দুর্নীতির পাতা–ডাল নয়, ঘাড় ধরে টান দেওয়া হবে: জামায়াত আমির
- Update Time : ১১:২৪:৫৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / ১২০ Time View

আগামীতে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে দুর্নীতির বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থান নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে লোক দেখানো ব্যবস্থা নয়, বরং মূল অপরাধীদের ঘাড় ধরে টেনে আইনের আওতায় আনা হবে।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টা ২০ মিনিটে বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জে আয়োজিত জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বড় দুর্নীতিবাজরা যদি আইনের বাইরে থেকে যায় আর ছোট অপরাধীরা শাস্তি পায়—তবে সেটি ন্যায়বিচার হতে পারে না। দুর্নীতির শিকড় ও মূল উৎস চিহ্নিত করেই ব্যবস্থা নিতে হবে। তিনি জানান, জামায়াত ইসলামি ক্ষমতায় গেলে নিজেরা যেমন চাঁদাবাজি করবে না, তেমনি কাউকেও চাঁদাবাজি করতে দেওয়া হবে না।
বিগত সরকারের সময়ের দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, গত সাড়ে ১৫ বছরে ব্যাংক, বিমা ও মেগা প্রকল্পের নামে জনগণের হাজার হাজার কোটি টাকা লুট করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী বিদেশে পাচার হয়েছে প্রায় ২৮ লাখ কোটি টাকা, যা চারটি জাতীয় বাজেটের সমান। তিনি বলেন, এটি ১৮ কোটি মানুষের সম্পদ এবং এই অর্থ ফিরিয়ে আনতে সর্বাত্মক লড়াই চালানো হবে।
দলীয় নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী দেশের সবচেয়ে বেশি নির্যাতিত রাজনৈতিক দল। তার দাবি অনুযায়ী, বিচারিক প্রক্রিয়ার নামে দলের ১১ জন শীর্ষ নেতাকে হত্যা করা হয়েছে। এছাড়া হাজারো নেতাকর্মী নিহত ও বহু মানুষ স্থায়ীভাবে পঙ্গু হয়েছেন।
৫ আগস্ট পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকার পতনের পর জামায়াত প্রতিশোধের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। তবে শহীদ পরিবার ও নির্যাতিতদের ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার রয়েছে এবং তাদের আইনি সহায়তা দেওয়া হবে। একই সঙ্গে মিথ্যা মামলা ও মামলা বাণিজ্যের বিরুদ্ধেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
নারী ও যুবকদের বিষয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে জামায়াত আমির বলেন, বেকার ভাতা দিয়ে নয়—কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমেই যুবসমাজের সম্মান নিশ্চিত করতে চায় দলটি। নারীদের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও সম্মান শতভাগ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণাও দেন তিনি।
বরিশাল অঞ্চলের নদীভাঙন সমস্যা তুলে ধরে তিনি বলেন, শুধু নদী শাসন নয়, নদী সংস্কারই দীর্ঘমেয়াদি সমাধান। পরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণ ও নদী সংস্কার করা গেলে আগামী এক দশকের মধ্যেই এই অঞ্চলের চিত্র বদলে যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
জনসভায় তিনি আরও বলেন, জামায়াতে ইসলামীর দলীয় বিজয়ের চেয়ে জনগণের বিজয়ই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গঠনের অঙ্গীকার করে তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ—আইনের চোখে সবাই সমান থাকবে।
সমাবেশে বরিশাল অঞ্চলের বিভিন্ন আসনে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। এতে কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
















