশে তারা যদি আনন্দ প্রকাশ করে থাকেন, সেটিকে নেতিবাচকভাবে দেখার কিছু নেই। বরং তিনি মনে করেন, এটি নতুন সরকারের জন্য একটি ইতিবাচক সূচনার ইঙ্গিত হতে পারে।

সব মিলিয়ে গোলাম মাওলা রনির বক্তব্যে স্পষ্ট—বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা যতই তীব্র হোক না কেন, বড় দলগুলোর পারস্পরিক নির্ভরতার সমীকরণে আওয়ামী লীগ আবারও একটি গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর হয়ে উঠতে পারে।