সময়: শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মন্ত্রিসভা গঠন নিয়ে জোর জল্পনা ধারণানির্ভর তালিকা আর তারেক রহমানের ‘সিক্রেট ফাইল’

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ১২:৪৮:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / ১৪৫ Time View

 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২০৯টি আসনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর প্রায় দুই দশক পর সরকার গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান–এর নেতৃত্বে কেমন হতে যাচ্ছে নতুন মন্ত্রিসভা—এ প্রশ্ন এখন রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে সাধারণ মানুষের আলোচনার কেন্দ্রে। সম্ভাব্য মন্ত্রীদের নিয়ে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একের পর এক তালিকা ছড়িয়ে পড়লেও দলীয় সূত্রগুলো বলছে, এসবের বেশিরভাগই অনুমাননির্ভর।

দলের একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্রের দাবি, চূড়ান্ত তালিকা সম্পর্কে অবগত রয়েছেন কেবল চেয়ারম্যান নিজেই। নীতিনির্ধারক মহলে এই তালিকাকে অনেকে ‘সিক্রেট ফাইল’ হিসেবে উল্লেখ করছেন, যা কঠোর গোপনীয়তার মধ্যে সংরক্ষিত। এখনো পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কারও কাছে সেই তালিকার বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি।

জানা গেছে, মন্ত্রিসভা গঠনের মতো স্পর্শকাতর ইস্যুতে দলের স্থায়ী কমিটির অধিকাংশ সদস্যের সঙ্গেও আনুষ্ঠানিক আলোচনা হয়নি। মাত্র কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতার সঙ্গে সীমিত পরামর্শ হলেও তারাও শেষ সিদ্ধান্ত চেয়ারম্যানের ওপরই ছেড়ে দিয়েছেন। ফলে কারা মন্ত্রী হচ্ছেন, কারা বাদ পড়ছেন—তা নিয়ে দলীয় পর্যায়েও অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে।

নির্বাচনের ফলাফলের গেজেট প্রকাশের পর থেকেই সম্ভাব্য মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের নিয়ে বিভিন্ন তালিকা ঘুরে বেড়াচ্ছে। তবে তালিকাগুলোর মধ্যে নামের বিস্তর অমিল লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এমনকি টেকনোক্র্যাট কোটায় যাদের নাম প্রচারিত হচ্ছে, সেসব নিয়েও নির্ভরযোগ্য কোনো ভিত্তি পাওয়া যায়নি।

এদিকে নবনির্বাচিত অনেক সংসদ সদস্যের মধ্যেই মন্ত্রী হওয়ার আগ্রহ স্পষ্ট। কেউ কেউ নিজেদের অভিজ্ঞতা, আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা এবং রাজনৈতিক নির্যাতনের ইতিহাস তুলে ধরে পরোক্ষভাবে সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করছেন। যদিও চেয়ারম্যানকে সরাসরি কিছু বলার সাহস খুব কমজনেরই আছে; বরং সিনিয়র নেতাদের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা চলছে।

এই অভ্যন্তরীণ তৎপরতার মধ্যেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য সবাই তাকিয়ে আছেন চেয়ারম্যানের দপ্তরের দিকে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কয়েকজন প্রবীণ নেতার মন্ত্রী হওয়া প্রায় নিশ্চিত হলেও শেষ মুহূর্তে চমক হিসেবে নতুন, তরুণ ও পেশাদার মুখ অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সিরাজগঞ্জ-২ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু গণমাধ্যমকে বলেন, মন্ত্রিসভায় কারা থাকছেন সে বিষয়ে তিনি অবগত নন। এখন পর্যন্ত এ সংক্রান্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বার্তাও তিনি পাননি। গণমাধ্যমে প্রকাশিত তালিকাগুলোকে তিনি অনুমানভিত্তিক বলেই মন্তব্য করেন।

আগামী মঙ্গলবার নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ এবং নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়েই এই দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষ, পেশাদার ও জনবান্ধব প্রশাসন গঠনের লক্ষ্যেই চেয়ারম্যান অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে তার এই ‘গোপন ফাইল’ প্রস্তুত করেছেন।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

