সরকারি বরাদ্দের অর্থ রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের লালন-পালনে ব্যয় করা হয়: জামায়াত প্রার্থী আতাউর রহমান
- Update Time : ১১:৫৩:৫৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / ১২৫ Time View

সরকারি উন্নয়ন বরাদ্দের অধিকাংশ অর্থ সাধারণ মানুষের কল্যাণে নয়, বরং রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের লালন-পালনের পেছনে ব্যয় করা হচ্ছে—এমন অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোটের মনোনীত প্রার্থী আতাউর রহমান সরকার। তিনি বলেন, কাগজে-কলমে নানা উন্নয়ন প্রকল্প দেখানো হলেও বাস্তবে এর সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ।
শুক্রবার (০৬ ফেব্রুয়ারি) ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা পশ্চিম ইউনিয়নের আকছিনা বাজারে আয়োজিত জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী সমাবেশে প্রধান বক্তার বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সমাবেশে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার সহস্রাধিক মানুষের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।
সমাবেশটি পরিচালনা করেন শামীম রেজা। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা মোবারক হোসাইন আকন্দ। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা জামায়াতের যুব ও আইন বিষয়ক সম্পাদক কাজী সিরাজুল ইসলাম, সাবেক নায়েবে আমীর কাজী ইয়াকুব আলী, কসবা উপজেলা নায়েবে আমীর মাওলানা শিবলী নোমানী, উপজেলা সেক্রেটারি গোলাম সারোয়ার, কসবা পশ্চিম ইউনিয়নের আমীর সালাহউদ্দিন আইয়ুবী ও সেক্রেটারি গোলাম সাদেক।
এ ছাড়া সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির কসবা উপজেলা সভাপতি সাইফুল্লাহ আল আরিফ, সাবেক জেলা সভাপতি হাফেজ নুরুল আমিন, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আনিসুর রহমান, এডভোকেট জহিরুল ইসলাম রুমি, আবু হানিফ ভূঁইয়া, এনসিপি নেতা কাজী মোশাহেদ উল্লাহসহ জামায়াত ও সহযোগী সংগঠনের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
আতাউর রহমান সরকার বলেন, গত ৫৪ বছরে অনুমোদিত বহু উন্নয়ন প্রকল্পের ৫০ থেকে ৬০ শতাংশই বাস্তবায়ন হয়নি। তিনি অভিযোগ করেন, কায়েমপুর ইউনিয়নের একটি মসজিদের নামে দুই দফায় চার লাখ টাকা বরাদ্দ থাকলেও মসজিদ কর্তৃপক্ষ সেই অর্থ পায়নি। একইভাবে মেহারী ইউনিয়নের একটি মাদ্রাসার জন্য বরাদ্দকৃত দুই লাখ টাকাও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের হাতে পৌঁছায়নি। তার দাবি, এসব বরাদ্দের অর্থ রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালীদের স্বার্থেই ব্যয় করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টি দীর্ঘদিন রাষ্ট্র পরিচালনা করলেও সততা ও জবাবদিহির পরীক্ষায় তারা ব্যর্থ হয়েছে। দলীয়করণ ও দুর্নীতির কারণে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সম্ভব হয়নি এবং একটি নিরাপদ সমাজ গড়ে ওঠেনি।
উন্নত, নিরাপদ ও দুর্নীতিমুক্ত কসবা-আখাউড়া গড়তে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট এবং গণভোটে ‘হ্যাঁ’ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, পুরোনো নেতৃত্ব দিয়ে আর পরিবর্তন সম্ভব নয়। সততা, দক্ষতা, দেশপ্রেম ও আল্লাহভীরুতার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ নেতৃত্বই পারে দেশকে সঠিক পথে এগিয়ে নিতে। জামায়াতে ইসলামী রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পেলে দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে বলে তিনি অঙ্গীকার করেন।
সমাবেশে তিনি প্রতিপক্ষের হুমকি, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও ভোটকেন্দ্র দখলের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলে এসব অপচেষ্টা সাহসিকতার সঙ্গে মোকাবেলার জন্য নেতাকর্মীদের প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান।
















