সময়: শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এবার দেশ গড়ার পালা— বিজয়ের পর তারেক রহমানের ঐক্যের আহ্বান

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ০৫:০৪:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / ১৯১ Time View

 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর দেশ পুনর্গঠনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, “এবার দেশ গড়ার পালা। দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।”

শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের বলরুমে আয়োজিত নির্বাচন–পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে দেশি–বিদেশি গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)–র চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, “জাতীয় ঐক্য আমাদের শক্তি, বিভাজন আমাদের দুর্বলতা।” তিনি রাজনৈতিক মতভেদ ভুলে দেশ গঠনে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, “গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে যেমন আমরা একসঙ্গে লড়েছি, তেমনি এবার দুর্নীতি রোধ, আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ ও জনগণের প্রতি জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে বাংলাদেশকে একটি নিরাপদ ও মানবিক রাষ্ট্রে পরিণত করতে হবে।”

নির্বাচনের ফলাফলকে “গণতন্ত্র ও বাংলাদেশের বিজয়” হিসেবে উল্লেখ করে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, “শত প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করে আমরা গণতন্ত্রের পথ সুগম করেছি। ফ্যাসিবাদের রেখে যাওয়া ভঙ্গুর অর্থনীতি, দুর্বল আইনশৃঙ্খলা ও অকার্যকর সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের মধ্য দিয়েই আমাদের নতুন যাত্রা শুরু।”

নির্বাচনে অংশ নেওয়া সব রাজনৈতিক দলকে অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, সরকার ও বিরোধী দল উভয় পক্ষ দায়িত্বশীল আচরণ করলে গণতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পাবে। “আমাদের পথ ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু দেশের স্বার্থে আমরা সবাই এক,”—জোর দিয়ে বলেন তিনি।

সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজনের জন্য অন্তর্বর্তী সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে ধন্যবাদ জানান তারেক রহমান। পাশাপাশি বিচার বিভাগ, প্রশাসন, সশস্ত্র বাহিনী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং প্রিসাইডিং ও পোলিং কর্মকর্তাদের ভূমিকার প্রশংসা করেন।

১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতাযুদ্ধ থেকে ২০২৪ সালের গণআন্দোলন পর্যন্ত সব শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, বিএনপির ঘোষিত রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ দফা কর্মসূচি পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে। দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া–র অনুপস্থিতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এমন ঐতিহাসিক মুহূর্তে আপসহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতি আমাদের বেদনার। জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় তিনি কখনো আপস করেননি।”

বিজয়ের পর নেতা–কর্মীদের শান্ত ও সংযত থাকার নির্দেশ দিয়ে তারেক রহমান বলেন, “শত উসকানির মুখেও আপনারা শান্ত ছিলেন। কোনো অপশক্তি যেন পরিস্থিতির সুযোগ নিতে না পারে, সে জন্যই বিজয় মিছিল না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “কোনো অজুহাতেই দুর্বলের ওপর সবলের আক্রমণ বরদাশত করা হবে না। ন্যায়পরায়ণতা হবে আমাদের রাজনৈতিক আদর্শ।” আইনের শাসনের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, “সরকারি দল বা বিরোধী দল—আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমান। নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতা যেন প্রতিহিংসায় রূপ না নেয়, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।”

সংবাদ সম্মেলনের লিখিত বক্তব্য শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন তারেক রহমান ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা।

দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে জয়লাভে কোনো ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’ হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “জনগণকে আস্থায় নেওয়াই আমাদের ইঞ্জিনিয়ারিং। জনগণকে আমাদের পক্ষে আনা—সেখানেই আমরা সফল হয়েছি।”

গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ঘোষিত ২৯৭ আসনের মধ্যে বিএনপি জয় পেয়েছে ২০৯টিতে। ফল স্থগিত থাকা চট্টগ্রাম–২ ও চট্টগ্রাম–৪ আসনেও দলটির প্রার্থীরা এগিয়ে রয়েছেন। শরিক দলগুলো পেয়েছে ৩টি আসন।

অন্যদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী পেয়েছে ৬৮টি আসন। দলটির নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোটের শরিকরা পেয়েছে ৯টি আসন। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ একটি আসনে জয়লাভ করেছে। এছাড়া সাতটি আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