মন্ত্রিসভা গঠন নিয়ে জোর জল্পনা ধারণানির্ভর তালিকা আর তারেক রহমানের ‘সিক্রেট ফাইল’

Update Time : ১২:৪৮:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২০৯টি আসনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর প্রায় দুই দশক পর সরকার গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান–এর নেতৃত্বে কেমন হতে যাচ্ছে নতুন মন্ত্রিসভা—এ প্রশ্ন এখন রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে সাধারণ মানুষের আলোচনার কেন্দ্রে। সম্ভাব্য মন্ত্রীদের নিয়ে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একের পর এক তালিকা ছড়িয়ে পড়লেও দলীয় সূত্রগুলো বলছে, এসবের বেশিরভাগই অনুমাননির্ভর।

দলের একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্রের দাবি, চূড়ান্ত তালিকা সম্পর্কে অবগত রয়েছেন কেবল চেয়ারম্যান নিজেই। নীতিনির্ধারক মহলে এই তালিকাকে অনেকে ‘সিক্রেট ফাইল’ হিসেবে উল্লেখ করছেন, যা কঠোর গোপনীয়তার মধ্যে সংরক্ষিত। এখনো পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কারও কাছে সেই তালিকার বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি।

জানা গেছে, মন্ত্রিসভা গঠনের মতো স্পর্শকাতর ইস্যুতে দলের স্থায়ী কমিটির অধিকাংশ সদস্যের সঙ্গেও আনুষ্ঠানিক আলোচনা হয়নি। মাত্র কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতার সঙ্গে সীমিত পরামর্শ হলেও তারাও শেষ সিদ্ধান্ত চেয়ারম্যানের ওপরই ছেড়ে দিয়েছেন। ফলে কারা মন্ত্রী হচ্ছেন, কারা বাদ পড়ছেন—তা নিয়ে দলীয় পর্যায়েও অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে।

নির্বাচনের ফলাফলের গেজেট প্রকাশের পর থেকেই সম্ভাব্য মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের নিয়ে বিভিন্ন তালিকা ঘুরে বেড়াচ্ছে। তবে তালিকাগুলোর মধ্যে নামের বিস্তর অমিল লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এমনকি টেকনোক্র্যাট কোটায় যাদের নাম প্রচারিত হচ্ছে, সেসব নিয়েও নির্ভরযোগ্য কোনো ভিত্তি পাওয়া যায়নি।

এদিকে নবনির্বাচিত অনেক সংসদ সদস্যের মধ্যেই মন্ত্রী হওয়ার আগ্রহ স্পষ্ট। কেউ কেউ নিজেদের অভিজ্ঞতা, আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা এবং রাজনৈতিক নির্যাতনের ইতিহাস তুলে ধরে পরোক্ষভাবে সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করছেন। যদিও চেয়ারম্যানকে সরাসরি কিছু বলার সাহস খুব কমজনেরই আছে; বরং সিনিয়র নেতাদের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা চলছে।

এই অভ্যন্তরীণ তৎপরতার মধ্যেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য সবাই তাকিয়ে আছেন চেয়ারম্যানের দপ্তরের দিকে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কয়েকজন প্রবীণ নেতার মন্ত্রী হওয়া প্রায় নিশ্চিত হলেও শেষ মুহূর্তে চমক হিসেবে নতুন, তরুণ ও পেশাদার মুখ অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সিরাজগঞ্জ-২ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু গণমাধ্যমকে বলেন, মন্ত্রিসভায় কারা থাকছেন সে বিষয়ে তিনি অবগত নন। এখন পর্যন্ত এ সংক্রান্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বার্তাও তিনি পাননি। গণমাধ্যমে প্রকাশিত তালিকাগুলোকে তিনি অনুমানভিত্তিক বলেই মন্তব্য করেন।

আগামী মঙ্গলবার নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ এবং নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়েই এই দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষ, পেশাদার ও জনবান্ধব প্রশাসন গঠনের লক্ষ্যেই চেয়ারম্যান অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে তার এই ‘গোপন ফাইল’ প্রস্তুত করেছেন।