সময়: রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রয়টার্সকে তারেক রহমান-জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে ঐক্য সরকার গঠনে অনিচ্ছুক বিএনপি

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ১১:২৭:৫৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / ১২১ Time View

 

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে ঐক্য সরকার গঠনের সম্ভাবনা স্পষ্টভাবে নাকচ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি জানিয়েছেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সঙ্গে সরকার গঠন করলে বিরোধী দলের সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়বে। একই সঙ্গে বিএনপি এককভাবেই সরকার গঠনে সক্ষম হবে—এ বিষয়ে দৃঢ় আত্মবিশ্বাসও প্রকাশ করেছেন তিনি।

শুক্রবার আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তারেক রহমান বলেন, “আমার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সঙ্গে আমি কীভাবে সরকার গঠন করতে পারি? তাহলে বিরোধী দল কে হবে?” তিনি আরও উল্লেখ করেন, জামায়াতে ইসলামী যদি সংসদে বিরোধী দলে থাকে, তবে বিএনপি তাদের কাছ থেকে একটি দায়িত্বশীল ও গঠনমূলক বিরোধী দলের ভূমিকা প্রত্যাশা করবে।

দীর্ঘ প্রায় দুই দশক লন্ডনে অবস্থানের পর গত ডিসেম্বর মাসে দেশে ফেরেন তারেক রহমান। তরুণদের নেতৃত্বে সংগঠিত অভ্যুত্থানে দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পরই তার দেশে প্রত্যাবর্তন ঘটে। শেখ হাসিনা ছিলেন তার মা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মাঠে রয়েছে ইসলামপন্থী দল জামায়াতে ইসলামী। একসময় নিষিদ্ধ থাকা দলটি বর্তমানে আবারও সক্রিয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি–জামায়াত জোট সরকার পরিচালনা করলেও এবার সেই রাজনৈতিক সমঝোতার পুনরাবৃত্তির সম্ভাবনা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন তারেক রহমান।

বিএনপির ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো জানিয়েছে, দলটি ৩০০ আসনের সংসদে দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি আসনে বিজয়ের ব্যাপারে আশাবাদী। বিএনপি ২৯২টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে, বাকি আসনগুলোতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে জোটের শরিকরা। যদিও সম্ভাব্য আসনসংখ্যা নির্দিষ্ট করে বলেননি তারেক রহমান, তবে তার ভাষ্য, “সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা আমরা পাব—এ বিষয়ে আমরা আত্মবিশ্বাসী।”

বিভিন্ন জনমত জরিপে বিএনপির জয় সম্ভাবনার ইঙ্গিত মিললেও জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোটের শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতার কথাও উঠে এসেছে। এই জোটে তরুণদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা নতুন রাজনৈতিক দল এনসিপিও যুক্ত হয়েছে।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ কোনো একটি নির্দিষ্ট দেশের প্রতি ঝুঁকে পড়বে না। দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং তরুণদের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে পারস্পরিক স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বের ভিত্তিতে সব দেশের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

শেখ হাসিনার সন্তানদের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জনগণ যদি কাউকে গ্রহণ করে, তবে রাজনীতি করার অধিকার সবারই রয়েছে।

উল্লেখ্য, কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় আসন্ন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশগ্রহণ করতে পারছে না। শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতির পর দলটির একাধিক শীর্ষ নেতা এবং তার পরিবারের সদস্যরা দেশ ত্যাগ করেছেন।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

রয়টার্সকে তারেক রহমান-জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে ঐক্য সরকার গঠনে অনিচ্ছুক বিএনপি

Update Time : ১১:২৭:৫৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

 

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে ঐক্য সরকার গঠনের সম্ভাবনা স্পষ্টভাবে নাকচ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি জানিয়েছেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সঙ্গে সরকার গঠন করলে বিরোধী দলের সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়বে। একই সঙ্গে বিএনপি এককভাবেই সরকার গঠনে সক্ষম হবে—এ বিষয়ে দৃঢ় আত্মবিশ্বাসও প্রকাশ করেছেন তিনি।

শুক্রবার আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তারেক রহমান বলেন, “আমার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সঙ্গে আমি কীভাবে সরকার গঠন করতে পারি? তাহলে বিরোধী দল কে হবে?” তিনি আরও উল্লেখ করেন, জামায়াতে ইসলামী যদি সংসদে বিরোধী দলে থাকে, তবে বিএনপি তাদের কাছ থেকে একটি দায়িত্বশীল ও গঠনমূলক বিরোধী দলের ভূমিকা প্রত্যাশা করবে।

দীর্ঘ প্রায় দুই দশক লন্ডনে অবস্থানের পর গত ডিসেম্বর মাসে দেশে ফেরেন তারেক রহমান। তরুণদের নেতৃত্বে সংগঠিত অভ্যুত্থানে দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পরই তার দেশে প্রত্যাবর্তন ঘটে। শেখ হাসিনা ছিলেন তার মা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মাঠে রয়েছে ইসলামপন্থী দল জামায়াতে ইসলামী। একসময় নিষিদ্ধ থাকা দলটি বর্তমানে আবারও সক্রিয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি–জামায়াত জোট সরকার পরিচালনা করলেও এবার সেই রাজনৈতিক সমঝোতার পুনরাবৃত্তির সম্ভাবনা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন তারেক রহমান।

বিএনপির ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো জানিয়েছে, দলটি ৩০০ আসনের সংসদে দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি আসনে বিজয়ের ব্যাপারে আশাবাদী। বিএনপি ২৯২টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে, বাকি আসনগুলোতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে জোটের শরিকরা। যদিও সম্ভাব্য আসনসংখ্যা নির্দিষ্ট করে বলেননি তারেক রহমান, তবে তার ভাষ্য, “সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা আমরা পাব—এ বিষয়ে আমরা আত্মবিশ্বাসী।”

বিভিন্ন জনমত জরিপে বিএনপির জয় সম্ভাবনার ইঙ্গিত মিললেও জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোটের শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতার কথাও উঠে এসেছে। এই জোটে তরুণদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা নতুন রাজনৈতিক দল এনসিপিও যুক্ত হয়েছে।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ কোনো একটি নির্দিষ্ট দেশের প্রতি ঝুঁকে পড়বে না। দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং তরুণদের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে পারস্পরিক স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বের ভিত্তিতে সব দেশের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

শেখ হাসিনার সন্তানদের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জনগণ যদি কাউকে গ্রহণ করে, তবে রাজনীতি করার অধিকার সবারই রয়েছে।

উল্লেখ্য, কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় আসন্ন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশগ্রহণ করতে পারছে না। শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতির পর দলটির একাধিক শীর্ষ নেতা এবং তার পরিবারের সদস্যরা দেশ ত্যাগ করেছেন।