এবার দেশ গড়ার পালা— বিজয়ের পর তারেক রহমানের ঐক্যের আহ্বান

Update Time : ০৫:০৪:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর দেশ পুনর্গঠনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, “এবার দেশ গড়ার পালা। দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।”

শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের বলরুমে আয়োজিত নির্বাচন–পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে দেশি–বিদেশি গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)–র চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, “জাতীয় ঐক্য আমাদের শক্তি, বিভাজন আমাদের দুর্বলতা।” তিনি রাজনৈতিক মতভেদ ভুলে দেশ গঠনে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, “গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে যেমন আমরা একসঙ্গে লড়েছি, তেমনি এবার দুর্নীতি রোধ, আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ ও জনগণের প্রতি জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে বাংলাদেশকে একটি নিরাপদ ও মানবিক রাষ্ট্রে পরিণত করতে হবে।”

নির্বাচনের ফলাফলকে “গণতন্ত্র ও বাংলাদেশের বিজয়” হিসেবে উল্লেখ করে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, “শত প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করে আমরা গণতন্ত্রের পথ সুগম করেছি। ফ্যাসিবাদের রেখে যাওয়া ভঙ্গুর অর্থনীতি, দুর্বল আইনশৃঙ্খলা ও অকার্যকর সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের মধ্য দিয়েই আমাদের নতুন যাত্রা শুরু।”

নির্বাচনে অংশ নেওয়া সব রাজনৈতিক দলকে অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, সরকার ও বিরোধী দল উভয় পক্ষ দায়িত্বশীল আচরণ করলে গণতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পাবে। “আমাদের পথ ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু দেশের স্বার্থে আমরা সবাই এক,”—জোর দিয়ে বলেন তিনি।

সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজনের জন্য অন্তর্বর্তী সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে ধন্যবাদ জানান তারেক রহমান। পাশাপাশি বিচার বিভাগ, প্রশাসন, সশস্ত্র বাহিনী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং প্রিসাইডিং ও পোলিং কর্মকর্তাদের ভূমিকার প্রশংসা করেন।

১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতাযুদ্ধ থেকে ২০২৪ সালের গণআন্দোলন পর্যন্ত সব শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, বিএনপির ঘোষিত রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ দফা কর্মসূচি পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে। দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া–র অনুপস্থিতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এমন ঐতিহাসিক মুহূর্তে আপসহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতি আমাদের বেদনার। জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় তিনি কখনো আপস করেননি।”

বিজয়ের পর নেতা–কর্মীদের শান্ত ও সংযত থাকার নির্দেশ দিয়ে তারেক রহমান বলেন, “শত উসকানির মুখেও আপনারা শান্ত ছিলেন। কোনো অপশক্তি যেন পরিস্থিতির সুযোগ নিতে না পারে, সে জন্যই বিজয় মিছিল না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “কোনো অজুহাতেই দুর্বলের ওপর সবলের আক্রমণ বরদাশত করা হবে না। ন্যায়পরায়ণতা হবে আমাদের রাজনৈতিক আদর্শ।” আইনের শাসনের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, “সরকারি দল বা বিরোধী দল—আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমান। নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতা যেন প্রতিহিংসায় রূপ না নেয়, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।”

সংবাদ সম্মেলনের লিখিত বক্তব্য শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন তারেক রহমান ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা।

দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে জয়লাভে কোনো ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’ হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “জনগণকে আস্থায় নেওয়াই আমাদের ইঞ্জিনিয়ারিং। জনগণকে আমাদের পক্ষে আনা—সেখানেই আমরা সফল হয়েছি।”

গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ঘোষিত ২৯৭ আসনের মধ্যে বিএনপি জয় পেয়েছে ২০৯টিতে। ফল স্থগিত থাকা চট্টগ্রাম–২ ও চট্টগ্রাম–৪ আসনেও দলটির প্রার্থীরা এগিয়ে রয়েছেন। শরিক দলগুলো পেয়েছে ৩টি আসন।

অন্যদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী পেয়েছে ৬৮টি আসন। দলটির নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোটের শরিকরা পেয়েছে ৯টি আসন। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ একটি আসনে জয়লাভ করেছে। এছাড়া সাতটি আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন।