জিয়াউর রহমানের পথেই ভুল করতে যাচ্ছেন তারেক রহমান: আসিফ মাহমুদ
- Update Time : ১২:৪৩:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / ১৪৬ Time View

বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাম্প্রতিক বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা ও সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। তিনি বলেছেন, আওয়ামী লীগকে আবার রাজনীতিতে ফিরিয়ে আনার চিন্তা করলে তারেক রহমান জিয়াউর রহমানের মতোই একটি ঐতিহাসিক ভুলের দিকে এগোচ্ছেন।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন আসিফ মাহমুদ।
তিনি বলেন, আগের দিন রয়টার্সে প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে একটি দলের প্রধানের বক্তব্য তিনি দেখেছেন, যেখানে বলা হয়েছে— “জনগণ চাইলে শেখ হাসিনার সন্তানরা রাজনীতিতে ফিরতে পারে।” আসিফ মাহমুদের মতে, জনগণ যদি সত্যিই শেখ হাসিনা বা তার সন্তানদের রাজনীতিতে ফেরাতে চাইত, তাহলে গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে শেখ হাসিনার পতন ঘটত না এবং এত প্রাণহানিও হতো না।
তিনি আরও বলেন, জনগণ ১৯৭৫ সালেও বাকশাল চায়নি। সে সময় একটি সেনা অভ্যুত্থানের মাধ্যমেই বাকশালের পতন হয়েছিল, যা প্রমাণ করে জনগণ কখনোই একদলীয় বা দমনমূলক রাজনীতি সমর্থন করেনি।
সংবাদ সম্মেলনে আসিফ মাহমুদ দাবি করেন, জিয়াউর রহমানের জীবনের একটি বড় রাজনৈতিক ভুল ছিল বাকশালের প্রতিষ্ঠাতা শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যাকে আবার রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার সুযোগ দেওয়া। তার মতে, সেই সিদ্ধান্তের ফলেই পরবর্তী সময়ে দেশে গুম, হত্যা ও সহিংস রাজনীতির পথ তৈরি হয়।
তিনি বলেন, “জিয়াউর রহমানকে আমরা শ্রদ্ধা করি, কিন্তু তিনি একটি বড় ভুল করেছিলেন। সেই ভুলের খেসারত জাতিকে দীর্ঘ তিন দশকের বেশি সময় ধরে দিতে হয়েছে। জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানে বহু মানুষের প্রাণহানি তারই ধারাবাহিক পরিণতি।”
আসিফ মাহমুদ আরও বলেন, এই ভুলের মূল্য শুধু জাতিই নয়, জিয়া পরিবারকেও দিতে হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বেগম খালেদা জিয়াকে স্লো পয়জনিংয়ের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে এবং শেষ পর্যন্ত তিনি পৃথিবী ছেড়ে চলে গেছেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, তারেক রহমানও যদি একই পথে হাঁটেন, তবে ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে।
উল্লেখ্য, রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আওয়ামী লীগ বা শেখ হাসিনার সন্তানদের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, জনগণ চাইলে যে কেউ রাজনীতিতে অংশ নিতে পারে। এই বক্তব্যকে ঘিরেই রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
















