সময়: শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তারেক রহমানকে প্রকাশ্য আলোচনায় বসার আহ্বান জামায়াত আমিরের

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ১১:৩৫:১২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / ১৬৪ Time View

 

অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমেই রাষ্ট্রক্ষমতার বৈধতা প্রতিষ্ঠা সম্ভব—এমন মন্তব্য করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে প্রকাশ্য রাজনৈতিক আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তারেক রহমানের নাম উল্লেখ করে এই আহ্বান জানান তিনি। স্ট্যাটাসে চলমান রাজনৈতিক বাস্তবতা, জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যৎ শাসনব্যবস্থার নৈতিক ভিত্তি নিয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন জামায়াত আমির।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, একটি নির্বাচন তখনই রাজনৈতিক বৈধতা পায়, যখন তা অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হয়। নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা না থাকলে কোনো সরকার জনগণের পূর্ণ আস্থা অর্জন করতে পারে না। জনগণের বিশ্বাস ছাড়া নির্বাচনের ফলাফল টেকসই হয় না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

জুলাই বিপ্লবের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এই অভ্যুত্থানের পর রাজনীতিবিদদের দায়িত্ব আরও বেড়েছে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের সামনে রাজনীতিকে ইতিবাচক, নৈতিক ও দায়িত্বশীল হিসেবে তুলে ধরার প্রয়োজন এখন সবচেয়ে বেশি।

তিনি বলেন, তরুণদের বোঝাতে হবে—রাজনীতি মানেই হানাহানি বা প্রতিহিংসা নয়; বরং যুক্তিনির্ভর আলোচনা, মতবিনিময় এবং জনগণের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়াই হওয়া উচিত রাজনীতির মূল লক্ষ্য।

 

স্ট্যাটাসে গণমাধ্যম ও জনসমালোচনার মুখোমুখি হওয়ার বিষয়েও গুরুত্ব দেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, জবাবদিহিমূলক ও স্বচ্ছ রাজনীতি ছাড়া একটি সুস্থ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা গড়ে ওঠে না। সমালোচনাকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করার মানসিকতাই একটি পরিপক্ব রাজনৈতিক সংস্কৃতির ভিত্তি।

এর ধারাবাহিকতায় ডা. শফিকুর রহমান তারেক রহমানকে একটি উন্মুক্ত মঞ্চে সরাসরি আলোচনায় বসার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, যেহেতু তারেক রহমান ইতোমধ্যে তার রাজনৈতিক চিন্তা ও কর্মসূচি জাতির সামনে তুলে ধরেছেন, তাই একটি লাইভ আলোচনার মাধ্যমে উভয় পক্ষের ইশতেহার ও দৃষ্টিভঙ্গি জনগণের সামনে স্পষ্টভাবে উপস্থাপন করা যেতে পারে।

তিনি প্রস্তাব করেন, একটি প্রকাশ্য প্ল্যাটফর্মে এই ধরনের আলোচনা আয়োজন করা হোক, যেখানে দুই নেতা নিজ নিজ রাজনৈতিক কর্মসূচি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরবেন। এরপর সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব জনগণের ওপর ছেড়ে দেওয়া উচিত।

স্ট্যাটাসের শেষাংশে দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জনগণের ইচ্ছা ও রায়ের প্রতি শ্রদ্ধাই নতুন বাংলাদেশের ভিত্তি হতে পারে। তিনি সবাইকে গণরায়ের প্রতি সম্মান দেখানোর আহ্বান জানান।

 

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

তারেক রহমানকে প্রকাশ্য আলোচনায় বসার আহ্বান জামায়াত আমিরের

Update Time : ১১:৩৫:১২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

 

অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমেই রাষ্ট্রক্ষমতার বৈধতা প্রতিষ্ঠা সম্ভব—এমন মন্তব্য করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে প্রকাশ্য রাজনৈতিক আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তারেক রহমানের নাম উল্লেখ করে এই আহ্বান জানান তিনি। স্ট্যাটাসে চলমান রাজনৈতিক বাস্তবতা, জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যৎ শাসনব্যবস্থার নৈতিক ভিত্তি নিয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন জামায়াত আমির।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, একটি নির্বাচন তখনই রাজনৈতিক বৈধতা পায়, যখন তা অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হয়। নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা না থাকলে কোনো সরকার জনগণের পূর্ণ আস্থা অর্জন করতে পারে না। জনগণের বিশ্বাস ছাড়া নির্বাচনের ফলাফল টেকসই হয় না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

জুলাই বিপ্লবের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এই অভ্যুত্থানের পর রাজনীতিবিদদের দায়িত্ব আরও বেড়েছে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের সামনে রাজনীতিকে ইতিবাচক, নৈতিক ও দায়িত্বশীল হিসেবে তুলে ধরার প্রয়োজন এখন সবচেয়ে বেশি।

তিনি বলেন, তরুণদের বোঝাতে হবে—রাজনীতি মানেই হানাহানি বা প্রতিহিংসা নয়; বরং যুক্তিনির্ভর আলোচনা, মতবিনিময় এবং জনগণের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়াই হওয়া উচিত রাজনীতির মূল লক্ষ্য।

 

স্ট্যাটাসে গণমাধ্যম ও জনসমালোচনার মুখোমুখি হওয়ার বিষয়েও গুরুত্ব দেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, জবাবদিহিমূলক ও স্বচ্ছ রাজনীতি ছাড়া একটি সুস্থ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা গড়ে ওঠে না। সমালোচনাকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করার মানসিকতাই একটি পরিপক্ব রাজনৈতিক সংস্কৃতির ভিত্তি।

এর ধারাবাহিকতায় ডা. শফিকুর রহমান তারেক রহমানকে একটি উন্মুক্ত মঞ্চে সরাসরি আলোচনায় বসার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, যেহেতু তারেক রহমান ইতোমধ্যে তার রাজনৈতিক চিন্তা ও কর্মসূচি জাতির সামনে তুলে ধরেছেন, তাই একটি লাইভ আলোচনার মাধ্যমে উভয় পক্ষের ইশতেহার ও দৃষ্টিভঙ্গি জনগণের সামনে স্পষ্টভাবে উপস্থাপন করা যেতে পারে।

তিনি প্রস্তাব করেন, একটি প্রকাশ্য প্ল্যাটফর্মে এই ধরনের আলোচনা আয়োজন করা হোক, যেখানে দুই নেতা নিজ নিজ রাজনৈতিক কর্মসূচি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরবেন। এরপর সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব জনগণের ওপর ছেড়ে দেওয়া উচিত।

স্ট্যাটাসের শেষাংশে দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জনগণের ইচ্ছা ও রায়ের প্রতি শ্রদ্ধাই নতুন বাংলাদেশের ভিত্তি হতে পারে। তিনি সবাইকে গণরায়ের প্রতি সম্মান দেখানোর আহ্বান জানান।